ভয়ঙ্কর মহামারি ধর্ষণ, কন্যা রক্ষার উপায় কি?

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: রূপগঞ্জে ধর্ষণের শিকার হয়ে ১৩ বছর বয়সেই কন্যা সন্তানের মা হয়েছে এক বালিকা। সেখান থেকে অল্প কিছুটা দূরেই আরও এক বালিকাকে ধর্ষণ করে কারারক্ষি।
প্রথম ঘটনা ঘটে গত ৯ জুলাই। আর দ্বিতীয় ঘটনাটি ২৫ জানুয়ারী। দুই ঘটনাতেই স্থানীয় প্রশাসন ও আদালত ধষিতাদের সাথে ধর্ষকদের বিয়ের মধ্য দিয়ে ঘটনার সমাপ্তি ঘটে।
এমন ঘটনা নারায়ণগঞ্জের প্রায়ই ঘটছে। একটি মেয়েশিশু যখন পুতুল খেলার আনন্দে বিভোর, জীবনের জটিল বিষয়গুলো থেকে অনেক দূরে, এ সময় হঠাৎ করে তার জীবনটাকে বিষাদময় করে তুলছে ধর্ষকের হানা। তা যেন সদ্য ফোটা সুন্দর একটি সৌরভ ছড়ানো ফুলের হঠাৎ বিবর্ণ হয়ে যাওয়া।
ছোট ছোট ফুলের মতো শিশুদের ওপর হায়েনার মতো বর্বর হামলা চালাতে অনেক শিক্ষিত সুবোধ ব্যক্তিও পিছপা হয় না। গত ২৭ জুন ও ৪ জুলাই ৩২ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় ৩ শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এ ঘটনায় ফুঁসে ওঠে গোটা নারায়ণগঞ্জ। প্রতিনিয়তই ধর্ষকরা গ্রেপ্তার হচ্ছে, আটক হচ্ছে। কিন্তু এর কোনো কিছুই আটকাতে পারেনি ধর্ষণ করার পাশবিক ইচ্ছাকে, যার বড় প্রমাণ প্রতিদিনের পত্রিকার পাতায়।
ধর্ষণ সমাজে আজ ভয়াবহ মহামারি আকার ধারণ করেছে। শিশু থেকে কিশোরী, মহিলা কোন বয়সই রক্ষা পাচ্ছে না পাষবিক পৈচাশিকতায়। জানুয়ারি থেকে জুন। এই ৬মাসে সাড়া দেশে ৩৯৯জন শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছে। আর ধর্ষণের পর একজন ছেলে শিশুসহ মোট ১৬জন শিশু মারা গেছে। অন্তত ৪৯টি শিশু (৪৭ জন মেয়ে শিশু ও ২ জন ছেলেশিশু) যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে।
এমনটাই জানাচ্ছে বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের বরাতে বলা হচ্ছে, ছয়টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ৪০৮টি সংবাদ বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি এই তথ্য পেয়েছে। পরিসংখ্যান খুবই ভয়ানক। দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি বেশি ভয়াবহ। আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না। কণ্যা সন্তান নিয়ে সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় অভিভাবক। সমাধান খুজঁতে হবে। প্রতিকার প্রতিরোধ এর উপায় কী? এমন প্রশ্নের উত্তরে রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যম কর্মী, বিশিষ্ট্য জনারা জানালেন তাদের চিন্তাধারা-
ধর্ষণের প্রতিকার নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, ধর্ষণ প্রতিকারও সকলকে এগিয়ে আসা ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। তাই সকলের উচিৎ ধর্ষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলা।
একই ধরণের মন্তব্য করেন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, ধর্ষিতাদের পাশে সামাজিক ভাবে দাঁড়ালেই এর প্রতিকার করা যাবে।
তবে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহিদ বাদলতো বলেই ফেলেছেন, ‘যারা ধর্ষণ করেছে, তাদের গলা কেটে ফেলেন। এটাই আমার মতে প্রতিকারের উপায়।’
এদিকে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, সংক্ষিপ্ত সময়ের আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা দরকার। ৩০ দিনের মধ্যে ধর্ষণের সাজা কার্যকরের দরকার। পাশাপাশি পরিবারকে আরও সচেতন হতে হবে।
বিষয়টি নিয়ে মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম বলেন, ধর্ষকদের ব্যাপারে দৃষ্টান্তমূলক সাজা মৃত্যুদন্ড বা বিদেশের আইনের মতো তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারকে কোন প্রদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া জনগণকে আরও সচেতন হতে হবে।
দৈনিক শীতলক্ষা পত্রিকার সম্পাদক আরিফুল আলম দিপু বলেন, খুব দ্রুত সামাজিক ভাবে প্রতিরোধের মাধ্যমে এর প্রতিকার হতে পারে।
দৈনিক স্বপন চৌধুরী জানান, সামাজিক ভাবে ধর্ষণ প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। আমার মতে নারীদের উন্নয়ন ও প্রতিরোধ বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি বাজেট ঘোষনা দরকার।
বন্দর প্রেস ক্লাবের সভাপতি কমল খান বলেন, সামাজিক সচেতনতা ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হলেই তা প্রতিরোধ করা সম্ভব। একজন অপরাধী যদি অপরাধ করে সহজে ছাড় পেয়ে যায়, তাতে করে আপরাধ দিন দিন বৃদ্ধি পাবে, কমবে না। এর জন্য কঠোর আইনের ব্যবস্থা করতে হবে। এর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনা ও মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর শেখ নাজমুল আলম সজল বলেন, সরকার প্রদক্ষেপ নিবে এ আসা করে বসে না থেকে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সকলকে ধর্ষণ প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি পরিবারকে সচেতন হতে হবে। তাহলেই এই ধর্ষণকে প্রতিকার করা যাবে।
দৈনিক সংবাদচর্চা পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মুন্না খান জানান, সামাজিক সচেতন হওয়া দরকার। পাশাপাশি পরিবারকে তার ছেলে-মেয়েদের সাথে একটি ভাল বন্ধুতের সম্পর্ক গড়ে তোলা দরকার। এছাড়াও বিচারহীনতা, প্রভাবশীলতা, বিচারসমূহ দীর্ঘায়ন ইত্যাদি পরিহার করলেই এর প্রতিকার পাওয়া যাবে।

২২৩
0