প্রস্তাবিত গাজী মিনি স্টেডিয়ামের স্থাপনায় বিআইডব্লিউটএ’র উচ্ছেদ

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের পূর্বগ্রাম এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীর দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে বিআইডব্লিউটিএ নদীবন্দর কতৃপক্ষ। নদী দখল করে গড়ে উঠা দশটি জাহাজ নির্মাণ শিল্প কারখানা (ডকইয়ার্ড), একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের দেয়াল ও ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নামে প্রস্তাবিত স্টেডিয়ামের অংশবিশেষ উচ্ছেদ করেছে সংস্থাটির ভ্রাম্যমান আদালত।

একই সাথে সেখান থেকে জব্দকৃত বিপুল পরিমান সিমেন্টের ব্লক দুই লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করে দেয় ভ্রাম্যমান আদালত। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিআইডব্লিউটিএ নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম-পরিচালক শেখ মাসুদ কামাল জানান, বেশ কিছুদিন আগে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে প্রায় এক একর জমি দখল ও ভরাট করে সেখানে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নামে প্রস্তাবিত গাজী মিনি স্টেডিয়াম করার পায়তারা করছিল একটি প্রভাবশালী মহল। কিন্তু সেখানে খেলার উপযোগী কোন ব্যবস্থা না করে পাথরের ব্লক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল কতিপয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী। সারি সারি করে সিমেন্টের ব্লক রেখে নদীর জায়গা দখল করে রাখায় সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।

উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্ব দেয়া বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান জানান, উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে প্রস্তাবিত এই স্টেডিয়ামের জন্য কোনো অনুমোদন জেলা প্রশাসন বা উপজেলা প্রশাসন থেকে নেওয়া হয়নি। এছাড়া শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে দখল করে গড়ে উঠেছে আরো বেশ কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান ও জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। শীতলক্ষ্যা নদীর তীর দখল করে গড়ে ওঠা দশটি অনুমোদনহীন জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের অংশবিশেষ ও একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের দেয়াল গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন বিকেল চারটা পর্যন্ত এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসীর মতে, জব্দকৃত সিমেন্টের ব্লক কমপক্ষে ২০ হাজার পিছ হবে যার বাজার মূল্য ত্রিশ থেকে চল্লিশ লক্ষ টাকা হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। তবে এতো কম মূল্যে নিলামে বিক্রি করে দেয়ার বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করলে সরকার লাভবান হতো।

তবে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের যুগ্ন-পরিচালক শেখ মাসুদ কামাল বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি কোন কথা বলতে রাজি হন নি।

জানতে চাইলে সংস্থাটির নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান কম মূল্যে বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, নিলামে দেয়ার পর কোন আগ্রহী ক্রেতা না থাকায় কম মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। তিনি জানান, জাহাজ নির্মান প্রতিষ্ঠান সহ আরো কিছু প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু মালামাল জব্দ করা হবে। তখন ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করে সেটি পুষিয়ে নেয়া হবে।

তবে স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, নদীর জায়গায় প্রস্তাবিত গাজী মিনি স্টেডিয়ামের জায়গা থেকে জব্দকৃত ব্লকগুলো কেউ কিনতে রাজি না হওয়ার কারন হচ্ছে, এটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নামে স্টেডিয়াম। এই সম্পত্তি কিনে কেউ ঝামেলায় জড়াতে চান না বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সেগুলো কিনতে আগ্রহ দেখা যায় নি।

0