বির্তকিত সাবেক কাউন্সিলর আলমগীর আবারও গ্রেফতার

লাইভ নারায়ণঞ্জ: নানা অপকর্মের হোতাম। হত্যা, প্রতারণা, চেক জালিয়াতিসহ একাধিক মামলার আসামী। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৭ নং ওয়ার্ডেও সাবেক কাউন্সিলর। শহরের পাইকপাড়া ভূইয়ারপাড়া এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে আলমগীর হোসেন। বির্তকিত এই ক্ষমতাধর সাবেক কাউন্সিলর সম্প্রতি জেল খেটে বের হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) রাত ৯ টার দিকে তার নিজ বাড়ি থেকে সদর মডেল থানা পুলিশআবারও তাকে গ্রেফতার করে।

আলমগীরের গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সদর মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম। তিনি জানান, আলমগীরের বিরুদ্ধে একটি অর্থ প্রতারণার মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। সেই পরোয়ানার বলে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সূত্র জানায়, হত্যা, প্রতারণা, চেক জালিয়াতিসহ একাধিক মামলার আসামী হয়ে বিভিন্ন সময় কারাভোগ করেন আলমগীর হোসেন।
এরমধ্যে একটি চেক জালিয়াতি মামলায় এক বছরের সাজা, একটি মামলায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং আরও একটি ওয়ারেন্টে ২০১৮ সালের ২৪ মে দুপুরের দিকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার হয়েছিলন তিনি। নারায়ণগঞ্জের অর্থঋণ আদালত সাবেক এই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে পৃথক এই তিনটি মামলায় পরোয়ানা জারি করে। এসব মামলায় দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন তিনি।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আসিফ ইমরান নামে এক তরুণকে হত্যার অভিযোগে মামলা রয়েছে। ২০১৫ সালের ৯ অক্টোবর বুড়িগঙ্গা থেকে উদ্ধার পরিচয়বিহীন গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে লাশের পরিচয় শনাক্ত হয়। লাশটি ছিলো একই বছর ৭ অক্টোবর নিখোঁজ হওয়া আসিফ ইমরানের। সে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির অবসরপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক লুৎফর রহমানের ছেলে এবং রাজধানীর বেসরকারি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলো।

তথ্যসূত্রে জানা গেছে, ৭ অক্টোবর বন্ধু শাকিলসহ নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় গোলাম মোস্তফাদের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন আসিফ। এরপর তাঁরা নারায়ণগঞ্জের তৎকালীন ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আলমগীরের কার্যালয়ে যান। সেখানে আলমগীরের লোকজন তাঁদের আটকে রেখে মারধর করেন। পরে মোস্তফা ও শাকিল বের হতে পারলেও আসিফ সেখানে আটকা পড়েন। এর ভিত্তিতে ২০১৫ সালের ১ নভেম্বর গোলাম মোস্তফা ও তাঁর বাবা গোলাম মোহাম্মদ, শাকিল এবং আলমগীরের বিরুদ্ধে অপহরণ ও গুমের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন লুৎফর রহমান।