ব্যর্থতা তবুও সর্বোচ্চ ট্যাক্স, আইভীর বিরুদ্ধে আন্দোলনে যা‌বে না.গঞ্জবাসী

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: পানি রেইট বা পানি ট্যাক্স কেন নেয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন? উত্তর হচ্ছে-পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে। অথচ, সেই দায়িত্ব পালন না করতে পারলেও পানির সর্বোচ্চ ট্যাক্স বাধ্যতামূলক করেছে সংস্থাটির কর্তা ব্যক্তিরা। মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর এমন সিদ্ধান্তে আন্দোলনের হুমকিও দিচ্ছেন নাগরীক কমিটির নেতা।

স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জানা গেছে, মডেল কর তফসিল ২০১৬ অনুয়ায়ী সিটি কর্পোরেশনকে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ পানি কর নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে মাত্র ১ শতাংশ হরে পানি কর নেওয়া হচ্ছে। পাশ্ববর্তী আরেক সিটি করপোরেশন গাজীপুরে পানি সরবরাহ করলেও ইমারত মালিকদের নিকট কোন প্রকার পানির রেইটস বা কর আদায় করে না। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সবে মাত্র ঢাকা ওয়াসার থেকে পানি সরবরাহের দায়িত্ব নিয়েই সেবা দিতে ব্যর্থ হলেও সর্বোচ্চ করের বুঝা চাপিয়ে দিয়েছে নগরবাসীর মাথার উপর।

আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী নামের একটি সংগঠন থেকে জানানো হয়েছে, সিটি কর্পোরেশনের সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ পানি কর দেওয়ার পরেও পানির পাম্প বসানোর অনুমতিপত্র বা আবেদন ফরম নিতেই ২ হাজার টাকা লাগে, এককালিক সিটি করপোরেশনকে আরও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে হয়। এছাড়াও প্রতিবছর নবায়নের জন্য আরও ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার নিয়ম করে ছিল সিটি করপোরেশনের মেয়র।

এ নিয়ে বেশ কয়েক বার আন্দোলনও হয়েছে। মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বরাবর স্মারক লিপি দিয়েছি সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। করেছেন মানববন্ধনও।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, গোদনাইল পানি শোধনাগারে পানি উৎপাদন হয় ৪.৫০ কোটি লিটার আর সোনাকান্দায় ১.২ কোটি লিটার। অর্থাৎ দু’ শোধনাগারে ৫.৭ কোটি লিটার পানি উৎপাদন হলেও চাহিদা রয়েছে ১২ কোটি লিটার। অর্থাৎ পানি চাহিদার চেয়ে উৎপাদন অর্ধেক। তারপরেও সর্বোচ্চ ট্যাক্স কেন?

১৩ অক্টোবর সিদ্ধিরগঞ্জের একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে মেয়র সেলিনা হয়াৎ আইভী বলেন, ‘অনেকের ভিতরে একটা প্রশ্ন আছে, পানি তো পর্যান্ত নাই, তাহলে পানির বিল ধরেছেন কেন? পানি পর্যান্ত না হলেও আপনারা সব ওয়ার্ডে পানি পাচ্ছেন। কারণ প্রত্যেকের বাড়িতে পাম্প আছে। সেই পাম্প কিন্তু সরকারের সম্পদ। সরকারকে যে ভাবে ভূমি ট্যাক্স, সিটি করপোরেশনকে হোল্ডিং ট্যাক্স দেওয়া হয়। একই ভাবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সব জায়গায় ৩ শতাংশ হারে পানির ট্যাক্সও দিতে হবে।’

মেয়র আইভীর এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন মন্টু বলেন, আমার টাকা ব্যয় করে আমি পাম্প বসাবো, আমার টাকার বিদ্যুৎ খরচ করে পানি তুলবো। তারপরেও কেন আবেদন ফরমের জন্য ২ হাজার, অগ্রিম ২ লাখ ৫০ হাজার আর নবায়নের জন্য বছর বছর টাকা দিতে হবে। এ ছাড়াও ৩ শতাংশ হরে আবার পানির ট্যাক্স দেওয়া বাধ্যতা মূলক থাকবে। সামনে নির্বাচন, নির্বাচন শেষ হলেই আইভী আবারও দারগা হয়ে যাবে। তাই খুব শীঘ্রই ব্যাপারটি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবো এবং পরবর্ত্বীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

0