মশায় অতিষ্ঠ নগরবাসী, ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ এনসিসির প্রতি

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নগরীর জনজীবন মশার উপদ্রবে বিপর্যস্ত। এমন কোন স্থান খুঁজে পাওয়া কঠিন যেখানে মশা নেই। আর এই উপদ্রব ঠেকানো না গেলে, মশার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হতে পারে কোমলমতি শিশুসহ ছাত্রছাত্রী ও গর্ভবতী মায়েরা। ইতিমধ্যে অনেকে সেই ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। মশার সমস্যা নিয়ে প্রতিদিন নানা রকম পোষ্টও হচ্ছে স্যোশাল মিডিয়াতে। বিরক্ত নগরবাসী, কার্যকর প্রতিকার নেই।


নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বাসিন্দাদের মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পেতে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন? এমন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বাসিন্দাসহ সরকারী দলীয় নেতৃবৃন্দ। তারা বলছেন,‘মশার হাত থেকে সিটি কর্পোরেশনের উচিত কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া এবং পর্যাপ্ত মশক নিধন কর্মী নিয়োগ করা’।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট খোকন সাহা বলেন, ‘মশার উপদ্রব নগরে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মশা নিধনের উৎপত্তিস্থল এই শহরেই। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে অপরিচ্ছন্ন জলাশয় ও ময়লার ভাগাড় থেকে মশার উৎপত্তি হচ্ছে। মশা নিধনে সিটি কর্পোরেশনের ব্যাপক পরিকল্পনার ও মশা নিধনের ঔষধ প্রয়োগের প্রয়োজন। এছাড়াও প্রতি এলাকাতেই মশক নিধনের কর্মী নিয়োগ করা প্রয়োজন, নতুবা মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাবে। সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মনে রাখা উচিত নগরবাসী নগরের কর পরিশোধ করেন। নগরবাসীকে মশার হাত থেকে রক্ষা করা প্রয়োজন। নগরবাসীকে কোন অবস্থাতেই নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। সিটি কর্পোরেশনের মেয়রসহ সকল কাউন্সিলরদের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি’।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো.মহসিন ভূঁইয়া বলেন, ‘মশার উপদ্রব আমার এলাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধুমাত্র আমার ওয়ার্ডেই না অন্যান্য এলাকায় বসবাসরত আমার আত্মীয়রাও জানিয়েছে তাদের এলাকায় মশার উপদ্রবের কথা। আমার ওয়ার্ড নয়, মেয়রের প্রতি অনুরোধ সব ওয়ার্ডের মশা নিধনের বিষয়ে সুদৃষ্টি দিবেন। নতুবা আমরা তার পাশে থাকবো না’।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৪ নং ওয়ার্ডের অধিবাসী শেখ খাজা রহমান ব্যাপারী বলেন, ‘মশার জ্বালায় আমরা অতিষ্ঠ, ঘরে বসা যায় না। জনপ্রতিনিধিরা মশার সমস্যা সমাধান করতে না পারলে আগামীতে তাদের ভোট দিবো না’।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৫ নং ওয়ার্ডে বসবাসরত তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘দিনের বেলায় মশার যন্ত্রণায় ঘরে বসা যায় না। ড্রেন থেকে প্রচুর মশা আসে’।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৬ নং ওয়ার্ডের আওলাদ আলী বলেন,‘ড্রেন আর পুকুরের কচুরীপানা থেকে মশার বংশ বিস্তার হচ্ছে। অবিলম্বে ড্রেন ও পুকুর পরিষ্কারসহ মশার ঔষধ ছিটানো দরকার’।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ওয়ার্ডের জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করা দরকার। এই ময়লা আর্বজনা থেকে বংশ বিস্তার হচ্ছে। এলাকার কাউন্সিলরের প্রতি অনুরোধ তিনি যেন ব্যবস্থা নেন’।

সম্প্রতি জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মশালায় বলা হয়,‘ডেঙ্গু রোগ বহনকারী এডিস মশা ভদ্র। এটি রাতের অন্ধকারে থাকতে পছন্দ করে ও দিনের আলোতে মানুষকে কামরায়। বৃষ্টির পানি পরে জমে থাকা কোন পাত্রে , ডাবের খোলা খোলসের মধ্যে এডিস মশা ভালো ভাবে বংশবিস্তার করে। আমাদের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে পারলে শহরকে ডেঙ্গু মুক্ত করতে পারবো’।

0