বিকেএমইএ ও বিজিএমইএ প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে: সেলিম ওসমান

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী ১৯৯৬ সালে বিকেএমইএ প্রতিষ্ঠিত হয়। তার পরেই ধীরে ধীরে আজকের এ জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছে বিকেএমইএ। এক সময় পাট বেশী ছিলো নারায়ণগঞ্জে। বর্তমানে নিট শিল্প বেশী আছে। নারায়ণগঞ্জে পাট বেশী থাকায় আমরা প্রাচ্যের ডান্ডি হিসেবে পরিচিত ছিলাম। আমাদের পাট ধীরে ধীরে বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে একটাই জায়গা আছে নিট পল্লী। যা আমরা বিসিককে উন্নত করতে পেরেছিলাম।

এক সময় পাট নষ্ট হয়ে যাওয়াতে আমাদের পাটের শ্রমিক একেবারে বেকার হয়ে পরেছিলো। এই শ্রমিক গুলোকে যদি আবার পূর্ণবাসন করা যায়, তাই আমরা রপ্তানীর দিকে মন দিলাম। খুব কম সময়ে আমরা অনেক গুলো মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পেরেছি। এটা হলো আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। এখন এটা বিভিন্ন যায়গায় হয়েছে। এক সময় আমাদের এখানে সুতা উৎপাদন হতো না, রপ্তানিকৃত সুতা আমরা এটাকেও ডেভেলপ করি। অনেক লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। নিট আমদের অনেক প্রয়োজন। আমাদের দেশে নিটের কোন পণ্য তৈরী হয় না। এটা তুলাটাও আমাদের দেশে তৈরী হয় না। টাইস, কেমিক্যাল কোনটাই আমাদের দেশে তৈরী হয় না। সবই আমরা আমদানি করি, তারপর আমাদের রপ্তানী করতে হয়। এই ক্ষেত্রে আমাদের ভেলুয়েশন অনেক বেশী। সুতরাং আমাদের নিট’টা যদি নারায়ণগঞ্জের প্রত্যেকটা মানুষ সহযোগীতা করে, নারায়ণগঞ্জ কর্মসংস্থান অনেক বেশী পাবে।

বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) বিকেএমইএ পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে (২০২১-২৩) নির্ধারিত দিনে সেলিম ওসমানের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত নীট ফোরামের প্রার্থীরা বিকেএমইএ এর প্রধান কার্যালয়ে নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়র পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেছেন।

তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের একটি জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যেটাকে আমরা শান্তির চর বলি, এটা নিট পল্লী হিসেবে হবে। কিন্তু যে কোন ভাবেই হতে পারে সরকারের গাফলতী বা আমাদের গাফলতী হতে পারে। আমরা ওটাকে ডেভেলপ করতে পারি নাই। আমরা যদি নিট পল্লী ডেভেলপ করতে পারি তাহলে আমাদের ২০লাখ মানুষ কর্মসংস্থান পাবে। এছাড়াও বিকেএমইএ’র আছে একটি চিত্তরঞ্জন মিল আরেকটি লক্ষী নারায়ণ মিল। এগুলো ঠিক করতে পারলে প্রায় ৩লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। বিভিন্ন রাজনীতি অপরাজনীতি কারণে বার বার পিছিয়ে পড়ছে। আমরা যদি সাবাই এক সাথে কাজ করতে পারি তাহলে নারায়ণগঞ্জ হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশীক মুদ্রার উৎস। আমি চাই রাজনীতির জায়গায় রাজনীতি থাকুক, যাতে এটা ব্যবসায় আতঙ্কিত না হয়। বিকেএমইএ ভবন নির্মানেও করতে গিয়েও আমরা বাধার সমুক্ষিণ হয়েছি। একদিন বলবো এটা নিয়ে।

সেলিম ওসমান বলেন, বিকেএমইএ নির্বাচনে আমরা ২দিন ফরম বিক্রি করেছি, প্রথম দিন ফরম বিক্রি করার সময় আমরা কোন ডারেক্টরকে প্রবেশ করতে দেইনি। শুধুমাত্র ইলেকশন কমিশন তাদের কার্যক্রম চালিয়েছে। এছাড়া দ্বিতীয় দিনও কিন্তু আমরা অন্যত্র অবস্থান করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় ষষ্ঠ বারের মতো আমাকে তারা এই দ্বায়িত্ব পালন করতে দিয়েছে। তবে আমাদের সামনের ব্যবসায়িক অবস্থা খুব খারাপ। এটা আমাদের জন্য খুব কষ্টকর হয়ে যাবে। করোনায় আমরা ১৮ মাস ব্যবসা বানিজ্য করতে পারি নাই। কিন্তু আমাদের শ্রমিকদের আমরা ঠিক বেতন দিয়েছি। এতে সরকার আমাদের সহযোগীতা করেছে। আরএমজি সেক্টরে বিকেএমইএ ও বিজিএমইএ’র মাধ্যমে প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আরও যে অন্যান্য সেক্টর গুলো আছে সব মিলিয়ে ২কোটি মানুষের কর্মস্থান হচ্ছে। এদের মধ্যে নারীর সংখ্যা বেশী।

তিনি বলেন, শান্তির চরের প্রকল্পটা হবে সরকারের মাধ্যমে, কিন্তু কিছু ভূমিদস্যু আছে যারা সেখানে যায়গা বিক্রি করে দেয়ার চিন্তা করছে। আসলে ব্যাপারটা হলো সকল নারায়ণগঞ্জ বাসীকে একত্রিত হতে হবে। আমরা নারায়ণগঞ্জের যানজট মুক্ত হতে পারছি না। নারায়ণগঞ্জের মানুষ স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করতে পারছে না। ফতুল্লা থেকে ঢাকা যেতে যে সময় লাগে, তারচেয়ে বেশী সময় লাগে ফতুল্লা থেকে নারায়ণগঞ্জ আসতে। এটা আমরা সবাই ফিল করছি। স্বাভাবিক বৃষ্টি হলে ভোগান্তি পোহাতে হয়। সবাইকে সংমিলিত ভাবে কাজ করতে হবে।

সেলিম ওসমান আরও বলেন, আমাদের সকলকে একত্রিত হতে হবে, এটাই আমার সবার কাছে আবেদন। সিটি কর্পোরেশনের ব্যাপারে আমার কিছু বলার নাই। যার নিজস্ব দায়িত্ব সে নিজস্ব ভাবে ব্যাক্ত করবে। একটা জিনিস করতে হবে আমাদের, সেটা হলো অর্থনৈতিক উন্নয়ন। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছাড়া আমাদের কোনো পথ নেই। অর্থনৈতিক উন্নয়নে জন্য আমাদের রাস্তা ঘাট ক্লিন করতে হবে, সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব হচ্ছে রাস্তা ঘাট ক্লিন রাখা। কিন্তু দিনে দিনে দেখা যাচ্ছে রাস্তা ঘাটে যানজট বেশি হচ্ছে। আমি কাউকে কটাক্ষ করে বলছি না। তবে আমাদের আর একটু মনোযোগী হতে হবে। কারণ যখন স্বাভাবিক কথা বলতে চাই তখন হয়তো কথার মর্ম বুঝে না। মর্ম না বুঝে অন্য প্রসঙ্গে চলে যায়। তাতে সাধারণ মানুষের উপকারটা আর হয় না। চোরের সাথে রাগ করে তো মাটিতে বসে ভাত খাওয়া যাবে না। এখন আমার সাথে যদি বার বার রাগই করি তাহলে তো সমস্যা সমাধান করা যাবে না। এক টেবিলে বসতে হবে, সেই টেবিলে ঝগড়া হবে, আর সেখান থেকে সমস্যা সমাধান হবে।