বির্তকিত বক্তব্যে সমালোচনার ঝড়, অতঃপর এসপির ক্ষমা প্রার্থনা

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ‘পুলিশে ভালো ভর্তি করে কনস্টেবলে? সবাই কয় জন্মের পরে, আমার পোলা ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার বানাইবো। কেউ তো কয় না পুলিশ কনস্টেবল বানাইবো। এইটা বলে? তাইলে কোনটা পুলিশ কনস্টেবল হয়? যে পোলা আইএ পাশ বা মেট্রেক পাশ করছে, এয় ঘুরে বেড়ায় বাপ মায় টিকতে পারে না। তখন, এমপি মন্ত্রী এসপি ডিসি কারো ঘুষ দিবো, কি করবো না করবো, তখন পুলিশে ঢুকায়। কারণ এইটা শয়তান, এইটারে পুলিশে ঢুকাইতে হইবো। এইটারে ঘরে রাখতে চায় না। এইতো অবসস্থা? কেউতো কয়না আমার ছেলে পুলিশে গিয়ে মানুষের ভালো সেবা করবে। এইটা কেউ বলে? সেখান থেকে আইনা ট্রেনিং দেওয়াইয়া এইগুলারে ভালো করা এত সহজ না। সে কারণে আম বলতে পারব না যে আমার সব পুলিশ ভালেঅ। বাংলাদেশে ৮৮জন লেক আমরা আইন ভাঙতে চাই, সেখানে আইন কিভাবো মানাবো?’- এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে বেশ সমালোচনার মুখে পরেছেন নারায়ণগঞ্জের নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম।

ওই ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা যায় গণমাধ্যমের সাথে এক মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বক্তব্য রাখছেন। ২৯ ডিসেম্বর প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে নবগত পুলিশ সুপারের মত বিনিময় সভাটি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তার বক্তব্যে পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। কনস্টেবল থেকে শুরু করে সিনিয়র কর্মকর্তাদেরও অনেকে ক্ষুব্ধ ছিলেন তার বক্তব্যে।

এদিকে পুলিশ সুপারের ওই দিনের বক্তব্যের খন্ডিত অংশটি ভাইরাল হয়ে সমালোচনা সৃষ্টির সপ্তাহ খানেক পরে এসে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষমা চেয়ে একটি পোস্ট দেয়া হয়েছে ‘মোহামম্দ জায়েদুল আলম ফুয়াদ (Mohammad Zaidul Alam Fuad’ নামের একটি ফেসবুক পেজের ওয়ালে।

৭জানুয়ারী বিকালে ওই পোস্টে লিখা হয়- “আমি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম,পুলিশ সুপার হিসাবে নারায়ণ গন্জ জেলায় যোগদানের পর এক মতবিনিময় সভায় আলোচনায় ফোর্স প্রসঙ্গে কথা বলি।আমার বক্তব্য খন্ডিত আকারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে। আমার বক্তব্যে আমার প্রিয় পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্য কস্ট পেলে আমি ক্ষমা প্রার্থানা করছি।”

ইতো মধ্যে ওই পোস্টে পুলিশ সদস্যসহ নানা মানুষ নানা সমালোচনা শুরু করেছেন। কেউ লিখেছেন ‘স্যার একজন বিনয়ী,ভদ্র, ভালো মানুষ‘, কেউ মন্তব্য করেছেন ‘অযাচিত মন্তব্য খুবই হতাশাজনক’, কেউবা লিখেছেন ‘এটা ক্ষমার অযোগ্য স্যার’।

লাইভ নারায়ণগঞ্জ পাঠকের জন্য কিছু মন্তব্য তুলে ধরা হলো-
Mon Pabon জায়েদুল আলম পিপিএম সাবেক পুলিশ সুপার মুন্সীগঞ্জ এবং সদ্য নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। আমি সুজন হায়দার জনি, সভাপতি টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন, মুন্সীগঞ্জ। সাংবাদিকতার সুবাদে আমি ওনাকে খুব কাছে থেকে দেখেছি। তিনি মুন্সীগঞ্জের বিগত সময়ের অন্যতম সফল পুলিশ সুপার। একজন বিনয়ী,ভদ্র, ভালো মানুষ। মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের মান উন্নয়নের জন্য তিনি যুগান্তকারী কাজ করে গেছেন। তিনি নিশ্চয়ই কোন শ্রেণীকে ছোট করার জন্য কিছু বলেননি। তবু্ও তিনি উদারচিন্তার কারনে বিনয় দেখিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন। এই ধরনের উদারতাও আমাদের দেশে বিরল!!!

Abdul Kader Rubel গণমাধ্যমের সামনে আমাদেরকে ছোট করবেন আর আপনি এখন পেইজের মধ্যে আমাদের কাছ থেকে ক্ষমা চাইবেন এটা কখনো হতে পারে না। আপনি কি মনে করেন আপনি মুখ দিয়ে বললেই কি ক্ষমা করে দিব? বাঁশটা তো জায়গা বরাবর দিয়ে দিছেন । আমরা তো খারাপ মানুষ মা-বাবার অবাধ্য সন্তান আমাদের কাছে আপনার ক্ষমা চাইতে হবে কেন?

MD Rakib Hassan ভিডিওটা যতবার দেখি ততবারই চোখ দিয়ে কান্না আসে। আর আপনি বলছেন ইন্টার পাস এসএসসি পাস এখন ম্যাক্সিমাম পুলিশ এই ডিগ্রী অনার্স কমপ্লিট।

0