ফতুল্লায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৭, থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: একজন অপরজনকে বলছেন ‘মাদক ব্যবসায়ী’, প্রতিপক্ষ আবার উত্তর দিচ্ছেন ‘চাঁদাবাজ’ বলে। এ নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ৭ জন আহত। হয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও। এ অবস্থায় পুলিশ বলছেন, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফতুল্লার পাগলা মুসলিম পাড়া এলাকায় শুক্রবার (২১ জানুয়ারী) রাত ১০ টায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকালীন সময় দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। নির্বাচন শেষ হয়েছে ঠিকই, বেড়েছে দ্বন্দ্ব, রূপ নিয়েছে সংঘাতে।

স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটির সহ-সভাপতি আবুল বাশার বাদী হয়ে আবুল কাসেম (৪৭), আবুল কালাম (৪৫), আবুল (৩০), শাহীন (৪৩), কাউছার (২০), মনির সহ অজ্ঞাত নামা আরো ৫-৬ জনকে আসামি করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে উল্লেখ্য করা হয়, স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুলের ভাই কালাম তার সিমেন্টের দোকানে বসে প্রতিনিয়ত মাদক বিক্রি ও সেবন করে থাকে। বাদী পঞ্চায়েত কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে তাকে বাঁধা প্রদান করে। একই সাথে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবগত করে। এতে করে কালাম বাদীর প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। ২১জনুয়ারি সকাল ৮ টার দিকে, বাদী ড্রেন পরিস্কার করতে গেলে অভিযুক্ত কালাম অকথ্য ভাষায় গালামন্দ করে দেয়। বাদী মান-সম্মানের ভয়ে কিছু না বলেই বাসায় নীরব থাকে। রাত দশটার দিকে কালাম তার সহোযোগিদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ বাদীর বাড়িতে এসে গালাগাল মন্দ করে। এক পর্যায়ে কালাম সহ তার সহোযোগি সন্ত্রাসীরা বাদীর ছেলে লোকমান ও জাকিরের উপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।

অপরদিকে, আবুল কালাম বাদী হয়ে লোকমান (৪০), জাকির (৩৫), আবুল বাশার (৬৫), বেলায়েত (৪৫), রফিক ( ৩২) সহ অজ্ঞাত নামা আরো ৪-৫ জনকে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

সেই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনকালীন সময় থেকেই বিবাদীরা বাদীর সাথে শত্রুতা পোষণ করিয়া বিভিন্ন রকম ভয়-ভীতি ও হুমকি-ধমকি পোষণ করি আসিতেছিল ২১জানুয়ারীরাত সাতটার দিকে ড্রেন পরিষ্কারের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে এলাকার সাধারণ জনগণের কাছ থেকে ১০০০-৫০০ টাকা করে চাঁদা দাবী করে আসছিলো। বাদী ও বাদী বড় ভাই স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করার আশ্বাস দিয়ে টাকা উঠাতে নিষেধ করলে বিবাদীরা বাদীর উপর ক্ষিপ্ত হইয়া মারপিট করিতে উদ্ধ্যত হয়। এবং পরে আনুমানিক রাত দশটার সময় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আবুল কালামদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে সহ বেশ কয়েকজনকে রক্তাক্ত জখম করে।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি রকিবুজ্জামান বলেন, উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।