ভয়াল ২১ আগস্ট: নিহত হয়েছিল না.গঞ্জের ১জন আর হামলায় জড়িত ছিল ২জন

0

২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ১৫ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলা হয়। এতে নিহত হন ২৪ জন। আর আহত হন কয়েক শ।

ঘৃণ্য ও বর্বরোচিত ওই গ্রেনেড হামলায় জড়িত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের ২ জন। আর প্রাণ হারিয়েছিল আওয়ামীলীগের এক নিবদিত কর্মী, আহতদের মধ্যে ছিল বর্তমান নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু।

নারকীয় ওই হামলায় নারায়ণগঞ্জের যে দুই জনের নামেআসে তাদের একজন একজন র‌্যাবের সঙ্গে ক্রসফায়ারে নিহত আলোচিত যুবদল নেতা মমিনউল্লাহ ডেভিডের ছোট ভাই শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল। জুয়েল ৮ নাম্বার আসামি। বর্তমানে কারাগারে বন্দী যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হয়ে। অপর আসামির নাম ছিল শুভ ওরফে তৌফিক। কিন্তু গ্রেনেড হামলায় ঘটনায় জবানবন্দীতে শুভ ওরফে তৌফিকের নাম এলেও তদন্তে তার পুরো পরিচয় বের করতে পারেনি সিআইডি। তাই অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়নি।

২০০৫ সালের ১ অক্টোবর গ্রেপ্তারের পর মুফতি হান্নান টিএফআই (টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন) সেলে জবানবন্দিতে হামলাকারী হিসেবে নারায়ণগঞ্জের শাহাদত উল্লাহ ওরফে জুয়েল ও শুভ ওরফে তৌফিকসহ একাধিক আসামির নাম জানান। এরপর জুয়েলকে ২০০৭ সালের ২৭ নভেম্বর শহরের মিশনপাড়ার বাসা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১১। রিমান্ডে থাকাকালীন জুয়েল ২০০৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুজ্জামান জিলানীর কাছে জবানবন্দীতে স্বীকার করেন বোমা হামলার ঘটনায় মুফতি হান্নান, ভারতের দিল্লীতে কারাবন্দী আনিসুল মোরসালিন ও মুহিবুল মুত্তাকিন, হুজির সামরিক কমান্ডার আহসান উল্লাহ কাজল, হুজি তোতা, হুজি আবু জানদাল সহ কয়েকজন জঙ্গী নেতা জড়িত।

এই জুয়েল নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ অফিসে ২০০১ সালের ১৬ জুন বোমা হামলায মামলার ১২ নাম্বার আসামী। তাকে সহ ৬জনকে জড়িয়ে ইতোমধ্যে চার্জশীট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। চাষাঢ়ার ওই হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছিল। এছাড়াও জুয়েল রমনায় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার মামলায় চার্জশীটভুক্ত আসামী। জুয়েল নারায়ণগঞ্জ শহর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক ছিলেন।

অন্যদিকে ভয়ঙ্কর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় যে ২৪জন নিহত হয়েছিলেন তাতে নারায়ণগঞ্জের রতন সিকদারও ছিলেন। তিনি জেলার ফতুল্লার গাবতলী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। আওয়ামীলীগের এই ভক্ত ওইদিন তার প্রিয় নেত্রীর (শেখ হাসিনা) বক্তব্য শুনতে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলীয় অফিসের সামনে সমাবেশে ছুটে গিয়েছিলেন।

ওই হামলায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনার সাথে সেদিন গুরুতর আহত হন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু। প্রথমে অজ্ঞান অবস্থায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে বাবুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে সি এম এইচ এ নেয়া হয়। সেখান থেকে সিকদার মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নেয়া হয়। ভারতে অপারেশন করে কয়েকটি স্প্লিনটার বের করা সম্ভব হলেও অসংখ্য স্প্লিনটার শরীরে রয়ে যায়। এখনও শরীরে থাকা স্প্লিনটারগুলো মাঝে মাঝে অসহনীয় যন্ত্রনা দেয় এমপি বাবুকে।

0