পোষাক শিল্পে কৃত্তিম সংকট তৈরি করেছে কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা: মোহাম্মদ হাতেম

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: আতঙ্কের এক অন্যতম নাম করোনা ভাইরাস। যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাণিজ্যখাতে। একইসাথে এর প্রভাবে আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে চীন থেকে পণ্যবাহী জাহাজ আসা। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে দেশের পোষাক শিল্পখাতে। সমসাময়িক এই বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আসলে চীনের করোনাভাইরাসের প্রভাব দেশের বাণিজ্যে আরও দুই মাস পরে পড়ার কথা ছিল। কিন্তু, আমাদের দেশের এক শ্রেণির ব্যবসায়ী আছে যারা সুযোগ সন্ধানী। বিশেষ কোনো সঙ্কটকালীন সময়ে পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেয়। কিছুদিন আগে আমরা পেঁয়াজের ক্ষেত্রে এ ধরনের অবস্থা দেখেছি। ঠিক একই পরিস্থিতি আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি করোনা’র সময়। বিশেষ করে নিটওয়্যার খাতের যেসব উদ্যোক্তা লোকাল কাঁচামাল নিয়ে পণ্য উৎপাদন করে তারা ভেবেছিল আরও কয়েক মাস পরে গিয়ে হয়তো করোনার ক্ষতির মুখে পড়বে, কিন্তু ইতোমধ্যেই আমরা ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছি।

এব্যাপারে হাতেম আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জের টানবাজারের রঙ, সুতা এবং ডাইস কেমিক্যালসহ অন্য কাঁচামালের ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যেই কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তা ছাড়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট, সোডারও দাম বাড়িয়ে দিয়েছে আমদানিকারকরা। এসব কিন্তু অনেক আগের কম দামে কেনা এবং স্টকের পণ্য। এসব পণ্যের এখন দেশে যে স্টক রয়েছে তা দিয়ে আগামী ৪ থেকে ৫ মাস চলার কথা, এখনই কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে দাম বাড়ানো হয়েছে। অধিকাংশ পণ্যেরই ২০-৩০ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে, কোনোটার ৫০ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে।

করোনা’র ক্ষতির শিকার হয়ে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আমার চীনা একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ২৫ লাখ গজ লেডিস টি-শার্টের লেইস অর্ডার রয়েছে। কিন্তু, এখন সে পণ্য আনা যাচ্ছে না। গত ৫ ফেব্রুয়ারি এ পণ্য আমার পাওয়ার কথা, কিন্তু এখনও পাইনি। সুতরাং, ওই টি-শার্ট রফতানির জন্য যে দিন ধার্য ছিল, সেটি আমি ইতোমধ্যেই ফেল করেছি। অর্থাৎ, পণ্য রফতানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়টিও আমি ইতোমধ্যে আমার বায়ারকে বলেছি। তারা বলেছে বিকল্প কোনো বাজার থেকে কিনে টি-শার্ট ডেলিভারি দিতে। যদি বিকল্প বাজার থেকে না পাওয়া যায় তাহলে শিপমেন্টের কি হবে, কত দিন পেছাতে পারে এসব তথ্য তারা আমাদের কাছে জানতে চাচ্ছে। আমরা এখনও তাদের নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না। তবে চীনের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমি প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছি, তারা বলছে, করোনা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেই পণ্য পাঠাবে। তারা আমাদের বলছে, যে প্রদেশে করোনার প্রভাব বেশি সে প্রদেশ বাদে দেশের অন্য এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ওপেন করার চেষ্টা করছে সরকার। সে কারণে হয়তো অল্প দিনের মধ্যে পণ্য রফতানি শুরু হবে চীনে।

২০০৭সালে রানা প্লাজা’র দূর্ঘটনায় ধাক্কা খেয়েছিল পোষাক শিল্প এবার ‘করোনা ভাইরাসে’ কতটা প্রভাব পড়বে প্রসঙ্গে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, অবশ্যই আমি মনে করি রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর দেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে করোনাভাইরাস সবচেয়ে বড় ধাক্কা দিয়েছে। আর ধাক্কাটা এমন সময় এসেছে, যখন আগে থেকেই একটা খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে পোশাক শিল্প। সঙ্কটের কারণে প্রায় প্রতিদিনই বন্ধ হচ্ছে কোনো না কোনো গার্মেন্টস কারখানা। ঠিক এ সময় করোনার ধাক্কা পোশাক শিল্পের জন্য বড় ক্ষতি বয়ে আনবে।

0