বিদায়কালে বুঝতে পারছি কতটা ভালোবাসি প্রিয় বিদ্যাপীঠকে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: প্রতিদিনই ছুঁটির ঘন্টা পড়লে আনন্দের সাথে বাড়ি ফিরতেন মেহেদী হাসান। তবে, ১৫ জুন ছুটির ঘন্টা পড়ার সাথে সাথে চোখের কোনে ঝল জমেছে।

একই ভাবে মন খারাপ ছিল অন্য শিক্ষার্থীদেরও।

তারা জানান, আজকের পর অনেক বন্ধুদের সাথেই হয়তো দেখা হবে না। হয়তোবা এক সাথে ক্লাস করার অনেক ইচ্ছা হবে। সেই ইচ্ছা পূরণ হবে না, সেটা ভাবতেই কেন জানি মনটা খারাপ হয়ে গেল।

মেহেদী হাসানের মতো আবারও ৬৩ জন শিক্ষার্থী এবার দাখিল পরীক্ষায় নারায়ণগঞ্জের অন্যতম ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রওজাতুস সালিহীন ফাজিল মাদ্রাসা থেকে অংশ নিচ্ছেন।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সেই অনুষ্ঠানকে বিদায় বলে সম্মোধন না করে লিখেছেন ‘দোয়া ও গাইড লাইন অনুষ্ঠান’।

মাদ্রাসার সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম।

রওজাতুস সালিহীন ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল শুকুর আলি মোল্লার সার্বিক তত্বাবধায়নে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আ.ন.ম রফিকুল রহমান মাদানী, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস এম আবু তালেব, মাদ্রাসার রেক্টর মাওলানা মাহবুবুর রহমান।

এছাড়াও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য বাবুল আক্তার, মাদ্রাসার শিক্ষক বিনিয়ামিন হুজুর, মাওলানা মনিরুল ইসলাম মনির হুজুরসহ আরও অনেকে ছিলেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, দ্বিতীয়-তৃতীয় শ্রেণিতে থাকতে ভাবতাম, কখন সপ্তম-অষ্টম শ্রেণিতে উঠব। আর সপ্তম-অষ্টম শ্রেণিতে উঠে ভাবতাম, কবে দাখিল শেষ করব। এখন সেই সময় এসেছে। কিন্তু আজকে কেন এত খারাপ লাগছে। কেন জানি না নিজের অজান্তেই চোখের কোণে দুই চোখের জল এসে বলছে, যেতে তো চাই না তবুও কেন তাড়িয়ে দিচ্ছ আজকে এভাবে। হতে পারে নিজের অজান্তেই আজকে মাদ্রাসার সবাইকে অনেক অনেক ভালোবেসে ফেলেছি, যা হয়তো দ্বিতীয়-তৃতীয় এবং সপ্তম-অষ্টম শ্রেণিতে থাকতে বুঝতে পারিনি। কিন্তু এখন বিদায়কালে বুঝতে পারছি, কতটা ভালোবাসি মাদ্রাসাকে।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল শুকুর আলি মোল্লা বলেন, মাদ্রাসায় আলিম ও ফাজিল পাশ করার ব্যবস্থা রয়েছে। তোমরা চাইলে এখানে থেকেই পড়ালেখা করতে পারবে। এখন একটি প্রজন্ম মোবাইলের কারণে ধংসের পথে। আগামীতে হয়তো দেশ, সমাজ ও প্রশাসন পরিচালনার জন্য দক্ষ মানুষ পাওয়া যাবে না। তাই তোমাদের মোবাইল ছেলে ভালো করে পড়ালেখা করতে হবে। শুধু শিক্ষিত হলেই চলবে না-সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, রওজাতুস সালিহীন মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠালগ্ন নবীন। তবে সার্বিক কোয়ালিটি, কনটিটি অত্যন্ত দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং প্রবীণতম। পিএসসি, জেডিসি, দাখিল, আলিম প্রতিটা স্তরের পরীক্ষায়, বিভিন্ন পর্যায়ের বৃত্তি পরীক্ষায়, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সৃজনশীল মেধা অনুশীল, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহসহ বিভিন্ন কারিকুলামে নারায়ণগঞ্জের শেরা মাদ্রাসায় রয়েছে। পড়ালেখার মানও খুব ভালো, নারায়ণগঞ্জে নাম্বার ওয়ান এবং আমরা বিশ্বাস করি এই প্রতিষ্ঠান নাম্বার ওয়ান হিসেবেই তার স্মৃতি স্বাক্ষর রেখে চলবে।