মূলা ৮-১০ তলা করবো: খোকন সাহা

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ‘গত কয়েকদিন যাবৎ আইনজীবীদের অনুরোধে মাঠে থেকে কাজ করেছি ছোট ভাইদের সাথে। ওরা উন্নয়ণের কথা বলেছে। আজকেও তাদের (বিএনপি) দাওয়াত দিয়েছিলাম। আসেন আমাদের সংসদ সদস্য আসবেন। রাতে ডিনার টা আমাদের সাথে করেন। কিন্তু উনারা আসেন নাই। উনারা ষড়যন্ত্র করছে বসে বসে। বিএনপির বন্ধুরা বললেন মূলা ঝুলিয়ে রেখেছি আমরা। সেলিম ভাই ১ কোটি টাকা ঘোষনা দিয়েছিলেন। কিন্তু ৩ কোটি ১০ লাখ নগদ টাকা দিলেন নিজস্ব তহবিল থেকে। উনি টাকা দিলেন বিল্ডিং করলেন আর উনারা বললেন এটা মূলা ঝুলিয়ে রাখছি। আর এই জায়গা দিয়েছিলেন জননেতা শামীম ওসমান যাকে নিয়ে আমরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে গর্ব করি। আমি তাদের উদ্দেশ্য বলতে চাই এই মূলা দিয়ে তো ২ তলা হয়েছে, আগামীতে এই মূলা আমরা ৮/১০ তলা করবো’।

২৬ জানুয়ারী ( মঙ্গলবার ) জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে আওয়ামীলীগ পন্থী (মোহসীন-মাহবুব) প্যানেলের আয়োজিত এক পরিচিতি সভায় এ কথা বলেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট খোকন সাহা।

এ্যাডভোকেট খোকন সাহা আরও বলেন, ‘আমি যখন বারের সেক্রেটারি ছিলাম তখন বারের ফান্ডে রেখে ছিলাম ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। আর মোহসীন-মাহবুবের প্যানেল রেখে এসেছে ১৪ কোটি টাকা। আজকে তারা (বিএনপি) নির্বাচন করতে চান। কারণ আইনজীবীদের ফান্ডে ১৪ কোটি টাকা সেখানে তাদের দৃষ্টি পড়েছে। এই টাকা তারা নিতে চায়। কারণ এটা তাদের পুরোনো অভ্যাস। সবার মনে আছে সেই ২ লাখের কথা। বেশী উত্তেজিত করবেন না। আমাদের পিপি সাহেব এবার ১০ লাখ দিবে প্রয়োজনে। বইসা যাইবেন আপনারা। যে প্যানেলে সভাপতি ২০০০ সালে বারের নির্বাচনে ২ লাখ টাকা নিয়ে ১৬জনকে রাস্তায় ফেলে বাড়িতে গিয়ে বসে ছিলেন, সে নাকি সভাপতি। টাকাটা অবশ্য দিয়েছিলেন পিপি সাহেব আমি দেই নাই। পিপি সাহেব আজকেও বললো, ও চাইলে আজকেও ১০ লাখ দিয়ে দিবো’।

খোকন সাহা বলেন, ‘আজাদ বিশ্বাস ওনাদের বারের নেতা ২০০২ সালে বার থেকে ২ লাখ টাকা লোন নিছে। আদো লোনটা পরিষদ হয়নি। মোহসীন আমাকে কথা দিয়েছে এই ২ লাখ টাকা আমি বারে আবার জমা দেওয়াবো আজাদ বিশ্বাসের হাত দিয়ে ব্যাংক সুদসহ। এটাই হলো ওদের চরিত্র। আরেকজন আছে আমাদের ভাই জাকির হোসেন। সে তো হাত পা ভেঙ্গে ফেলবে। আমি বলছি হাত পা ভাঙ্গার অভ্যাস আপনাদের। আপনারা ক্ষমতায় আসার পর যে অপকর্ম করছেন, সিনিয়র আইনজীবী হাবিবুর রহমান হাবিবের পা ভাঙ্গছেন, এড. কাউসার আলী সাহেবের পা ভেঙ্গেছেন, আমাদের বোন জেসমিন সে একজন মহিলা তার গাঁয়ে হাত দিছেন। আমাদের পিপি সাহেবের চেয়ার টেবিল ফেলে দিয়েছেন। আপনাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আপনাদের আইনজীবীরা ধরতেন অপরাধের জন্য। আমরা সেখানে রক্ষা করেছি আপনাদের। আমরা আপনাদের বাড়ি থেকে ডেকে এনে কোর্ট প্রাঙ্গনে ঢুকিয়েছি। এটা ইতিহাস, যেটা বাস্তব, যেটা সত্য’।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা শেখ হাসিনার কর্মী, আমাদের নেতা শামীম ওসমান। তিনি আমাদের ধৈর্য ধরতে শিখিয়েছেন। জাকির সাহেব! আমাদের পা ভাইঙ্গেন, তারপর আবার রবিবার থেকে কোর্টে আইসেন আপনাদের কেউ কিছু বলবে না। কারন, আপনারা সন্ত্রাসী দল এটা আপনারা প্রমাণ করেছেন। আজকে শুনলাম রূপগঞ্জ থেকে ৫শ’সন্ত্রাসী আনবেন, সাক্ষী আছে সাধারণ আইনজীবীরা। আপনারা ৫শ’কেন ৫ হাজার আনেন আমাদের কোনো আপত্তি নাই। আজকে কয়েকটা বাড়িতে মিটিং হচ্ছে কিভাবে নাশকতা করা যায়। আইনজীবী সমিতি নির্বাচন কিভাবে বন্ধ করা যায়। আমরা নিরপেক্ষ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। আসেন মাঠে পারলে গোল দিয়ে যান, আর নইলে গোল খেয়ে যান। বাংলাদেশের জনগণ খালেদা জিয়াকে ৪ টা আসন দিয়েছিলো। আর এই ফোরামের মানুষদের বলতে চাই যদি পাস করতে না পারেন, তাহলে বুড়িগঙ্গা পারি দিয়া বিক্রমপুর চইলা যান। তারা বলেছে উন্নয়ন করবে আমাদের মোহসীন বলেছে কি উন্নয়ন করবেন, তখন তারা উন্নয়ন খুঁজে পায় না। কারণ সব উন্নয়ন করে ফেলছে আমাদের আওয়ামীলীগ, সেলিম ওসমান, শামীম ওসমান। আপনাদের কাছে অনুরোধ আপনারা ২৮ তারিখে আমাদের প্যানেলকে ভোট দিবেন, আর আমি বিশ্বাস করি আপনারা পূর্ণ প্যানেলে ভোট দিবেন।

এসময় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান, জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

0