‘বির্তকিত কমিশনার’ আখ্যা দিয়েও বার নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামী বিদ্রোহী গ্রুপ

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: শুধু বিএনপি পন্থী না, আওয়ামী লীগের একাংশ আইনজীবীরাও তফসিল ঘোষণাকৃত প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাড. আখতার হোসেনের প্রত্যাহার চান। নির্বাচন কমিশন পুনঃগঠন এর লক্ষ্যে জরুরী তলবী সভা আহ্বানের জন্য ৩১৭ জন সাধারণ আইনজীবীর স্বাক্ষর সম্বলিত দরখাস্তও দিয়েছিলেন জেলা ও দায়রা জজ আনিসুর রহমান ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এর বরাবর।

এদিকে আইনজীবীদের গণস্বাক্ষরের পরও তলবী সভা ডাকার কোনো লক্ষণ নেই আইনজীবী সমিতির। বরং তারা বিতর্কিত নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত তফসিল অনুযায়ি মনোনয়নপত্র ক্রয়-বিক্রয় নিয়েই ছিলো ব্যস্ত। এ নিয়ে আন্দোলনে থাকা আইনজীবীদের মাঝে ক্ষোভ বেড়েই চলেছে।

অপরদিকে সারাদিনই আদালতপাড়ায় আলোচনা সমালোচনা ছিল ‘নির্বাচন কমিশনার মানি না’ বলেও মনোনয়ন পত্র জমা দিয়ে আন্দোলনকারী আইনজীবীরা কী তাহলে নির্বাচনে করছেন। ‘বির্তকিত নির্বাচন কমিশনার’ আখ্যা দিয়েও এই কমিশনারের অধীনেই নির্বাচন করবেন? নানা সমালোচনায় আন্দোলনকারী আইনজীবীরা জানালেন, দাবী নির্বাচনের দিন পর্যন্ত চলতে থাকবে। আমরা আশায় আছি। মাঠ তো আর ফাকা ছেড়ে দেয়া যায় না।

এবিষয়ে বিএনপি পন্থী আইনজীবী সমিতির নেতা অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলছেন, আর একদিন অপেক্ষা করবো। তারা কী করে সেটি দেখতে চাই। যদি সাধারণ সম্পাদক তলবী সভা না ডাকে এবং নির্বাচন কমিশন পুনঃগঠন করা না হয়, তাহলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিএনপি পন্থী আইনজীবী অ্যাড. হামিদ খান ভাষানী বলেন, আমরা এ নির্বাচন কমিশনকে মানি না, আর মানবোও না। এ নির্বাচন কমিশনারের প্রত্যাহার চাই। পুনরায় নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবী জানাই।

অপরদিকে আওয়ামী লীগ পন্থী অ্যাড. দিপু বলেন, আমরাও চাই না তফসিল ঘোষণাকৃত প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাড. আখতার হোসেনকে। আমরাও চাই তলবী সভার আহ্বানে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হোক। যেহেতু আজকে মনোনয়ন জমার শেষ দিন তাই জমা দিচ্ছি। আমরা অপেক্ষায় রইলাম। আশা করি আমাদের যৌক্তিক দাবী মেনেই নির্বাচন হবে। বিষয়গুলো অভজারভেশনে রেখেছি। যিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার রয়েছেন তিনি বৃদ্ধ মানুষ। তার পক্ষে অনেক কিছুই করা সম্ভব নয়।

অপরদিকে নির্বাচন কমিশন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে থাকা সিনিয়র অ্যাড. মাহবুবুর রহমান মাসুম জানিয়েছেন, আন্দোলনের অংশ হিসেবেই আমরা মনোনয়নপত্র ক্রয় করেছি। নির্বাচনের শেষদিন পর্যন্ত আমরা নির্বাচন কমিশনারের পরিবর্তন চেয়েই যাবো। বলা যেতে পারে, আন্দোলনের অংশ হিসেবেই নির্বাচনে যাচ্ছি।

প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচন ২০২০-২০২১ অনুষ্ঠিত হবে (২৯ জানুয়ারি) বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে। ভোট গ্রহণ করা হবে আইনজীবী সমিতির নির্মাণাধীন বার ভবনের নিচ তলায়।

১৩ জানুয়ারি থেকে ১৫ জানুয়ারি তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ ও মনোনয়ন পত্র দাখিল করতে পারবেন। ছুটির দিনেও খোলা থাকবে।

নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের যাচাই বাছাই ও প্রাথমিক বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হবে আগামী ১৬ জানুয়ারি। মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন ১৭ জানুয়ারি থেকে ১৯ জানুয়ারির সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। চূড়ান্ত বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হবে ২০ জানুয়ারি সোমবার।

0