বর্ণিল আয়োজনে বর্ষবরণ

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ১৪২৬ বাংলা নতুন বছরকে নানা আয়োজনে বরণ করে নিল সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জবাসী। গান, ঢাক-ঢোল, মঙ্গল শোভাযাত্রা, পান্তাভাত সহ নানা রকমের ভূরিভোজের আয়োজন ও বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বছরের প্রথম দিনটিকে উৎসবের রঙে রঙ্গিন করে নিল সর্বস্তরের মানুষ।

১৪ এপ্রিল (রোববার) প্রথম সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শুরু হয় বর্ষ বরণ। নগরীর চাষাঢ়া কেন্দ্রী শহীদ মিনারে দলগত সংগীত পরিবশেনের মাধ্যমে নগরে মূলত উৎসব শুরু হয় সকাল সাড়ে ৬টায়। আয়োজনে ছিল নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট। সকাল সাড়ে ৮টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে, সকাল সাড়ে ৯টায় নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট ও নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইন্সটিটিউটের উদ্যোগে, সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়।

এছাড়াও সকাল থেকে সারাদিনই জেলা প্রশাসকের বাংলোতে, পুলিশ সুপারের বাংলোতে এবং স্কুল কলেজ সহ সরকারী বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বর্ষবরণ উপলক্ষে বাহারী খাবারের পাশাপাশি আয়োজন করা হয়েছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিভিন্ন নামী-দামী রেস্টুরেন্ট ও ফাস্ট ফুডসহ পার্ক গুলোতে উৎসবের প্রাণের দোলা লেগেছিল।

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট:
সকাল সাড়ে ৬টায় চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দলগত ভাবে সংগীত পরিবেশনের আয়োজন করা হয়। নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট এর শিল্পিদের কন্ঠে ‘এসো হে বৈশাখ এসো..’ সুর উঠে ভোরে রক্তিম সূর্যের মতোই আন্দোলিত করে। তাদের গাওয়া গানেই নগরে বছরের প্রথম দিনটি বরণ করে নেয়া হয়।

জেলা প্রশাসকের আয়োজন:
সকাল সাড়ে ৮টায় শহরের চাষাঢ়া বিজয় স্তম্ভের সামনে থেকে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে খানপুর এলাকায় জেলা প্রশাসকে বাস ভবনে গিয়ে শেষ হয়। এতে গ্রামীণ নববধূ সেজে পালকিতে চড়ে, বাউল শিল্পী, কৃষক, জেলে সেজে মাছ নিয়ে, বেদে সেজে সাপের ঝুড়ি মাথায় নিয়ে শিশুরা অংশগ্রহণ করে। এছাড়াও রযালীতে ছিল র্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস সহ কঠোর নিরাপত্তা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাব্বী মিঞা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন হায়দার, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আসাদুজ্জামান, নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শিরিন বেগম, নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সেক্রেটারী রঞ্জিত ম-ল, গ্রীণ ফর পিস এর নির্বাহী পরিচালক আরিফ মিহির প্রমুখ।

পরে সকাল সাড়ে ১০ টায় জেলা প্রশাসকের বাসভবনে বর্ষ বরণ উপলক্ষ্যে নানা আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসকের বাংলোতে এই প্রথম বারের মত বর্ষবরণ উৎসব আয়োজন করা হয়। যেখানে ৩ হাজার অতিথির জন্য নানা আয়োজন করা হয়েছিল। পান্তা ভাতসহ নানা রকমের বাঙালী খাবার পরিবেশন করা হয়। এছাড়াও সাপ খেলা, গান ও নৃত্যসহ সাংস্কৃতিক আনুষ্ঠান ছিল উপভোগ্য।

সাংস্কৃতিক জোট ও চারুকলা ইন্সটিটিউট:
সকাল সাড়ে ৯টায় নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট ও নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইন্সটিটিউটের উদ্যোগে চাষাঢ়া শহীদ মিনারের সামনে থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। পরে এটি শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে দেওভোগের চারুকলা ইন্সটিটিউটের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এসময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন এ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে।
এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় প্রধান আকর্ষণ ছিল হাতি। এছাড়াও বাঘ ও হাতির মুখোশ, টিয়া, মুকুট, রাজা-রাণীর মুখোশ সহ ছিল রঙ বে-রঙের টাটো। ছোট বড় সকল বয়সের মানুষ নতুন লাল, হলুদ সহ বিভিন্ন রঙ বে-রঙের পোশাক পড়ে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। বাদ্য বাজনায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ হয়ে উঠে মিলনমেলা।

বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে জোটভুক্ত সংগঠনগুলোর পরিবেশনায় চাষাঢ়া শহীদ মিনারে ও আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনে একযোগে আবৃত্তি, সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক পরিবেশন করা হয়।

সরকারি তোলারাম কলেজ:
সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে পুনরায় কলেজে গিয়ে শেষ হয়। এতে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। পরে কলেজ প্রাঙ্গনে বর্ষবরণ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এছাড়াও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ প্রশাসন, নারায়ণগঞ্জ প্রিপারেটরী স্কুল, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব সহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে বর্ষবরণ করেন।

0