ভিপি বাদল এর প্রশ্ন ‘শামসুজ্জোহার নেতৃত্বে তৈরি শহীদ মিনার কিভাবে পৌর মিনার হয়?’

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জঃ ‘এ কথাটি না বললে অপরাধ হবে, কোথাও কি লেখা আছে এটা নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় পৌর শহীদ মিনার? আজকে আমার মনে পড়ে, এটা নার্সারী ভবন ছিলো। জোহা ভাইয়ের নেতৃত্বে, খানপুরের শফী চাচার নেতৃত্বে, সাইফুদ্দিন চাচার নেতৃত্বে, শামীম ওসমান, আমি, বিমল ব্যানার্জী ও জিএম ফারুখের নেতৃত্বে তৎকালীন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের মাধ্যমে ইট দিয়ে এই শহীদ মিনার বানানো হয়। এটা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। এটা কিভাবে কেন্দ্রীয় পৌর শহীদ মিনার হয়?’

‘সেই বাদল হেলাল পরিষদ, আমার আদরের হেলাল এখানে উপস্থিত। আমাদের দাবি ছিলো একটা বড় জায়গায় পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার করা। পিছনের অফিসটা নিয়ে একটা বড়সর জায়গা এক্যুয়ার করে শহীদ মিনার করা। আমাদের জোহা চাচা বেঁচে থাকবে চীর অম্লান হয়ে।’

২৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) নগরীর জিয়া হল প্রাঙ্গনে জাতির জনকের ঘনিষ্ট সহচর, মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক, ভাষা সৈনিক ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত (মরোণত্তর) প্রয়াত জননেতা একেএম শামসুজ্জোহার ৩৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মরণ সভা ও নেওয়াজ বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল (ভিপি বাদল)।

তিনি আরো প্রশ্ন করেন, নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার কিভাবে কেন্দ্রীয় পৌর শহীদ মিনার হয়? কিভাবে, কোন সাহসে সিটি করপোরেশন এ কথাটি লেখলেন। এর জবাব কি আপনারা দিতে পারবেন? এ কথাটুকু সংশোধনের প্রয়োজন আছে কি নাই? আর যদি প্রয়োজন না থাকে তার এর দায়ভার জেলা প্রশাসনের উপর।

তিনি প্রয়াত জননেতা সম্পর্কে বলেন, শামসুজ্জোহা সাহেবের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। ৩৪ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের মানুষের প্রাণের চেয়েও প্রিয় নেতার কবরে শ্রদ্ধা নিয়ে পুষ্পনিবেদন করে। জোহা ভাই, আপনি আর আমাদের পাশে নেই। বার বার মনে পড়ে, নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে আপনার পাশে থেকেছি। আমার মনে পড়ে নারায়ণগঞ্জের অলিতে গলিতে আপনার জন্য দোয়া নেওয়ার চেষ্টা করেছি। হঠাত একদিন দুপুর ১১টার দিকে আমি জোহা ভাইয়ের দিকে তাকালাম, তারপর যখন শামীমের দিকে তাকালাম তখন দেখি তার চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি ঝড়ছে। আমার আর বুঝার বাকি রইলো না যে প্রাণপ্রিয় নেতা আমাদের মাঝে আর নেই।’

“আমি গত কিছুদিন আগে আড়াইহাজারে একটা মিটিংয়ে গেলাম। সেখানে আমি বক্তব্য রেখেছিলাম ১৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড আর আমার শ্রদ্ধেয় ভাইজান আব্দুল হাই বক্তব্য রেখেছিলেন ৫৭ মিনিট। একটা জিনিস না বললেই নয়, এই মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলাতে যেখানে যাকে শোভা পায়। এখানে প্রধান অতিথি হিসেবে অবশ্যই শোভা পায় কেন্দ্রীয় যারা আসেন তাদের দল। আমরা আসবো, শুভেচ্ছা জানাবো ও আমরা বক্তব্য শুনবো। মেহেদী ভাই এসেছেন, মেহেদী ভাই চমৎকার বক্তব্য রেখেছেন। আমার হেলাল, আমার সাফায়েত আলম সানী, এড খোকন সাহাও। রাজনীতিতে এসেছেন মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য, নাম তার বাবু চন্দন শীল। আমাদের বন্ধু হিসেবে আমরা তাকে নিয়ে গর্ববোধ করি।”

মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সভাপতি শান্ত রহমান, সদস্য সচিব জে আর রাসেল সঞ্চালনায়, অনুষ্ঠানে জেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম সংসদের আহ্বায়ক এইচ এম রাসেলের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, সিনিয়র সহসভাপতি চন্দন শীল, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান, জেলা আদালতের পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন,মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানি, জেলা হকার্সলীগের সভাপতি রহিম মুন্সি, ব্যাংক কর্মচারি ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল কাদির প্রমুখ।

0
, ,