প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পর খুলে দেয়া হলো ভুলতা ফ্লাইওভার ও দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতায় চারলেন ফ্লাইওভার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ শনিবার(১৬ মার্চ ) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ওবায়দুল কাদেরের জন্য দোয়া করবেন, যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে এসে পুরো উদ্যোমে কাজ করতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গত ১০ বছরে সারাদেশে সড়ক যোগাযোগে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। এই উন্নয়ন আমরা অব্যাহত রাখবো। ঢাকা শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি ঢাকার সঙ্গে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে। ফলে গাড়ি চলাচলের গতি বেড়ে যাচ্ছে। যারা রাস্তা পার হবেন তারা দেখে-শুনে নিয়ম অনুযায়ী রাস্তা পার হবেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, শিশুদের সঙ্গে নিয়ে অনেকে গাড়ির ফাঁক-ফোকর দিয়ে রাস্তা পার হয়ে চলে যায়। ফলে দুর্ঘটনা ঘটে। এ ধরনের দুর্ঘটনা কাম্য নয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান।

সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, চারশ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৮ মিটার প্রস্থ দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতুটি যানচলাচলের জন্য খুলে দেয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট অনেকটা কমে আসবে।

জাপানের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওবায়শি কর্পোরেশন, শিমিজু কর্পোরেশন, জেএফই ইঞ্জিনিয়ার কর্পোরেশন এবং আইএইচআই ইনফ্রা সিস্টেম কোম্পানি লিমিটেড ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতি সেতুর পাশে দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করে। আগামী জুনে এই সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবার কথা ছিল, তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার মাস আগেই সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

ভুলতা ফ্লাইওভারটি উদ্বোধন ফলে বন্দর নগরী চট্টগ্রামসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল থেকে ঢাকা হয়ে ময়মনসিংহ বিভাগসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা তথা জনগণের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন দ্রুত, সহজ ও নিরাপদ হবে। জানা গেছে, ২০১৫ সালের অক্টোবরে ২৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ লেনবিশিষ্ট ভুলতা ফ্লাইওভার উড়াল সেতুটি নির্মাণে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল সরকার। বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ফ্লাইওভারটি নির্মাণের কাজ পেয়েছিল চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ২৪ ব্যুরো গ্রুপ কোং ফ্লাইওভার চালুর ফলে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড গতিশীল এবং সিলেট ও চট্টগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে।

২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে মেগা প্রকল্পের অধীনে ভুলতা ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ হাতে নেয় সরকার।
জানা যায়, ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে ২৪০ কোটি ৫ লাখ ৬৬ হাজার ২০৮ টাকা ব্যয়ে ভুলতা ফ্লাইওভারটির নির্মাণকাজ শুরু করে সরকার। সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রকল্পটির মেয়াদ ছিল গত বছরের জুন পর্যন্ত। ফ্লাইওভারটির নির্মাণে প্রথমে হকারদের কারণে বেগ পেতে হয় নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের।

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পটির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে গত বছরের ৮ আগস্ট ফ্লাইওভারটি নির্মাণে আরও ৫৮ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার ৪৮৬ টাকা বাড়ায় সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
চারলেন বিশিষ্ট তিনতলা ফ্লাইওভারটি ১.২৩৮ কিলোমিটার লম্বা হবে। যার উভয় গার্ডার অভ্যন্তরে চারলেন বিশিষ্ট। ফ্লাইওভারটি নির্মাণ হচ্ছে রূপগঞ্জের ভুলতা ও গোলাকান্দাইলে।

ফ্লাইওভারটি নির্মাণ করছে চায়না রেলওয়ে ২৪ ব্যুরো গ্রুপ, স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ও এমএন বিল্ডার্স লিমিটেড।

0