বরখা‌স্তের পর যা জানা‌লেন এহসান চেয়ারম্যা‌ন

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: বন্দর ইউনিয়ন বাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহমেদ।

২৪ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয় এহসান চেয়ারম্যানকে।

জন্ম নিবন্ধন ও ট্রেড লাইসেন্স এর টাকা আত্মসাতের ঘটনায় বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহমেদকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি চূড়ান্তভাবে কেন বরখাস্ত করা হবে না? সে বিষয়ে জানতে চেয়ে চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

২৬ফেব্রুয়ারি (বুধবার) ভোর ৫টায় নিজের ফেসবুকে সাময়িক বরখাস্তের প্রতিক্রিয়ায় বন্দর ইউনিয়ন বাসীর উদ্দেশ্যে স্ট্যাটাস তিনি।

স্ট্যাটাসে তিনি বলেন,
বন্দর ইউনিয়ন বাসিকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানাচ্ছি। হাজারো প্রমান হাতে থাকার পরেও আজকে পর্যন্ত সত্য প্রতিষ্ঠায় মনে হয় ব্যর্থ হয়ে গেলাম।
আমি হাল ছেড়ে দেওয়ার মত মানুষ না, আমি অন্যায়ের সাথে আপোষ করার মানুষ না, আমি দুর্নীতির সাথে আপোষ করার মত মানুষ না, আমি মিথ্যা কথা বলে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার মানুষ না, আমি কারো হক নষ্ট করে অর্থ উপার্জন করার মত মানুষ না, আমি জীবনে কাউকে এক টাকা ঠকিয়েছি এমন কোন প্রমাণ কেউ দিতে পারবেন না ইনশাআল্লাহ।
আস্থা আর বিশ্বাস ছাড়া পৃথিবীতে কোন প্রতিষ্ঠানই চলতে পারে না। পিতার উপর পুত্রের আর পুত্রের উপর পিতার এবং স্বামীর উপর স্ত্রীর আর স্ত্রীর উপর তার স্বামীর যদি আস্থা-বিশ্বাস না থাকতো তাহলে পৃথিবীতে থেকে সংসার নামক শব্দটি এতদিনে মুছে যেত। একজন কাজের ছেলের হাতে আমার বাচ্চাকে রেখে যাওয়ার পর সে যদি আমার সেই বাচ্চাকে গলা টিপে হত্যা করে তার দায় আমি বাবা নিতে পারিনা।
৩৩ লক্ষ টাকা আমার পারিবারিক ঐতিহ্য আর সম্মানের প্রেক্ষাপটে খুবই সামান্য, আমার কথা না হয় বাদই দিলাম। বাবার কাছ থেকে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া সামান্য জমি বিক্রি করে দিলেই ব্যবস্থা হয়ে যেত। এতে করে প্রকৃত অপরাধী, দুর্নীতিবাজ, প্রতারক, বিশ্বাসঘাতক সচিব পার পেয়ে যেত।
পিবিআই এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে এই বিষয়ের উপর তদন্ত চলছে। আমি আমার ইউনিয়নবাসিকে অল্প কিছুদিন ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানাচ্ছি এবং দোয়া প্রার্থনা করছি যাতে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাকে সকল প্রকার অন্যায়, দুর্নীতি, বিশ্বাসঘাতকতা আর প্রতারণার বিরুদ্ধে সত্য ও অন্যায় প্রতিষ্ঠায় সহায় হোন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অপর এক স্মারকে আত্মসাতকৃত টাকা আদায়ের জন্য চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহমেদ ও সাবেক সচিব মোহাম্মদ ইউসুফের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ এই দুই অর্থ বছরের জন্ম নিবন্ধন ও ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত ছয় মাসের ট্রেড লাইসেন্স খাতে আদায়কৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ছিল বন্দর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহম্মেদ ও তার সচিব মোহাম্মদ ইউসুফের বিরুদ্ধে। পরে এঘটনা তদন্তে নামে স্থানীয় সরকার বিভাগ। অভিযোগের প্রমান পেয়ে ইউপি সচিবকে বরখাস্ত করা হলেও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এমনকি আত্মসাৎকৃত টাকাও আদায় করা হয়নি।

এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

0