প্রশ্ন ফাঁসকারীদের মত প্রশ্ন সংগ্রহ করাও অপরাধ: শেখ নাজমুল আলম

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ:
শনিবার (২ নভেম্বর) শুরু হতে যাচ্ছে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা। শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরীক্ষা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে থাকে,যা তাদের পূর্ববর্তী জ্ঞানের ফলাফল এবং পরবর্তী ভাগ্য নির্ধারণের একটা সোপান মনে করা হয়।

কেন্দ্রীয় ভাবে নিয়ন্ত্রিত যে কোনো পরীক্ষার প্রধান সমস্যা হল প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব। প্রতি বছর পরীক্ষা শুরু হলেই প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টা সামনে চলে আসে। কিছু অসাধু ব্যক্তি সামান্য কিছু অর্থের বিনিময়ে আমাদের মূল্যবোধকে বেঁচাকেনার হাটে তোলে।

কতক অভিভাবক, শিক্ষার্থী এতে সামিল হয়। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ, ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে হলেও এই প্রশ্নফাঁসের গুজব পরীক্ষার্থীকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। এমনিতেই পড়াশুনাসহ পরীক্ষার চিন্তা, সঙ্গে যুক্ত হয় গুজব, সব মিলিয়ে একজন শিক্ষার্থীর অবস্থা হয় অবর্ণনীয়। পড়াশোনা বাদ দিয়ে তারা প্রশ্ন সংগ্রহে মনযোগী হয়ে পড়ে। তাই আমরা সকলেই চাই, চিরতরে অবসান হোক এই প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া; সঙ্গে এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়ানো বা রটানো।

আমাদের সমাজে কিছু অসৎ ব্যক্তি থাকবে না, এটা ভাবাটা অস্বাভাবিক। অল্পকিছু মানুষের অসততা ও অপকর্মের কারণে পুরো ব্যবস্থাকে খারাপ ও কলুষিত বলা অনুচিত। বেশীর ভাগ মানুষের সততা, নিষ্ঠাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কিছু মানুষ পুরো জাতির ভবিষ্যত অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিবে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সর্বোপরি, যারা আজকের পরীক্ষার্থী তারাই আগামীর ভবিষ্যত, তাদের জীবন নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলা চিরতরে বন্ধ করতে হবে।

এই লক্ষ্যে বিগত কয়েক বছর ধরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সহায়তার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী একসঙ্গে কাজ করে আসছে। গত কয়েক বছরে ফেসবুকে মোবাইল নাম্বারসহ বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রশ্ন দেওয়ার ফাঁদ পেতেছিল।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও সাইবার ক্রাইম ইউনিট এই চক্রের ১১৮ জনকে গত ৪/৫ বছরে গ্রেফতার করেছিল এবং তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তারা স্বীকার করেছে যে শুধুমাত্র টাকা রোজগারের জন্য এই জঘন্য কাজ তারা করেছে। আমি সবাইকে বলতে চাই যে, এই ধরনের অপকর্মে যারা জড়িত হবে তাদের প্রত্যেককে আমরা আইনের আওতায় আনতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আমাদের কয়েকটি টিম দিনরাত এদের গ্রেফতার করারর জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

এখন প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁস বিহীনভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়/ বোর্ড ইতোমধ্যে বেশকিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে যা সফল ভাবে পরীক্ষা গ্রহণে প্রমানিত হয়েছে।

অসৎ পন্থা অবলম্বন করে সফল হওয়া থেকে সম্মানের সাথে হেরে যাওয়া বা একটু পিছিয়ে পড়া ভাল, সেক্ষেত্রে প্রস্তুতির অভাব রয়েছে বলে মনে হবে কিন্তু অসৎ পদ্ধতিতে জয়ের প্রচেষ্টা চরিত্রহীনতা প্রমানিত করবে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের কর্তব্য শিক্ষার্থীদের সামনে সৎ আদর্শ ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত নিয়ে আবির্ভূত হওয়া যাতে তারা সে সব নীতি অনুসরন করে সৎ চরিত্র গঠনে প্রয়াসী হয়।

সকলের মনে রাখা উচিত প্রশ্ন ফাঁসকারীদের মত প্রশ্ন সংগ্রহ করাও অপরাধ। যে কোনো উপায়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রকাশ বা বিতরণের জন্য ৩ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড- এবং অর্থ দন্ডের বিধান রয়েছে। তাই অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের উচিত প্রশ্ন ফাঁসের ফাঁদে না জড়ানো।

এ বছর প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ভুয়া প্রশ্ন প্রচার ও বিতরণ রোধের জন্য প্রশ্নপত্র ছাপা, বিতরন ব্যবস্থা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন কোচিং সেন্টারকে গোয়েন্দা নজরদারীরন আওতায় আনা হয়েছে। আমাদের সাথে জনগন সম্পৃক্ত হলে এই লক্ষ্য অর্জন ত্বরান্বিত হবে। সুন্দর আগামী বিনির্মাণে আসুন সবাই এক সাথে কাজ করি।

যে কোনো ধরণের গুজব, প্রশ্ন ফাঁস সংক্রান্ত তথ্য আমাদের জানাতে পারেন। এ ছাড়াও আপনারা এ সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য ফেসবুক ইনবক্সে দিতে পারেন।
পোস্টটি শেয়ার দিয়ে সবাইকে সচেতন করুন বন্ধুরা।-

 

লেখক: শেখ নাজমুল আলম বিপিএম(বার)পিপিএম(বার)
যুগ্ম কমিশনার ক্রাইম, ডিএমপি।
মোবাইল নাম্বারঃ ০১৭১৩৩৯৮৩৮৩

0