প্রতিবাদী আইভী জোড়া খুনে আওয়াজ করেন না

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: প্রভাবশালী এক নারী জনপ্রতিনিধির তদবীরে ঝুলে আছে ফতুল্লার কাশিপুরের চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের মামলা। ৪ বছরেও আলোচিত এ মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ায় প্রকাশ্যে ঘুরছে মামলার হুকুমের আসামী বিএনপি নেতা দুই ভাই। এদের একজন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১নং প্যানেল মেয়র বিভা আফরোজের স্বামী বিলুপ্ত শহর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহমেদ এবং ভাসুর মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা এম এ মজিদ।
জানা গেছে, ৪ বছরের ব্যবধানে মামলাটি দুজন তদন্তকারী কর্মকর্তা বদল হয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পিবিআইয়ের তদন্তাধীন রয়েছে। ওই হত্যাকান্ডের পরে কয়েকজন আসামিকে ডিবি পুলিশ ও গেল বছর একজনকে পিবিআই গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও প্যানেল মেয়রের স্বামী বিএনপির ক্যাডার হাসান ও তার ভাই মজিদ গ্রেফতার হয়নি। তারা আদালত থেকে জামিন নিয়ে আছেন বহাল তবিয়তে। মামলার এজাহারনামীয় কয়েকজন আসামিসহ মোট ১৫ জনকে গ্রেফতারের পরে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এবং এর মধ্যে একজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও তৎকালে মামলার প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর বেপারীসহ কিলিং মিশনে থাকা প্রথম সাত আসামির কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে, মেয়র আইভী শুধু একটি হত্যকান্ড নিয়ে প্রতিবাদ করলেও নগরীর জোড়া খুনের বিষয়ে কখন কোন প্রতিবাদ করেন না বা বিচার চান না। নগরবাসীর অভিযোগ, জোড়া খুনে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা হাসানের স্ত্রী বিভা মেয়র আইভীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিতি।

আরও জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর রাতে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে কাশিপুরের হোসাইনি নগর এলাকায় একটি রিকশার গ্যারেজে সশস্ত্র হামলাকারীরা কুপিয়ে তুহিন হাওলাদার মিল্টন (৪০) ও পারভেজ আহমেদ (৩৫) নামে দুজনকে হত্যা করে। পরে নিহত পরিবারগুলোর পক্ষে মামলা না হওয়ায় ১৪ অক্টোবর দুপুরে ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মাজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই মামলা করেন। মামলায় প্যানেল মেয়র বিভার স্বামী বিএনপি ক্যাডার হাসান ও তার ভাই এম এ মজীদকে হত্যাকান্ডের ইন্ধনদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে ৪ বছরেও কাশিপুরের জোড়া খুনের মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ার পেছনে নারায়ণগঞ্জের একজন প্রভাবশালী নারী জনপ্রতিনিধির হাত রয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন। ঐ জনপ্রতিনিধি নিজেকে সন্ত্রাস ও খুনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী হিসেবে জাহির করলেও জোড়া খুনের মামলায় তার অতি ঘনিষ্ঠজন প্যানেল মেয়র-১ বিভা আফরোজের স্বামী বিএনপির ক্যাডার হাসান ও ভাসুর এম এ মজীদ হুকুমের আসামী হওয়ায় এখানে তিনি প্রতিবাদকারী না হয়ে হয়েছেন খুনীদের পক্ষের তদবীরকারী। ফলে মামলাটি ৪ বছর ধরে ঝুলে আছে।

0