বাড়ি বরিশাল বলে মেয়র আইভী কথা শুনেনি!

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: আমি মেয়রের কাছে গিয়ে ছিলাম, সে আমাকে বলছে-তোমার দেশের বাড়ি কোথায়? আমি বলেছি বরিশাল। সে বলছে, তাহলে বরিশাল গিয়ে টাকা উদ্ধার করো। সেখানে গিয়ে রমজার আর তাঁর স্ত্রীর বিচার করো। আমার এখানে আইসো কেন?

প্রতারণার শিকার হয়ে টাকার শোকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের কাছে এভাবেই অসহায়ত্ব তুলে ধরলেন বাবুরাইল বৌ বাজার এলাকার এক নারী।

ওই নারীর মতো আরও প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হতদরিদ্র নারী-পুরুষ এসেছেন শেষ ভরসার জায়গা থেকে এমপি শামীম ওসমানের কাছে। সম্প্রতি ‘সম্মিলিত সঞ্চয় তহবিল’ নামক প্রতিষ্ঠানের মালিক রমজান ও তাঁর স্ত্রীর প্রায় ১৫কোটি টাকা প্রতারণার করে হাতিয়ে নিয়েছে অসহায় নিম্ন আয়ের নারী-পুরুষদের থেকে। বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) নগরীর রাইফেল ক্লাবে একটি কর্মীসভায় হাজার হাজার নারী-পুরুষ গিয়ে হাজির হয়। তারা তাদের ন্যায্য পাওয়ানা আদায়ে সহযোগিত চান শামীম ওসমানের কাছে।

তাদের পক্ষ থেকে এক নারী শামীম ওসমানের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমি এখানকার ভোটার। যদি আমি ভোট দিতে পারি, তাহলে বিচার চাওয়ার অধিকার আমার ছিল। তাছাড়া আমি যে অঞ্চলেরই হই না কেন, আমি তো এই দেশের নাগরিক। ভোট দেয়ার অধিকার যদি আমার থাকে, তাহলে বিচার চাওয়ার অধিকারও আমার থাকে। অথচ মেয়র কাছে আমরা গিয়েছিলাম সহযোগতিা চাইতে। তিনি আমাদের বললেন, ‘যখন তোমরা লাভ খাইছো, তখন কি আমারে জিজ্ঞাসা করে খেয়েছো? যখন টাকা দিয়েছো তখন কি আমার কাছে জিজ্ঞাসা করে দিয়েছো? এখন কেন আমার কাছে আইছো।’

ওই নারী বলেন, ‘প্রায় ৯ মাস হয়েছে রমজান ও তার স্ত্রী আমাদের সাথে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এখনও নারায়ণগঞ্জেই রয়েছে, কিন্তু বিচার পাইনি। আমাদের এখানে ভুক্তভোগী যারা আছে, সবাই দরিদ্র পরিবার। কেউ রুটি বিক্রি করে, তরকারি বিক্রি করে, কেউ মাছ বিক্রি করে সবাই এখনে দিনমজুর। অবশেষে আপনার দুয়ারে আসছি। আপনিও যদি তারিয়ে দেন, তাহলে আমাদের যাওয়ার জায়গা নাই।’

পরে শামীম ওসমান হতদরিদ্র্য ওই মানুষ গুলোর উদ্দেশ্যে বলেন, আমি আপনাদের ব্যাপারটা শুনেছি। আপনারা নিশ্চিত থাকেন। আপনাদের আইনী লড়াই লড়বে আমাদের খোকন সাহা, বাদল ভাই, ওয়াজেদ আলী খোকন। আপনাদের টাকা আদায়ের জন্য আমি নিজে পুলিশ সুপারের সাথে আলাপ করবো। এখানে সদর ওসি আছেন, এই টাকা কি ভাবে আদায় করতে হয়, আমার মনে হয় প্রশাসন এটা জানে। আমি অনুরোধ করবো আপনারা যতটুকু পারবেন ততটুকু করবেন। আর সবাই যদি ফেল হয়ে যায়, তাহলে আমি নিজে ধরে নিয়ে আসবো।

এ সময় সদর থানার পুলিশ পরির্দশক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত রমজান যে সাড়ে ৩ হাজার মানুষের ১৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে, আমি কথা দিলাম, আমি যদি এখানে চাকরি করি- তাহলে সাড়ে ৩ হাজার মামলা আমি নিবো। প্রত্যেকে মামলা দিবেন এবং প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা নিবো। আমি প্রত্যেকের টাকা আদায়ের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

0