ফতুল্লায় আ.লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, গ্রেপ্তারকৃত ৪জন আদালতে

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় আওয়ামীলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এঘটনায় উভয় পক্ষের দু’জন করে ৪জনকে গ্রেপ্তার করেছে ফতুল্লা থানা পুলিশ।

৫জুন (শুক্রবার) রাতে ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তারকৃতদের ৬জুন (শনিবার) দুপুরে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর এলাকায় শুক্রবার রাতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মোবারক হোসেন ও ফতুল্লা ইউনিয়ন ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ওমর ফারুক সমর্থীত এ দুটি গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এসময় তারা এলাকার সাধারন লোকজনের বাড়ি ঘর ব্যাপক ভাংচুর করে। বাড়ির গেইট, জানালা, দোকানের শার্টার দা দিয়ে কুপিয়ে ছিদ্র করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। এসময় উভয় গ্রুপের তান্ডবে ভয়ে এলাকাবাসী বাসা বাড়ির বাতি নিভিয়ে চিৎকার করতে থাকে।

পুলিশ এসে ধাওয়া করে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোবারক হোসেন (৬৫) তার সহযোগী রাতুল (১৫) ও আওয়ামীলীগ নেতা ওমর ফারুক (৬৫) এবং তার মেয়ে মাহমুদ আক্তার মুন সীমাকে (১৯) গ্রেপ্তার করে পরিস্থিতি শান্ত করেছে।

এলাকাবাসী জানান, মোবারক হোসেন ও ওমর ফারুক এলাকায় পৃথক কিশোর গ্যাং তৈরী করে তাদের দিয়ে মাদক ব্যবসাসহ নানা ধরনের অপরাধ কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। গলির ভিতরে আওয়ামীলীগের বড় নেতাদের পোষ্টার সাটিয়ে দোকান ঘরে অফিস তৈরী করে সেখানে নানা ধরনের লোকজনদের ধরে এনে বিচার শালিসির নামে নির্যাতনসহ মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে কিশোররা। এক গ্রুপের ধান্ধায় আরেক গ্রুপের লোকজনদের বাধা পড়লেই সংঘর্ষে জড়ায় তারা।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই মোবারক হোসেন ও ওমর ফারুক এবং তাদের সমর্থীত লোকজনদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। প্রায় সময় তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এরমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের একাধীকবার সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু তারা প্রশাসনের সতর্ক না মেনে সংঘর্ষে জড়িয়ে এলাকাবাসীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। এবিষয়ে উভয় পক্ষের শেল্টারদাতাদের গ্রেফতার করে পাল্টা পাল্টি মামলা গ্রহন করেছি। মোবারক হোসেনের পক্ষে মামলা করেছে মাসুদ খন্দকার নামে তার এক আত্মীয়। এ মামলায় ওমর ফারুকসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০ জনকে আসামী করা হয়েছে। অপরদিকে ওমর ফারুক নিজেই বাদী হয়ে মোবারক হোসেনসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে ৩০জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

ফতুল্লা থানার এসআই খালেকুজ্জামান জানান, গতকাল রাতে ফতুল্লার ইদ্রাকপুর এলাকার ঘটনায় ৪জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে শনিবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এলএন/এইচএস/০৬০৬-০৯

0