ব্রক্ষ্মপুত্র নদে জাহাজের চাপায় নিহত ১, নিখোঁজ ১

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: বন্দরে স্নেহা শীপইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস নামে একটি বেসরকারি ডকইয়ার্ডে সদ্যনির্মিত জাহাজের নীচে চাপা পড়ে নদীতে ডুবে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪ শ্রমিক। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরো এক শ্রমিক। তাকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বন্দ‌রের বিবিজোড়া এলাকায় ব্রক্ষ্মপুত্র নদে এ ঘটনা ঘটে।

এ‌দি‌কে ঘটনার পর থেকে ওই ডকইয়ার্ডের মালিক আবুল কালাম পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, স্নেহা শীপইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস নামে ওই জাহাজ নির্মান কারখানায় নির্মাণ শেষে একটি পণ্যবাহি জাহাজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পরীক্ষামূলকভাবে ব্রক্ষ্মপুত্র নদে নামানো হয়। নদীতে ভাসানোর সময় জাহাজটি স্লিপওয়ের বালুতে আটকে অর্ধেক ডেবে যায়। এ সময় হুইল ওয়্যারের তার ছিঁড়ে ইয়া রাসূল ও রাসেল নামে দুই শ্রমিক জাহাজটির নীচে চাপা পড়ে নদীতে ডুবে নিখোঁজ হন এবং চার শ্রমিক আহত হন। সাথে থাকা শ্রমিকরা আহতদের উদ্ধার করলেও নদীতে তলিয়ে যাওয়া দুই শ্রমিক নিখোঁজ থাকেন। খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশসহ ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ও তাদের ডুবুরিদল নিখোঁজদের উদ্ধারে ঘটনাস্থলে তল্লাশি শুরু করে। রাত বারোটায় ডুবুরিদল একজনের মরদেহের সন্ধান পে‌য়ে‌ছে। তবে তার পরিচয় শনাক্ত হয়নি। নিখোঁজ অপর শ্রমিকের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চলছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বন্দর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) শুক্লা সরকার ও বন্দর থানা পুলিশের ওসি মো: রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের নারায়ণগঞ্জ জেলা উপ-সহকারি পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন একজন নিহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিখোঁজ একজনের লাশ নদীর তলদেশে আটকে আছে। লাশ দেখা গেছে। লাশটি উত্তোলনের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ধারণা করা হচ্ছে নিখোঁজ অপরজন হয়তো আশপাশের কোথাও বালুর মধ্যে আটকে আছে। আমাদের উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত আছে। লাশ উত্তোলন না করা পর্যন্ত আমাদের অভিযান চলবে।

এদিকে নিখোঁজদের লাশ উদ্ধারের পর দাফন কাফনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক পরিবারকে বিশ হাজার টাকা অনুদানসহ মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন বন্দর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা শুক্লা সরকার।

এই ডকইয়ার্ডটি সম্পূর্ণ অনুমোদনবিহীন পরিচালনা করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযোগ রয়েছে। তারা বলছেন, এই প্রতিষ্ঠানটির কোন বৈধ লাইসেন্স নেই। অবৈধভাবে এতোদিন যাবত জাহাজ নির্মান কাজ পরিচালনা করে আসছে। তাই দূর্ঘটনার খবর পেয়ে মালিক পালিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বন্দর থানার ওসি মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

0