মোবাইলে লুডু খেলার টাকা নিয়ে খুন

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: রমজান ও সুজনের সঙ্গে ট্রাকে বাজিতে লুডু গেম খেলতে বসেন সবুর। রাত সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার দিকে লুডু খেলায় সবুরের কাছে হেরে যান সুজন ও রমজান। পরে সুজন ও রমজান খরচের জন্য সবুরের কাছে কিছু টাকা চান। কিন্তু সুবুর টাকা না দিলে তাদের মধ্যে মারামারি হয়। একপর্যায়ে সবুরকে ট্রাকের ভেতরে থাকা রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করা হয়।

এরপর পুলিশের তদন্তে করতেই কেটে গেছে ২ মাস। গত ৬ সেপ্টেম্বর ফতুল্লা থানার পঞ্চবটি এলাকা থেকে মো. সুজনকে গ্রেপ্তারের পর বেড়িয়ে আসে হত্যার রহস্য। এর আগে, গত ৪ জুন দিবাগত রাতে ব্রাহ্মণাবড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ৫ জুন সকালে চরচারতলা গ্রামের সারকারখানা সড়কে একটি ট্রাক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা হনুফা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে আশুগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণাবড়িয়া জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুর রহমান সংবাদ সম্মেলন করে ট্রাকের হেলপার সবুর (২০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ সব তথ্য জানান।

এসপি আনিসুর রহমান জানান, মামলাটি প্রথমে আশুগঞ্জ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শীবাস চন্দ্র দাস তদন্ত করেন। পরবর্তীতে আসামি গ্রেফতার ও হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য মামলাটি জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এসআই মো. সোহেল কামালের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ক্লুহীন এই হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে অনুসন্ধানে জানা যায়, চরচারতলা গ্রামের নিলু মিয়ার ছেলে মো. সুজন (২৮) এবং একই গ্রামের মো. মান্নানের ছেলে মো. রমজান (২০) হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

তিনি আরও জানান, গত ৬ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার পঞ্চবটি এলাকা থেকে আসামি মো. সুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আসামিরা হত্যকাণ্ডের বিষয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জবানবন্দিতে তারা জানান, নিহত সবুর প্রায়ই সুজন ও রমজানের সঙ্গে বাজিতে মোবাইল ফোনে লুডু গেম খেলতো। গত ৪ জুন দিবাগত রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে রমজান ও সুজনের সঙ্গে ট্রাকে বাজিতে লুডু গেম খেলতে বসেন সবুর। রাত সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার দিকে লুডু খেলায় সবুরের কাছে হেরে যান সুজন ও রমজান। পরে সুজন ও রমজান খরচের জন্য সবুরের কাছে কিছু টাকা চান। কিন্তু সুবুর টাকা না দিলে তাদের মধ্যে মারামারি হয়। একপর্যায়ে সবুরকে ট্রাকের ভেতরে থাকা রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আলমগীর হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর দফতর) মো. আবু সাঈদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) মেহেদী হাসান, সহাকারী পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) আলাউদ্দিন চৌধুরী ও ডিআইও-১ (বিশেষ শাখা) ইমতিয়াজ আহম্মেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

0