ফতুল্লায় কিশোরীকে গণধর্ষণে গ্রেপ্তারকৃত ৬ যুবকের দোষ স্বীকার

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ফতুল্লায় ষোল বছর বয়সী কিশোরী শ্রমিককে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতারকৃত ছয় যুবক দোষ স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

সোমবার রাতে গ্রেফতারের পর আসামীদের মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পৃথক আদালতে আসামীরা গণধর্ষণের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করে। জবানবন্দি শেষে আদালতের নির্দেশে তাদের প্রত্যেককে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সোমবার রাতে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার দাপা ইদ্রাকপুর এলাকায় ওই কিশোরীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে একটি ইটভাটার পাশে গণধর্ষণের ঘটনায় কিশোরীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাতেই পুলিশ অভিবুক্ত ছয় ধর্ষককে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার দুপুরে ফতুল্লা থানার সম্মেলন কক্ষে জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানার মুক্তিরকান্দি গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে রাসেল, নেত্রকোনা জেলার কালিয়াজুরি থানার লিন্সা দক্ষিনপাড়া গ্রামের মৃত. রুকু মিয়ার ছেলে সুজন মিয়া, মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার বিক্রমপুর এলাকার মৃত. খোরশেদ আলমের ছেলে শাহাদাৎ হোসেন, ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল থানার বিরামপুর গ্রামের ফরিদের ছেলে সুমন, একই জেলার কেন্দুয়া থানার হরিপুর গ্রামের হাদিছুর রহমানের ছেলে রবিন এবং শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার বোয়ালিয়া ফকির বাড়ির আঃ লতিফের ছেলে আল আমিন। আসামীরা প্রত্যেকেই একে অপরের বন্ধু এবং দাপা ইদ্রাকপুরসহ আশপাশের এলাকায় ভাড়া বাড়িতে বসবাস করে।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার জানান, ধর্ষিতা কিশোরী নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোপচর ফকিরবাড়ি এলাকায় তার চাচাত ভাই আব্দুল কাদিরের কে এম ইন্টারন্যাশনাল এন্ড এ্যাডভ্যান্স মশার কয়েল কারখানায় শ্রমিকের কাজ করে। সোমবার কাজ শেষে সন্ধ্যায় চাচাতো ভাইয়ের সাথে গার্মেন্টসে কাজ নেয়ার জন্য কাদির ফতুল্লা যায়। পথে ফতুল্লার ইদ্রাকপুর এলাকায় কয়েকজন বখাটে তাদের ফথরোধ করে। পরে ভাই কাদিরকে আটক রেখে মারধর করে তার কাছে থাকা ৩ হাজার ৪শ’ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে জোর করে সেখার থেকে তাড়িয়ে দেয়। এসময় কিশোরীকে একটি ইটভাটার পাশে টং দোকানে নিয়ে আটকে রেখে মারধর করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ৬ জন মিলে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। এ অবস্থায় ওই কিশোরী অসুস্থ্য হয়ে পড়লে বখাটেরা ঘটনা কাউকে না জানানোর হুমকি দিয়ে ধর্ষিতাকে একটি অটোরিকশায় তুলে দেয়। পরে ধর্ষিতা কিশোরী ফতুল্লা থানায় বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ রাতেই ৬ ধর্ষককে গ্রেফতার করে।

0