মাকে জবাই করলো বাবা, রাজসাক্ষী ৪ বছরের ছেলে (ভিডিওসহ)

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: সন্তান বড় হয়ে উঠায় বাবা-মা’র গুরুত্ব কোন ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে সন্তানের জন্ম থেকে ১২ বছর পর্যন্ত শিশুদের বাবা-মার আদর স্নেহে বড় হয়ে উঠতে হয়। এতে করে সমাজে চমৎকার মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এরা। তবে যে বয়সে হাসি-খুশিতে মা-বাবার সাথে খেলার ছলে একটি শিশুর বড় হয়ে উঠার কথা, সেখানে শিশু অনিম এক ভয়াবহ ঘটনার সাথে সম্মুখীন হয়েছে। ৪ বছর বয়সে দেখেছে, বাবার হাতে মাকে জবাই করে হত্যার দৃশ্য। এমনকি বাবার বিরুদ্ধে দিয়েছে সাক্ষী।

এই শিশুই বলেছে, ‘মাকে জোড় করে বাথরুমে নিয়ে যায় বাবা, রনি ভাইয়া ও মীমের মা। পরে আমি বাথরুমে গিয়ে দেখি ভাইয়া ও আন্টি মাকে ধরে রেখেছে ও বাবা বটি দিয়ে মার গলা কেটে দিচ্ছে। মা মরে যায়। এরপর বাবা আমাকে মুখে আঙ্গুল রেখে বলে ‘চুপ কর!’’

রোববার (৫ই মে) দুপুর ১২ টায় নারায়ণগঞ্জের প্রেসক্লাবে এভাবেই নিজের মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর কথা বলছিল অনিম। এর আগে, মেয়ে উর্মির হত্যার বিচারের জন্যে এক সংবাদ সম্মেলনের জন্যে ডাক দেন অনিমের নানী নূর আক্তার।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ের হত্যার মূল আসামী মো. আজগর আলী ২৩ এপ্রিল হাই কোর্টে জামিনের জন্য আপিল করলে মহামান্য আদালত আপিল বাদ করে দেয়। কিন্তু হাই কোর্টের জামিন বাতিল করলেও কৌশলে নিম্ন আদালত থেকে জামিন করিয়ে নেয়। এখন আমি আমার নাতির সুরক্ষার জন্যে দুশ্চিন্তায় আছি।’

Geplaatst door Live Narayanganj op Zondag 5 mei 2019

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কুয়েতে বেশ সময় ধরে কাজ করেছেন নূর আক্তার। এক মাত্র মেয়ে মোসা: জান্নাতুল ফেরদেীস উর্মির সুখের জন্য ঢাকায় ১২ লক্ষ টাকা খরচ করে একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করে দেন। কিন্তু ২০১৬ সালে ৫ নভেম্বর ছোট ভাইয়ের বউয়ের পরকীয়া প্রেমের টানে উর্মিকে হত্যা করে স্বামী মো. আজগর আলী। এ অপরাধে সঙ্গী ছিল আলীর ভগ্নে রনি ও রোকসানা। তারা মিলে দুপুর ১২ টায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বঁটি দিয়ে জবাই করে উর্মিকে হত্যা করে। পরে লাশটি বাথরুমে রেখে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে নূর আক্তারের স্বামী মো. খোকন বংশাল থানায় একটি মামলা করেন। মামলার চার্জশীটে মো. আজগর আলী, রোকসানা ও রনিকে বাদ দিয়ে একটি মন গড়া চার্জশীট প্রদান করে। বর্তমানে মামলাটি সিআইডিতে তদন্তধীন আছে। হাই কোর্টে বাবার বিরুদ্ধে সাক্ষী দেয় শিশু অনিম। তারই প্রেক্ষিতে ২৩ এপ্রিল হাই কোর্টে মো. আজগর আলীর জামিন না মঞ্জুর করা হয়।

সম্মেলনের শেষে নূর আক্তার বলেন, ‘আমি আমার মেয়ের হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। যারা এ হত্যার সাথে জড়িত তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্যে আমি বিচার বিভাগের কাছে প্রার্থণা করছি।’

0