বিলুপ্ত মাছ ফিরে এনেছি: তানমী শাহরীন

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: জেলায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৯ শুরু হয়েছে। বর্ণাঢ্য র‌্যালীর মধ্য দিয়ে মৎস্য সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচির শুরু হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকালে সাড়ে ১১ টায় প্রথমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বার্নাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। সভায় জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন চৌধুরী’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাসুম বিল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুবাস চন্দ্র সাহা।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক তানমী শাহরীন, জেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা বাসনা আক্তার, র‌্যাব-১১ সহকারী পুলিশ সুপার মুস্তাফিজুর রহমান, সহকারী পরিচালক মো. শওকত আলী, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোছা. শাহরিয়ার সালমা, মৎসজীবী কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আরো অনেক কর্মকর্তাবৃন্দ।

এসময় মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক তানমী শাহরীন বলেন, মৎস্য চাষের মাধ্যমে এদেশ থেকে দেশীয় সে সকল মাছ গুলো বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছিল তা পুনরায় ফিরিয়ে আনতে পেরেছি আমরা। নতুন নতুন বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা মৎস্য চাষকে এগিয়ে নিয়ে যাবো সাফল্যর দিকে।

র‌্যাব-১১ সহকারী পুলিশ সুপার মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মৎস্য চাষীদের মাছকে বিষাক্ত পদার্থ থেকে রাক্ষার্থে ও রপ্তানির ক্ষেত্রে সকল রকমের সুরক্ষার ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করবো।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুবাস চন্দ্র সাহা বলেন, কৃষি ও মৎসের বিলুপ্তি ঘটছে বাংলাদেশ থেকে। যে সকল প্রজাতির মাছ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে, সেই সকল প্রজাতির সংরক্ষণে দিকে মৎস্য অধিদপ্তর বিপুল অগ্রগতি নিয়ে এসেছে। এভাবে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আইনি ভাবে যত রকমের সহায়তা তাদের প্রয়োজন তা আমরা দিবো।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, মাছ খেতে খেতে বিলুপ্ত নয়, ধরতে ধরতে বিলপ্ত হচ্ছে। মনে রাখবেন, যদি হয় খড়া তাহলে খাবেন ধরা। একজন কৃষক মাছ ধরার পরেও অবশিষ্ট যা কিছু থাকে তাও পুকুরের পানি সেচে শেষ করে দেয়। দেশপ্রেম হলো আমার কাজটুকু যেন আমি ভালো করে করি। আমরা মাছে-ভাতে বাঙালী। কিন্তু সে মাছেরই যদি আমাদের দেশে অস্তিত্ব না থাকে তাহলে আমার শুধু মাত্র নামেই মাছে-ভাতে বাঙালী হয়ে থাকবো।

তিনি আরও বলেন, আপনারা শুধু চাই-চাই করেন। সৃষ্টিকর্তার রহমতে বাবা-মা জন্ম দিয়েছে আমাদের। কিন্তু বড় হবার পর থেকেই সরকারের কাছে আমরা শুধু সরকারি চাকরী চাই। একটি সরকারি চাকুরির জন্য যে হারে পড়াশুনা করতে হয় তা যে করে সেই জানে। একজন মানুষ নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে সরকারি চাকুরীজীবীদের থেকেও ভালো উর্পাজন করা যায়।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন চৌধুরী বলেন, আমাদের কাজ উৎপাদন করা আর সরকারের কাজ এর প্রতিরক্ষা করা। মৎস বিভিন্ন দেশে রপ্তানির কাজে বিভিন্ন রকমের সুযোগ-সুবিধা আমরা পাচ্ছি না। এই সকল সুযোগ-সুবিধা না থাকায় আমাদের দেশে মৎস্য চাষীদের সংখ্যা কম। মাছের পরিমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে মৎস চাষীদের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করতে হবে।

প্রসঙ্গত, সভায় জেলায় মৎস্য সম্পদ নিয়ে নানা উপাত্ত তুলে ধরা হয়। এসম জানানো হয়, নারায়ণগঞ্জে বর্তমানে বার্ষিক মাছের চাহিদা ৬৫ হাজার ৫৬৫ মেট্রিক টন। চাহিদার প্রায় ৩৩% ভাগ মাছ স্থানীয়ভাবেই উৎপাদন হয়, যার পরিমাণ ২২ হাজার ৫০ মেট্রিক টন। এতে করে স্থানীয়ভাবে আমিষের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

0