বছর হতে চললো, এখনো খোলেনি শিক্ষা দুয়ার

0

মাহমুদ হাসান, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: করোনা মহামারিতে সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো মুখ থুবরে পরে আছে। স্থবির শিক্ষা ব্যবস্থা। যদিও প্রযুক্তির সহযোগিতায় কোন রকমে কিছু পাঠ দান চলছে। তবে, তাতে শতভাগ শিক্ষার্থী যেমন অংশ নিতে পারছে না, তেমনি শিক্ষকদেরও অবস্থার বেহাল দশা।


গত বছর ১৬ মার্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধের ঘোষণা দেয় সরকার । শিক্ষার সেই দুয়ার আজ প্রায় এক বছর হয়ে গেলেও এখনও খোলেনি। স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও চলছে কেবল অনলাইনে। তবে অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থার সুবিধা নিতে অসমর্থ দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী, ঝড়ে যাচ্ছেন অনেকেই; এমনটাই দাবি বিশিষ্টজনদের।

গত বছর ৮ মার্চ নারায়ণগঞ্জের প্রথম ২ জনের করোনা ধরা পড়ে, সারা দেশে তখন করোনা রোগী মাত্র ৩ জন। করোনাভাইরাসের সংক্রমন আতঙ্কে নারায়ণগঞ্জের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উপস্থিতি কমে আসছিল। বিশ্বব্যপী করোনা শনাক্ত তৎসময়ে লক্ষাধিক ছাড়িয়ে যায়। তাই করোনার ভয়াবহতা রুখতে  নারায়ণগঞ্জসহ দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় সরকার।

২০২০ সালের ১৬ মার্চ শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী জানান, ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এরপর দফায় দফায় বাড়তে থাকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি। সেদিন সাময়িক ছুটির ঘোষণা দিলেও এখনো চালু হয়নি দেশের মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থা। করোনায় শিক্ষার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যহত হওয়ায় নিতে হয়েছে বিকল্প ব্যবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে চলছে অনলাইন কার্যক্রম। উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত টেলিভিশনে ব্যবস্থা করা হয়েছে বিশেষ ক্লাসের।

নারায়ণগঞ্জের সুপরিচিত সেই কলেজ রোডে নেই আর আগের মতো শিক্ষার্থীদের বই হাতে আনাগোনা। স্কুল কলেজগুলোর মাঠেও নেই কিশোর-কিশোরীদের খেলাধূলা। শত শত বছর ধরে গড়ে ওঠা শিক্ষাক্ষেত্রে এক অস্ফূট আর্তনাদ।

এরই মধ্যে চালু করা হয়েছে দেশের সকল গণপরিবহন। সাধারণ ছুটি শেষে যার যার কর্মক্ষেত্রে ফিরে গেছেন, পোশাকশিল্পে শ্রমিকরা, খুলেছে সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলো। এমনকি বন্ধ নেই বিভিন্ন চিত্তবিনোদনের স্থানগুলোও। পার্কগুলোতে দেখা যায় মাস্ক ছাড়াই সময় কাটাচ্ছেন সবাই, আড্ডা চলছে চায়ের দোকানে। সব চালু হলেও এখনো ক্লাসরুমে শিক্ষকদের পড়াতে দেখা যাচ্ছে না।

অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা চালু হলেও এর সুফল নিতে পারছেন না অনেক শিক্ষার্থী। বাংলাদেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাব্যবস্থা এখনো টেলি বা ভার্চুয়াল শিক্ষার উপযোগী হয়নি বলে দাবি অনেকের। অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করার জন্য যে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন, তাও করোনার মাঝে দেয়া সম্ভব হয়নি। দেশের শিক্ষার্থীরাও এখনো অভ্যস্ত নয় বিকল্প এই শিক্ষা পদ্ধতিতে। ফলস্বরূপ ঝড়ে পড়ছেন অনেক শিক্ষার্থী, এমন আশঙ্কা করছেন স্বয়ং দেশের শিক্ষাবিদরাও।

বাতিল করা হয়েছে ২০২০ সালের পিইসি, জেএসসি ও এইচএসসি। শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণীতে উত্তীর্ণ করা হয়েছে পরীক্ষা ছাড়াই। নতুন বছরের শুরুতেও দেখা যায়নি শিক্ষার্থীদের নতুন বই হাতে উৎসবের আমেজ। এখনো আটকে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাগুলো।

তবে দেশে করোনা শনাক্তের হার কমায় ও সুস্থতার হার বাড়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যেই করোনার টিকাও পৌছে গেছে তৃণমূল পর্যায়ে। স্বাস্থঝুকি বিবেচনা করে, অবশেষে ৩০ মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। 

0