মাদক ব্যবসায়ী ও অনুপ্রবেশকারী নই: কাউন্সিলর দুলাল

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন কাউন্সিলর দুলাল প্রধান। তার ভাষ্য মতে, ‘আমি ষড়ন্ত্রের শিকার’।

বুধবার (২০ নভেম্বর) বিকেলে বন্দরে ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে দুলাল প্রধান দাবি করেন- আনোয়ার হোসেনকে অসম্মান করে কথা বলেনি, তিনি মাদক ব্যবসায়ী ও অনুপ্রবেশকারী নই।

এই সংবাদ সম্মেলনে তার সাথে ছিল না আওয়ামী লীগ বা সহযোগি সংগঠনের কোনো নেতাকর্মী।

দুলাল প্রধান বলেন, ‘সংসদ সদস্য শামীম ওসমান আমার রাজনৈতিক গুরু দাবি করে বলেন, আমার রাজনৈতিক গুরুর রাজনৈতিক গুরু আনোয়ার হোসেন। তাকে আমি অনেক সম্মান করি। তাকে নিয়ে কোনো ধরণের অসম্মান করে কথা বলতে পারি না। আমি তাকে নিয়ে কোনো কটুক্তি করিনি। জনৈক সাংবাদিক এ সব লিখেছে।’

মাদক ব্যবসা নিয়ে বলেন, ‘ঈদের আগে নারায়ণগঞ্জে যেভাবে মিথ্যা মামলা দেওয়ার হিড়িক পড়েছিল- আমি সেই মামলার শিকার। আমার কাছে তখন ৫ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল। সেটি দিইনি বলেই আমাকে মাদক ব্যবসায়ী বানানো হয়েছে। আমি ষড়ন্ত্রের শিকার।’

কাউন্সিলর দুলাল প্রধান নিজেকে অনুপ্রবেশকারী নন দাবি করে বলেন, আমি তোলারাম কলেজের বাদল-হেলাল পরিষদ আমল থেকে ছাত্রলীগ করি। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সৈনিক। সারা জীবন আমি আওয়ামী লীগের কর্মী হয়ে থাকতে চাই। সাংসদ শামীম ওসমানের কর্মী হওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা আওয়ামী লীগের কর্মী হয়ে কাজ করে যাচ্ছি। এটা অনেকের কাছে সহ্য হচ্ছে না। তাই আমার বিরুদ্ধে এভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

‘৫ কোটি টাকা চেয়ে না পাওয়ার কারণে পুলিশ তাকে মাদক ব্যবসায়ী বানিয়েছিল’ এ প্রসঙ্গে সে সময় কোনো রকম প্রতিবাদ কেন করেননি এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাকে সে ব্যাপার বলার কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ থেকে প্রতিবাদ করা হয়েছিল। এলাকার মানুষ এ প্রসঙ্গে প্রতিবাদ জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছিলেন।

প্রসঙ্গত, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনকে নিয়ে গণমাধ্যমে তীর্যক মন্তব্য করায় শহরের দুই নং রেলগেট এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ১৯ নভেম্বর প্রতিবাদ সভা করে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এই প্রতিবাদ সভাতে কাউন্সিলর দুলালকে মাদক ব্যবসায়ী ও দলের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে দাবি করা হয়। একই সাথে দল থেকে তার বহিস্কার দাবি করে বক্তব্য রাখেন দলটির নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি এ সংক্রান্ত একটি বিবৃতিও গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে হাতে দেওয়া হয়।
এর আগে ১ আগস্ট নবীগঞ্জ খেয়াঘাট এলাকা থেকে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি টীম কাউন্সিলর দুলালসহ ৬ জনকে আটক করেছিলো। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মাদক আইনে মামলা দায়ের হয়। মামলায় পুলিশ তাকে আদালতে প্রেরণ করলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছিলেন।

0