বকেয়া বেতন পরিশোধসহ ১১ দফাসহ দাবিতে নগরীতে মানববন্ধন ও মিছিল

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত প্যাপিলন গার্মেন্টস শ্রমিকদের ঈদের আগে ২ মাসের বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস পরিশোধ, ১১ দফা দাবি মানাসহ শ্রম আইন লঙ্ঘনকারী কারখানার মালিককে গ্রেফতার করে সকল শ্রমিককে আইন অনুযায়ী প্রাপ্য পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মানববন্ধন ও মিছিল করেছে কারখানার শ্রমিকরা। নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে প্যাপিলন গার্মেন্টস শ্রমিক আনোয়ারের সভাপতিত্বে আলোচনা করেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সহ-সভাপতি হাসনাত কবির, জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সোহাগ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সংগঠক হাসান মাহমুদ, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট জেলার দপ্তর সম্পাদক কামাল পারভেজ মিঠু, বিসিক শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ সাঈদুর, কাঁচপুর শিল্পাঞ্চলের সহ-সভাপতি আনোয়ার খান সহ কারখানার শ্রমিক কামাল, শাহীন, রোশনা, পারভীন প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, প্যাপলিন গার্মেন্টস বিকেএমইএ’র সদস্য হওয়া সত্বেও শ্রমিকেরা ২ মাসের বকেয়া বেতনসহ ১১ দফা দাবি পাচ্ছে না। কারখানার মালিক বে-আইনীভাবে সিল স্বাক্ষর ছাড়া নোটিশ প্রদান করে আইনগতভাবে প্রাপ্য পাওনা পরিশোধ না করে বন্ধ ঘোষনা করেন। শ্রমিকেরা গত ১৬ই জানুয়ারী ১৯ইং তারিখে ১০ দফা দাবিনামা দেওয়ায় শ্রমিকদের উপর নেমে আসে মালিক কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জুলুম নির্যাতন। শ্রমিকরা ধারনা করছেন বিকেএমইএ, শিল্প পুলিশ এবং শ্রম অধিদপ্তরের সহযোগিতায় আজকে প্যাপিলন শ্রমিকরা অধিকার বঞ্চিত হচ্ছেন। বিকেএমইএ’র সভাপতি শ্রমিকদের আইনগত অধিকার আদায় করার জন্য ব্যবস্থা না করায় তিনি বিভন্নভাবে অনুদান দিয়ে থাকেন। অথচ এই কারখানার শ্রমিকেরা বঞ্চিত হচ্ছেন এই বিষয়ে কোন কর্ণপাত করছেন না। মালিক ২৯ মার্চে ৩০-৩১ মার্চ ২ দিনের জন্য কারখানা ছুটি ঘোষনা করেন। নোটিশে উল্লেখ্য উক্ত ছুটি অর্জিত ছুটির সাথে সমন্বয় করা হবে। বাস্তবে কোন ছুটির টাকা দেন না। এরপর শ্রমিকেরা ১লা এপ্রিল যথারীতি কাজের জন্য কারখানার গেইটে গেলে দেখে আরেকটি অবৈধ সীল স্বাক্ষর ছাড়া নোটিশ লাগানো। সেখানে উল্লেখ করা হয় ১৩(১) ধারা দিয়ে কারখানা বন্ধ ঘোষনা করে। কারন শ্রমিকেরা নাকি ১০ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত অবৈধ ধর্মঘট করেছে। অথচ আইনে আছে অবৈধ ধর্মঘট করলে শ্রমিকরা হাজিরা ও মজুরী পাবে না। কিন্তু হাজিরা কার্ডে দেখলাম যে শ্রমিকদের হাজিরা কার্ডে কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর নিয়মিত ২৮ মার্চ পর্যন্ত আছে এবং মার্চ মাসের বেতন পেয়েছে। তাহলে অবৈধ ধর্মঘট হয় কি করে। মালিকের দেয়া ঐ শ্রম আইনের ধারা যদি সঠিক মনে হয় তাহলে শ্রম বিধিমালার ২৫ উপধারায় আছে ৪৫ দিন পর কারখানা খুলে দিতে ও চালাতে হবে। অন্যথায় ২০ ধারা অনুযায়ী সকল শ্রমিকদের আইনগতভাবে প্রাপ্য পাওনা পরিশোধ করহে হবে।

নেতৃবৃন্দ বলেন অবিলম্বের ঈদের আগে শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা পরিশোধ করতে হবে। নতুবা শ্রমিকেরা পাওনাদীর জন্য ঈদের দিন নারায়ণগঞ্জ শহীদ মিনার ও প্রেসক্লাবের সামনে আমরন অনশন করবে, ভুখা মিছিল করবে, সানকি মিছিল করবে।

0