বঙ্গবন্ধুর ‘ব্যঙ্গচিত্র’ প্রচারকারীকে পুলিশে দিলেন বাবা

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: অবশেষে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ‘ব্যঙ্গচিত্র’ প্রচারকারীকে আওয়ামী লীগ নেতাদের হাতে তুলে দিয়েছে বাবা। পরে আওয়ামী লীগ নেতারা অভিযুক্ত ওই যুবককে পুলিশের হাতে তুলেদেন।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সোয়া ৪টার দিকে বন্দরের ২৩ নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে, ওই যুবকের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

আটক ওই যুবকের নাম গালিব হাসনাত। সে বন্দরের কদম রসূল এলাকার হাজী সিরাজউদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের ছেলে।

স্থানিয়রা জানান, বিকালে হাজী সিরাজউদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন নিজে এসে তার ছেলেকে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ূন কবির মৃধার হাতে তুলেদেন। পরে তিনি বন্দর থানা পুলিশকে ডেকে এনে তাদের হাতে তুলেদেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ূন কবির মৃধা ছাড়াও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও মামলার বাদি জাকির হোসেন, সহকারি প্রধান শিক্ষক মনির হোসেন, শিক্ষক প্রতিনিধি শুনিল কুমার সাহা, আওয়ামী লীগ নেতা মুসাদ্দেক আলী আনু, কুদ্দুস মৃধা, মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রাজু আহম্মেদ সুজন, মহানগর ছাত্রলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক আরাফাত কবির ফাহিম, স্বেচ্ছা সেবক লীগ নেতা জিয়া উদ্দীন বাবুসহ আরো অনেকে।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বন্দর থানা পুলিশের অফিসার ইনজার্চ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম লাইভ নারায়ণগঞ্জকে জানান, অভিযুক্ত গালিব হাসনাত আমাদের নিকট রয়েছে। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গালিব হাসনাত নামে ওই যুবক সম্প্রতি ফেসবুকে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর দুটি ছবি শেয়ার করেছেন। গালিবের শেয়ার করা ছবি দুটিকে ব্যাঙ্গাত্মক উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন বন্দরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও হাজী সিরাজউদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য জাকির হোসেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে বন্দর থানায় তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়।

এ ঘটনায় গত দুই দিন ধরেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৩ নং ওয়ার্ডেবাসীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে অভিযুক্তের বাবার কর্মরত প্রতিষ্ঠান হাজী সিরাজউদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। পরে স্কুলের সভাপতি হুমায়ূন কবির মৃধা এ ঘটনার আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে শান্ত করেন।

এদিকে, ওই ঘটনায় স্কুলটির প্রধান শিক্ষক পদ টি থেকে সাথে সাথে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে অভিযুক্তের পিতা হেলাল উদ্দিনকে। পরে নিরাপত্তার অভাবে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গিয়েছিল অভিযুক্ত গালিবের পুরো পরিবার।

0