ফতুল্লায় খাল কেটে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ঘূর্ণিঝড় ফনির প্রভাবে টানা বর্ষণে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে খাল গুলো ভরাট হওয়ায় এ জলাবদ্ধা সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

শুক্রবার রাত থেকে টানা বর্ষণে অনেক রাস্তা ও বাড়ি ঘরে হাটু পানি জমে চরম দুর্ভোগে পড়েন মানুষ। এতে উপজেলা প্রশাসনের কোন সহযোগিতা না পেয়ে স্থানীয় লোকজন এক হয়ে ভরাট হওয়া খালগুলোর মাটি কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার সংলগ্ন দক্ষিণ সস্তাপুর এলাকার খাল ভরাট হওয়ায় উপজেলার ইসদাইর, সস্তাপুর, লালপুর, কোতালেরবাগসহ প্রায় ৮/১০ গ্রামের পানি শুক্রবার রাত থেকে জমতে শুরু করে।

এতে শনিবার সকালে প্রতিটি এলাকার অধিকাংশ রাস্তা ও বাড়ি ঘরে হাটু পানি জমে যায়। এ পানিতে মিশে যায় ময়লা আবর্জনাসহ পয়ঃনিষ্কাশনের পানি। ফলে মারাত্মক দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে সকাল থেকেই এলাকাবাসী এদিক সেদিক ছুটাছুটি করতে থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম মিয়া বলেন, উপায় না পেয়ে সদর উপজেলায় ইউএনও’র অফিসে এলাকাবাসীর সঙ্গে ছুটে গিয়ে ছিলাম কিন্তু সেখানে গিয়ে কাউকে পাইনি।

পরে ইসদাইর ও সস্তাপুরের লোকজন মিলে খাল কাটা শুরু করি। সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ২০/২৫ জন লোক খাল কেটে আপাতত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেছি।

স্থানীয় সোহাগ মিয়া জানান, গাউসুল আজম সদর উপজেলার ইউএনও থাকাকালীন সময় জলাবদ্ধতার দুর্ভোগের বিষয়টি সরাসরি এলাকায় ঘুরে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে আনসার ও এলাকাবাসীদের নিয়ে তাৎক্ষনিক সমাধানের চেষ্টা করতেন এবং করেছেন।

তিনি বদলী হওয়ার পর যে কয়জন ইউএনও এসে দায়িত্ব পালন করেছেন তারা কেউ এলাকাবাসীর কোন খোঁজ-খবর নেয়নি।

ইসদাইর এলাকার কামাল মিয়া জানান, ঘূর্ণিঝড় ফনির প্রভাব নারায়ণগঞ্জে পড়বে না মনে করে উপজেলা প্রশাসনের কোন প্রস্তুতি নিবে না এটা ঠিক নয়।

এক রাতের বৃষ্টিতে আমাদের যে পরিমান দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে তা সরেজমিনে না দেখলে কাউকে বলে বুঝানো যাবে না।

আমরা সরকারকে ভ্যাট টেক্স দিবো আর সরকারি ছুটির দিনে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সরকারি কর্মকর্তারা অফিসে থাকবে না আমাদের খোঁজ খবর নিবেনা এটা হয়না। আমরা এবিষয়ে জেলা প্রশাসনকে স্বারকলিপি দিবো।

এবিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ইউএনও নাহিদা বারিকের সঙ্গে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।
উপজেলার ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপন জানান, খালগুলো পরিষ্কারে সরকারিভাবে আমাদের কোন বরাদ্ধ নেই। একটি মিটিংয়ে ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করেছি। চেষ্টা করছি জলাবদ্ধতা নিরসনের।

১৭৬
0