ফতুল্লা থানায় কঠোর হুশিয়ারি দিলেন নবাগত ওসি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণণগঞ্জ: ফতুল্লা মডেল থানা আয়োজনে ‘ওপেন হাউজ ডে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৫ মে) বিকাল সাড়ে ৫টায় ফতুল্লা থানায় সভা কক্ষে ওই ওপেন হাউজ ডে পালন করা হয়। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।

ফতুল্লা মডেল থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শেখ রিজাউল হক’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু, ফতুল্লা মডেল থানার ইন্সেপেক্টর (ওসি তদন্ত) তরিকুল ইসলাম, ফতুল্লা মডেল থানার ইন্সেপেক্টর (ওসি অপারেশন) কাজী মাসুম, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হারেস, সাংবাদিক রণজিৎ মোদক, কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি মোস্তফা কামাল, সদস্য আল আমিন প্রধান, কমিউনিটি পুলিশিং ফতুল্লা থানার সদস্য মেম্বার রাশেদুল ইসলাম, ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবদুর রহিম, সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মো. মাসুমসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত সাধারণ মানুষ।

এদিকে, ‘ওপেন হাউজ ডে’অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি পুলিশিং এর সদস্যরা তাদের নিজ নিজ এলাকার সমস্যার কথা তুলে ধরেণ। এ সময় কিশোর গ্যাং, মাদক, রাস্তা বন্ধ রেখে যানজট সৃষ্টি, বখাটেদের আতঙ্ক, ছিনতাইয়ের প্রকোপ,সহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

এ সময় স্থানীয়রা বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা এখন কৌশল অবলম্বন করে, মোবাইলে কভারের মধ্যে পুলিশের সামনে দিয়ে মাদক নিয়ে যায়। অথচ তাদের চোখে তা পড়ছে না। দেলপাড়ায় স্কুলের শিক্ষার্থীদের জোর করে মাদক সেবন করায় মাদক ব্যবসায়ীরা। এদিকে পুলিশের সুদৃষ্টির আহবান জানানো হয়। বিগত মাসে ছিনতাইয়ের অভিযোগ করা হলেও তাদের আইনের আওতায় আনা হয়নি। বর্তমানে ফতুল্লা এলাকায় মুদি দোকানের থেকে মাদক বেড়ে গেছে। ফতুল্লা কুতুবপুর এলাকায় পুলিশের কোন তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ করেন তারা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা যদি সকলে দেশকে ভালোবাসি তাহলে দেশে কোন অপরাধ সংসঠিত হবে না। এক্ষেত্রে জনগণের সহযোগীতা আমাদের প্রয়োজন, তবে আমাদের পুলিশের অবস্থান সব সময় জিরো টলারেন্স থাকবে। মানুষের সহযোগীতায় আমরা চানমারির মতো জায়গায় মাদক নিমূল করতে পেরেছি। আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এর সাথে স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে পুলিশও কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মানুষকে সুস্থ বিনোদন দিতে হবে, তাহলে মানুষ অপরাধ থেকে সরে আসবে। বর্তমানে কিশোর গ্যাং অন্যতম একটি সমস্যা। সেক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তরুনদের মধ্যে মোবাইলের সংস্কৃতি দূর করতে হবে। বিনা প্রয়োজনে তাদের কাছে স্মার্টফোন দেয়া যাবে না। আমাদের পুলিশের পক্ষ থেকে যা করা লাগে তা করা যাবে। চাঁদাবাজ, মাদক ব্যাবসায়ী, কিশোর গ্যাং এদের লিষ্ট করে লিষ্ট দেন। আমরা সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহন করবো। আসুন সবাই মিলে তিলোত্তমা নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলি।

কুতুবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু বলেন, ফতুল্লায় বিশাল এড়িয়া থাকায় সর্বস্তরে সেবা পৌঁছানো সম্ভব হয়না পুলিশ সদস্যদের। ফতুল্লা পুলিশের থানা বড় কিন্তু তাদের গাড়ি সংখ্যা খুবই কম। কিশোর গ্যাং নিমূল করতে হলে তাদের মা-বাবার কাছে অবগত হন। ধরে এনে তাদের কাছে সোর্পদ করেন। আমাদের মাদকের বিরুদ্ধে সচেতন হতে হবে। আমি সব সময় চেষ্টা করি আমার এলাকায় ভালোবাসে বসবাস যোগ্য করার জন্য। কিন্তু আমার এলাকায় যে পরিমান মানুষ থাকার কথা, তার চেয়ে বেশী জনসংখ্যা হচ্ছে আমাদের এলাকায়।

নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোহাম্মদ রিজাউল হক বলেন, প্রতিদিন ৮টি করে ডিউটি টিম হয়। দেখা যায় তার অধিকাংশ সিএনজি অথবা অটো দিয়ে করতে হয়। তবে কথা দিচ্ছি আমাদের এমপি মহোদয় একেএম শাশীম ওসমান এমটপি স্যারের সাথে কথা বলে, তার গাইড লাইন দিয়ে, অপরাধ দমনে কাজ করবো। সবাই তো কিশোর গ্যাং না। তবে কিশোর গ্যাং শনাক্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনবো। আমি খুব শীঘ্রই এসপি স্যারের সাথে কথা বলে মাদক, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই এগুলো নিয়ে কাজ করবো। ফতুল্লা থানা বসে থাকার মতো থানা না। এখানে অনেক কাজ করতে হবে। মাদক, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই এগুলো কোন ব্যাপার না।