প্রসুতির অপারেশন: সেই ‘জনপ্রিয় ফার্মেসী’ বন্ধ

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: মুসলিম নগরের ‘জনপ্রিয় ফার্মেসী’তে ভাড়া করা নার্স দিয়ে করানো হয় প্রসুতির অপারেশন। প্রসবকালে আঘাত লাগে নবজাতকের ঘাড়ে ও মাথায়। এরপর অবস্থার অবন্নতি দেখে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকায়। জন্মের একদিন পরই মৃত্যু হয় শিশুটির।

ঘটনার ১৩ দিন পর বুধবার পরিদর্শন শেষে সেই ফার্মেসী বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. ইমতিয়াজ। এসময় তার সাথে ছিলেন সদরের ইউ এইচ এফ পিও ডা. জাহিদ ও জেলা ড্রাগ সুপার ইকবাল হোসেন।

জেলার  স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রিয় ফার্মেসি লাইসেন্স দেখাতে পারেনি। এছাড়া রোগীদের ফার্মেসিতেই ভর্তি করে স্যালাইন প্রদান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অবৈধ ভাবে নরমাল ডেলিভারি করার প্রমান ও স্বকাররোক্তি পাওয়া যায়। পাশাপাশি নিষিদ্ধ তুলসি সিরাপসহ ব্যাপক নিষিদ্ধ ঔষধ থাকায় জেলার সিভিল সার্জন সাময়িক ভাবে ফার্মেসি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

এ সময় এলাকাবাসী এই অভিযানকে স্বাগত জানায়।

এর আগে, গত ১০ অক্টোবর জনপ্রিয় ফার্মেসীর মালিক পল্লী চিকিৎসক রহিম ও তার স্ত্রী ভাড়া করা নার্স এনে প্রসুতির অপারেশন করান। পরে ১০ অক্টোবর রাতে অবস্থা বেগতি দেখে শিশুটির বাবা ইউনুসকে ফোন করে জানান মা ও শিশু দু’জনই আশঙ্কাজনক। সেই রাতেই শিশুটিকে ফতুল্লার মোস্তাফিজ সেন্টারে ভর্তি করা হয়। শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকরা সেখান থেকেও মাতুয়াইল হাসপাতালে রেফার্ড করে। পরে মাতুয়াইল হাসপাতাল থেকেও ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করে চিকিৎসক।

পরে মাতুয়াইল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিতে বাধাঁ দেয় সেই পল্লী চিকিৎসক আব্দুর রহিম। এসময় তার পরামর্শে ঢাকার একটি ক্লিনিকে ১১ অক্টোবর রাতে শিশুটি মৃত্যু বরণ করেন। এসময় হাসপাতালটি থেকে মৃত্যু সনদে প্রসবকালীন সময়ে শিশুটির ঘাড়ে আঘাতের বিষয়টি উল্লেখ করেন।

‘জনপ্রিয় ফার্মেসী’ বন্ধের সত্যতা স্বীকার করেছে জেলা সিভিল সার্জন।

0