মোস্তফা কামালের বাড়িতে টর্চার সেল, রাতভর নির্যাতন

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: অপহরণের পর রুবেল নামের এক দিনমজুরকে আটকে রাখা হয় ফতুল্লার নব্য আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা কামালের বাড়িতে। দাবি করা হয় ৩০ হাজার টাকা। দিতে না পারায় করা হয় উলঙ্গ, খাওয়ানো হয় মাদক। এরপর হাত পা বেধেঁ রাতভর চলে অমানবিক নির্যাতন। দেওয়া হয় ১০ তলা ভবন থেকে ফেলে হত্যার হুমকিও।

শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ফতুল্লা থানায় এসে এ ভাবেই স্বামীকে নির্যাতনের বর্ননা কান্নাজড়িত কন্ঠে দিচ্ছিলেন স্ত্রী মোসা. ফারজানা বেগম।

এ ঘটনায় রাতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। প্রধান আসামী করা হয় মোস্তফা কামালের বড় ভাই আবুল হোসেনের ছেলে মো. রুবেল (৩৫)কে। এছাড়াও আসামী করা হয় সাইফুল (৪০) ও সাব্বিরসহ অজ্ঞাত আরো ৮ থেকে ১০ জনকে।

স্বামী রুবেলের বরাত দিয়ে মোসা. ফারজানা বেগম জানান, মোস্তফা কামালের বড় ভাই আবুল হোসেনের ছেলে মো. রুবেল আমার দেবর সুমনের ভায়রা। প্রায় ৫ মাস পূর্বে দেবরের স্ত্রীর চিকিৎসার কাজে নিযুক্ত রুবেলের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ধার নেন। কিন্তু সময় মত পরিশোধ না করে গ্রামের বাড়ি চলে যায়। এ ঘটনায় সুমনের কাছে টাকা না পেয়ে টার্গেট করা হয় বড় ভাই রুবেলকে।

গত ১৬ অক্টোবর রাত ৯টায় অভিযুক্ত রুবেল, সাইফুল ও সাব্বিরসহ ৮ থেকে ১০ জন লোক বাসায় আসে। প্রথমে বাড়ি থেকে বের হতে না চাইলেও বেয়াই (ছোট ভাইয়ের বায়রা) রুবেল এসে ডাক দিলে সরল মনে বাসা থেকে বেড়িয়ে যায়। এসময় কোমরে দুই জনে পিস্তল ঠেকিয়ে তক্কারমাঠ বরফকল সংলগ্ন রি-রোলিং মেইলের সামনে কিছুক্ষন মারধর করা হয়। এরপর খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম সংলগ্ন বটগাছের সামনে থেকে একটি মাইকো গাড়িতে করে চোখ বেধেঁ নিয়ে যায় লামাপাড়ার মেট্রো গার্মেন্টেসের সামনে ১০ তলা (মোস্তফা কামালের নির্মানাধীন) বাড়ির ছাদে। সেখানেই রুবেলকে আটকে রেখে বাড়িতে ফোন করে টাকা দাবি করা হয়। পরিশোধ না করায় চলে নির্মম নির্যাতন। পরদিন ১৭ অক্টোবর সকাল ১০টায় বাড়ীওয়ালা তামিম মাস্টারের মধ্যস্ততায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয় রুবেলকে। এরপর খানপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে প্রেরণ করা হয় ঢাকায়। এখনও রুবেল ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, মোস্তফা কামাল এক সময় বিএনপির রাজনীতি করতেন। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পরেন। এরপর বাগিয়ে নেন ফতুল্লা থানা কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক পদটি। লামাপাড়ার মেট্রো গার্মেন্টেসের সামনে ১০ তলা (মোস্তফা কামালের নির্মানাধীন) বাড়িটি থেকেই পরিচালনা করা হয় তার রাজনৈতিক সভা সমাবেশ। এছাড়া তার ছেলে, ভাতিজাসহ বিভিন্ন গ্রুপ এ বাড়িতে বসেই নানা কর্মকান্ড চালনা করেন।

এদিকে, আহত রুবেলের বোন জানান, ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে আসামীরা হুমকি দিচ্ছে। বলছেন, তোরা যদি থানা পুলিশ কিংবা কোন ধরণের বিচার শালিশী করিস, তাহলে তোদের পরিবারের সবাইকে জীবনে শেষ করে ফেবো। আমরা আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা কামালের লোক। তোরা কেউ আমাদের কিছু করতে পারবি না।

এদিকে, অভিযোগের পরেই ফতুল্লা থানা থেকে একটি টিম বাদিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে মোস্তফা কামালকে বিষয়টি সমাধানের জন্য দায়িত্ব নিতে বলেন।

আওয়ামী লীগ নেতা ও ফতুল্লা থানা কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল জানান, এখনে আসলে আমার কিছু না। আমার সাথে বড় ভাইয়ের ছেলে রুবেলের সাথে আমাদের তেমন কোন সম্পর্ক নেই। তাছাড়া রুবেলের সাথে ভুক্তভোগীর পারিবারিক সর্ম্পক। গতকাল (শুক্রবার) পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করতে বাসায় এসেছিলেন। পরে আমাকে সমাধানের দায়িত্ব দিয়ে গেছে। আমি আমার ব্যবসায়ীক কাজে ব্যস্ত। তাই সমাধান করতে একটু সময় লাগবে।

এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন জানান, ঘটনাস্থলটি মোস্তাফা কামালের নির্মাণাধীন বাড়ি। বিষয়টি নিয়ে আমার এক জন এসআই তদন্ত গিয়েছিল। ভুক্তভোগী অভিযুক্তের আত্মীয়। পারিবারিক ভাবে মিমাংসা করার জন্য প্রস্তাব রাখা হয়েছে। যদি তারা বিচার না পায়ে অভিযোগ করে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0