মেয়াদ শেষেও স্বপদে বহাল পাগলা স্কু‌লের প্রধান শিক্ষক

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও স্বপদে বহাল রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ব্রজেন্দ্র নাথ সরকার। তার বিরুদ্ধে অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন।

ফতুল্লার কুতুবপুরে ১৯৭৬ সালে স্থাপিত হয় পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে পর্যায়ক্রমে শিক্ষা ও কাঠামগত উন্নিত হয়। বর্তমানে বিভিন্ন শাখায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা হাজারেও বেশি।

প্রাপ্ত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ব্রজেন্দ্র নাথ সরকারের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় গত ১৪ জানুয়ারি তার ৬০ বছর পূর্ণ হয়। সে অনুযায়ী তার চাকুরির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমানেও ওই পদে বহাল থাকায় তার বিরুদ্ধে নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগ করছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

এ প্রসঙ্গে একজন অভিভাবক বলেন, অধ্যক্ষ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি ও ফরম পূরণে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফিসের চেয়ে দ্বিগুণ অর্থ আদায় করাসহ টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে প্রবেশ পত্র আটকে রেখে টাকা আদায় করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করে আসছেন।

“শিক্ষামন্ত্রলায়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের স্মারক নং ৩৭.০০.০০০০.০৭৪.০৩০.০০১.২০১৭.২৪৫ তারিখ ১২ জুন ২০১৮ ইং মোতাবেক রেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ এর ১১.৬ ধারা অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হবার পর কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধান/সহ প্রধান/ শিক্ষক কর্মচারিকে কোনো অবস্থাতেই পূর্ণ নিয়োগ কিংবা চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যাবে না।”

এই নীতিমালা জারির পরেও চতুর ওই প্রধান শিক্ষক ব্রজেন্দ্র নাথ সরকার স্বপদে থাকার জন্য স্থানিয় সংসদ সদস্য ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শামীম ওসমানের কাছ থেকে ২ বছরের জন্য পুনঃনিয়োগ পত্র নিয়ে আসেন। যা নীতিমালার পরিপন্থী।

অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক ব্রজেন্দ্র নাথ সরকার লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘নীতি মালার অনেক ফাঁক আছে। যেমন সংসদ সদস্যরা সভাপতি হতে পারে না। কিন্তু ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা যদি করে, তাহলে পারে। ঠিক একই ভাবে আমাকে যে নিয়োগ দিয়েছে, সেটা বেসরকারিও না, আবার চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগও না। খন্ডকালীন শিক্ষক বলতে পারেন।’

এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম লাইভ নারায়ণগঞ্জকে জানান, শিক্ষামন্ত্রলায়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের স্মারকে যে কথা বলেছে; এটাই হলো এক মাত্র নিয়ম। এর বাহিরে আমার তথা, কারো কথাই চলবে না। কিন্তু স্কুল পরিচালনা পরিষদ গুলোতে সাবেক মন্ত্রী, এমপি, সচিব কিংবা পাওয়ারফুল লোকজন থাকেন। তারা ইচ্ছায়, অনিচ্ছায়, যে ভাবে হক এ কাজ গুলো করছেন। ইতোমধ্যেই তাদেরকে জানিয়েছি, চিঠির মাধ্যমেও জানানো হয়েছে কিন্তু কাজ হয়নি। তাই জেলা প্রশাসককেও জানানো হয়েছে। আশা করি অতি শীঘ্রই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0