বুড়িগঙ্গায় চলবে ক্যাবল কার, অপেক্ষায় শীতলক্ষ্যার দুই পাড়

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: দেশে প্রথমবারের মতো বুড়িগঙ্গা নদীর উপরে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ‘ক্যাবল কার’ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। ক্যাবল কার হলে বুড়িগঙ্গা নদীর দুই পাশে বসবাসকারী বাসিন্দাদের যোগাযোগ দুর্ভোগ কমবে, পাশাপাশি কমবে নদীপথে পারাপারে দুর্ঘটনাও। এছাড়াও পর্যটনে গুরুত্ব বাড়বে বুড়িগঙ্গার।

রোববার (৭ এপ্রিল) দুপুরে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে একটি স্ট্যাটাস শেয়ার করে এ ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার পর থেকেই নদীটির দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এদিকে তার এই স্ট্যাটাসের নিচে অনেকেই লিখেছেন, ‘বুড়িগঙ্গার পর অপেক্ষায় থাকবে লক্ষ্যাপারের মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন কয়েক লাখ মানুষ শীতলক্ষ্যা নদী দিয়ে পারাপার হয়। বুড়িগঙ্গার থেকে কোন অংশে শীতলক্ষ্যা নদী পারাপারে কম দূর্ভোগ নয়, ঝড় বৃষ্টিসহ নানা কারণে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। তাছাড়া সময়ের সাথে যোগ উপযোগী এ উদ্যোগ যেমন দুই তীরের মানুষের দূর্ভোগ কমিয়ে আনবে। একই ভাবে যাবে সরকারের তহবিলে রাজস্ব। তাই অপেক্ষায় শীতলক্ষ্যার দুই পাড়ের মানুষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কলকাতাভিত্তিক কোম্পানি কনভেয়ার ও রোপওয়ে সার্ভিসেস লিমিটেড এরই মধ্যে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রাথমিক প্রস্তাব জমা দিয়েছে। ১৯ মার্চ হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সদরঘাট পরিদর্শন করেছে ভারতের একটি প্রতিনিধি দল। ২০ মার্চ ভারতীয় কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখর চক্রবর্তীর নেতৃত্বে ওই প্রতিনিধি দল ‘এরিয়াল রোপওয়ে সিস্টেম’ নামে একটি ডিজিটাল উপস্থাপনা দেয়।

ওই সময় ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটির নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রকিবুর রহমানের সামনে ওই প্রতিনিধি দল সদরঘাট থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত ওভারহেড বরাবর ‘কারভো’ নামের নগর যোগাযোগের জন্য অ-লিনিয়ার এরিয়াল রোপওয়ে সিস্টেমের নতুন ধারণা উপস্থাপন করে। বিদেশি সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, তারা একটি জরিপ প্রতিবেদন পরিচালনা করে তারপর প্রকল্পের প্রতিবেদন ও খরচ অন্তর্ভুক্ত করবে।

জানা গেছে, পাহাড়, নদী ও যানজটপূর্ণ বিভিন্ন শহরে এ ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক দিন ধরে চালু রয়েছে। বলিভিয়ার রাজধানী লা পাজের পাহাড়ি এলাকায় গণপরিবহন হিসেবে ক্যাবল কার ব্যবহৃত হচ্ছে।

প্রস্তাবে দাবি করা হয়, টুইন রোপওয়ে সিস্টেমের মাধ্যমে সদরঘাটকে সিমসন ঘাট ও লালকুঠি ঘাটের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। বুড়িগঙ্গার উভয় পাশে মাল্টি কমপ্লেক্স স্টেশন নির্মাণ করে বোর্ডিং ও ডি-বোর্ডিং স্টেশনের মাধ্যমে যাত্রীরা উঠানামা করতে পারবেন।

প্রতিটি টার্মিনাল থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ যাত্রী এ পরিসেবা পাবেন। ক্যাবল কারের যেসব বৈশিষ্ট্য থাকবে তাতে লাখ লাখ যাত্রী এ সিস্টেমের সাহায্যে বছরের পর বছর নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন।

ক্যাবল কারে যাত্রী ও পণ্য আনা-নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা থাকবে। এটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণও সহজ। এছাড়াও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয়রা তাদের কোনো সমস্যা ছাড়াই এটি পরিচালনা করতে পারবেন। প্রস্তাবিত রোপওয়ে সিস্টেমের মধ্যে প্রয়োজনীয় অটোমেশন অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

0