বিএনপি : যাদের নিয়ে স্বপ্ন বোনা তারাই অবহেলিত

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: কেউ জেলার কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে, কেউ আবার মহানগরের শীর্ষ পদে আসীন। তাদের আলাদা আলাদা বলয় রয়েছে। অনুগতরা তাদের পেছনে স্লোগান দেয় আর স্বপ্ন বুনে আগামীর। তবে যাদের নিয়ে স্বপ্ন বোনা সেই নেতাদেরই শেষতক কেন্দ্র মূল্যায়ন করে না বলে আক্ষেপ নারায়ণগঞ্জের বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জেলার ৫টি আসনে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন অনেকে। এর মধ্যে কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীও ছিলো। শেষতক জেলার তিনটি আসনে দলের প্রার্থী মনোনয়ন পেলেও ২টি আসনে জোটের শরীক দলের নেতার হাতে ধানের শীষ প্রতীক দেয় বিএনপি।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি জোটের একটি অখ্যাত দলের নেতা মনির হোসেন কাসেমী ধানের শীষ নিয়ে প্রার্থী হলেও ভোটের আগে থেকেই তিনি উধাও হয়ে যান। প্রথমদিকে তিনি হম্ভি তম্ভি করলেও, তার পক্ষে আরও কিছু ইসলামী সংগঠনের নেতাদের দেখা গেলেও পরে তারা চুপসে যান। তবে নির্বাচনের কয়েক দিন আগে তার প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামীলীগের নেতা একেএম শামীম ওসমানের একজন অনুগত নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে প্রচারকালে তার উপর হামলা হয়েছে।

ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি যে দু’জন নেতার নাম বলেন, তারা ভিন্ন ভিন্ন দল করেন। একজন হলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, অপরজন মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু। মনির হোসেন কাশেমীর এই সংবাদ সম্মেলন শেষ পর্যন্ত হাস্যকর হিসেবে পরিচিতি পায়। তিনি যেসব অভিযোগ করেছেন তার পক্ষে তেমন কিছু উপস্থাপন করতে না পেওে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন এই অপরিচিত রাজনীতিক।

নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী ছিলেন। যারা অনেক আগে থেকেই দৌড়ঝাপ করেছেন। এরমধ্যে জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির তৎকালিন সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম অন্যতম। সূত্র মতে, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা শাহ আলমকে পছন্দ করতেন কারণ এই শিল্পপতি দলের একজন বড় ডোনার। তিনি ছাড়াও সাবেক সাংসদ মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তারেক রহমানের সাথে গিয়াসের বেশ সখ্য ছিলো। এ দুইজন হেভিওয়েট প্রার্থী ছাড়াও আরও কয়েকজন দলের টিকেট চেয়েছিলেন। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে এক অজানা কারণে কাসেমীর হাতে ধানের শীষ তুলে দেয় বিএনপি।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মনোনয়ন নিয়েই দ্বন্দ্ব শুরু হয় মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আবুল কালাম ও সিনিয়র সহ সভাপতি এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের মধ্যে। এক সময়ে দুইজন একসঙ্গে থেকে বিদ্রোহী কমিটির নেতৃত্ব দিলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলের টিকেট পাওয়া নিয়ে এ দু’জন এখন দু’মেরুর বাসিন্দা। এ আসনে মহানগর যুবদলের সভাপতি ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার সহ আরও কয়েকজন দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত দলের কেউই ধানের শীষ পাননি, পেয়েছেন জোটবদ্ধ ঐক্যপরিষদেও এক দলের উপদেষ্টা এসএম আকরাম।
দলের অনেক নেতাকর্মী এসব বিষয় নিয়ে ক্ষুব্দ। জেলা ছাত্রদলের এক নেতা বলেন, বছরের পর বছর যারা আন্দোলন সংগ্রাম, দলীয় কর্মসূচী পালন করে আসছে তাদের মূল্যায়ন না করা দুঃখজনক। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে মনে রাখতে হবে, এইসব নেতার পেছনে অনেকে কাজ করেন। তারা স্বপ্ন দেখেন তাদের নেতাকে নিয়েই। সেই স্বপ্ন যদি ভেঙ্গে দেয়া হয় তবে অনুগত ছাত্র-যুব নেতাদের মন ভেঙ্গে যায়।

মহানগর বিএনপির একজন নেতা বলেন, শুধুমাত্র জোট আর শরীকদের দিকে তাকালেই হবে না দলের কথাও চিন্তা করতে হবে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, আজকে কোথায় এসএম আকরাম। তিনিতো এক সময় আওয়ামীলীগ করতেন, এর আগে ছিলেন আমলা। সাধারণ মানুষের সাথে তার কতটুকু সম্পর্ক রয়েছে আর তিনি এখন বিএনপির জন্য কি করবেন ।

0