ভূমি দস্যুতায় আবারও সেই জয়নাল, এসপির হস্তক্ষেপ কামনা

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নাম জয়নাল আবেদীন। অনেকের কাছে ‘জমিখেকো জয়নাল’ হিসেবেও পরিচিত! কখনও কৃষি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে, আবার কখনও দখলে নিয়েছেন সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশও। তার অত্যাচারে সাধারণ মানুষসহ সাংসদ পর্যন্ত প্রতিবাদ করেও প্রতিকার হয়নি।

বহুল বির্তকিত এই জয়নালের হাত থেকে রক্ষা পেতে জেলার আলোচিত পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূক্তভোগিরা। জয়নালের থাবায় এবার দক্ষিণ সস্তাপুরের ২১ শতাংশ জমি। অভিযোগ আছে, বহুরূপি এই জয়নালের অত্যাচারেই ওই জমির একাংশের মালিক নূর মোহাম্মদ হার্ট এ্যাটাকে মারা যান ।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) সকালে ফতুল্লার দক্ষিন সস্তাপুরে অবস্থিত একটি বাড়ির প্রধান ফটক ভেঙ্গে জমি দখলের চেষ্টা করে জয়নাল আবেদীনের লোকজন। পরে দেয়ালটি মেরামত করতে গেলে সেখানেও বাঁধাদেন জয়নাল আবেদীন নিজেই।

স্থানীয়রা জানান, যখন যে সরকার এসেছে, তখন ওই সরকারের লোক পরিচয়েই নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন জয়নাল আবেদীন। নিজ স্বার্থে দল পাল্টা তার আরেক রূপ। কখনও তাতিঁলীগ কখনও আওয়ামীলীগ। তবে, এবার আওয়ামীলীগের মূলে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়ে জোট সরকারের শরিক দল জাতীয় পাটির কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে পরিচয়দেন সব জায়গায়। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে চেয়েছিলেন দলটি থেকে সাংসদের টিকেটও। এছাড়া হরতাল, সন্ত্রাস পরিচালনায় জামায়াত-সিবিরের অর্থের জোগানদাতা হিসেবেও রয়েছে পুলিশের খাতায় নাম। আর এ সব কর্মকান্ড করেই টিকিয়ে রেখেছে তার সম্রাজ্য।

ভূক্তভোগীরা জানায়, কয়েক বছর আগে ফতুল্লার সস্তাপুরে জীবনের শেষ সম্বল টুকু দিয়ে ফতুল্লার দক্ষিন সম্তাপুরে জমি কিনেন এক বৃদ্ধ ব্যক্তি। কিছু দিন আগে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তাঁর অবর্তমানে জমিটি নিজের দাবি করে প্রধান ফটক ভাঙ্গতে লোকজন পাঠায় জয়নাল আবেদীন। পরে ওই বৃদ্ধের ছেলেরা ভাঙ্গা দেয়াল মেরামত করতে গেলে সেখানে নিজেই বাঁধাদেন জয়নাল আবেদীন।

ওই জমির ক্যায়ারটেকার জানান, দীর্ঘদিন যাবৎই জমিটি নিয়ে মামলা চলছিলো। হঠাৎ জয়নাল আবেদীনের লোকজন সেই জমিতে থাকা দেয়াল ভেঙ্গে জমি দখলের চেষ্টা করে। আমি বাধাঁ দেওয়ার চেষ্টা করলে নানা ভাবে হুমকি ধমকী দিতে থাকে চক্রটি। এক পর্যায়ে ফতুল্লা থানার এক পুলিশের কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে জয়নাল আবেদীনের সাথে আমাকে যোগাযোগ করতে বলে।

দেওয়াল ভাঙ্গার বিষয়টি মিথ্যা দাবি করে জাতীয়পার্টির কেন্দ্রীয় এ নেতা জয়নাল আবেদীন জানান, ‘আমরা বিভিন্ন সময় কাগজ নিয়ে বসতে চাপ প্রয়োগও করেছি। কিন্তু তারা বসছেই না। ’

এই জমিয়ে নিয়ে এর আগে একটি মামলায় জয়নালের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। পরে একইদিন মীমাংসার প্রস্তাবের শর্তে জয়নালকে জামিন দেন আদালত।

২০১৫ সালের এপ্রিলে মামলায় জয়নালকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। মামলার বাদী ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল। নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এইচএম শফিকুল ইসলামের আদালতে স্বশরীরে জয়নাল আবেদীন হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে, বিকালে সমঝোতায় তিনি ছাড়া পেয়েছেন। বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জের আদালত জয়নালকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিলেও কোর্ট পুলিশ তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে সমঝোতারজন্য আদালতের গারদে রেখে দেয় বিকাল ৪টা পর্যন্ত। অবশেষে বিকালে বাদীর সঙ্গে আপস ও সমঝোতার ভিত্তিতে বাদী অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েলের জিম্মায় জামিন পান জয়নাল আবেদীন।

জমিসংক্রান্ত মামলাটি ছাড়াও ফেরদৌসের ছোট ভাইয়ের ওপর হামলা ও চোখে উপরে ফেলে হত্যাচেষ্টার অভিযোগেও দায়ের করা মামলায় জয়নালকে সন্দেহভাজন হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। ওই মামলায় জয়নাল হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়েছেন।

0