‘যখন বড় দুর্ঘটনা ঘটবে তখন সব নড়বে’ (ভিডিও সহ)

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: প্রতিবার ট্রেন আসা যাওয়ার সময়ে দায়িত্বরত কর্মী বার ফেলে ঠিকই। যানাবাহনও থেমে যায় নিয়ম মেনে। তবে এর মধ্যেও কেউ কেউ অনিয়ম করে সবার চোখের সামনেই। প্রতিদিনই এমন অনিয়ম হয়ে আসলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

মঙ্গলবার ( ১৬ জুলাই) দুপুরে শহরের চাষাঢ়া রেল ক্রসিং পার হচ্ছিলো নারায়ণগঞ্জ রেল স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেন। এর আগেই দুই পাশে ট্রাফিক বার ফেলা হয়। বড় যানবাহনগুলো নিয়ম মেনে দাঁড়িয়ে গেলেও সিএনজি, মোটরসাইকেল ও রিকশাওয়ালারা নিয়ম না মেনে রং সাইডে অবস্থান নেয়।

নিয়ম অনুযায়ী গাড়ি থাকবে বাম পাশে। ফতুল্লা থেকে আসা বড় যানবাহনগুলো রেল ক্রসিংয়ের সামনে থেমে গেলে অনেক মোটরসাইকেল তা না মেনে তারা ডান পাশে অবস্থান নেয়। একইভাবে শহর থেকে আসা মোটরসাইকেলগুলো রং সাইডে এসে ট্রাফিক বারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। মোটরসাইকেল চালকদের পাশাপাশি রিকশাওয়ালারাও একই রকম কান্ড করে। ট্রেন চলে যাওয়ার পর বার উঠানোর সাথে সাথে রং সাইডে থাকা দুই পাশের মোটরসাইকেল ও রিকশা দ্রুত চলতে শুরু করে।

একইভাবে ক্রসিংয়ে ট্রাফিক বার (ব্যারিকেড) ফেলার পরও অনেক মানুষ থেমে থাকে না। তারা ওই বারের নিচ দিয়েই চলাচল করে। অনেক সময় ট্রেনের খুব সামনে দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পার হতে দেখা যায়।

দায়িত্বরত রেলকর্মীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, আগে যাওয়ার জন্য প্রতিদিন যতবার ট্রেন আসে ততবারই এরকম কান্ড করে মোটরসাইকেল, রিকশা ও কিছু সিএনজি। সড়কের দুই পাশেই অবস্থান নেয়।

স্থানীয়রা জানান , এ চিত্র প্রতিদিনের। এ সড়কে চলাচল করেন এমন কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ট্রাফিক বার ফেলার পর বড় যানবাহানগুলো নিয়ম মেনে একটু দূরে অবস্থান নেয়। পেছনে থাকা সিএনজি, মোটরসাইকেল ও রিকশা চালকরা এ সুযোগ নিয়ে ওভারটেক করে সামনের ফাঁকা জায়গায় চলে আসে। এরপর ওই জায়গা পূরণ হলে পরে রং সাইডে যায়।

চাষাঢ়া এলাকার আমিরুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী জানান, এভাবে প্রতিদিন সবার চোখের সামনে আইন অমান্য করলেও কেউ কিছু বলে না। এ কারণে দিন দিন এমন কান্ড আরও বাড়ছে।

তাঁর মতে, রেলক্রসিংয়ে বার ফেলার পর যারা অনিয়ম করে চলাচল করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া দরকার। সোমবার (১৫ জুলাই) চাষাঢ়া রেল ক্রসিংয়ের সামনে রিকশায় বসা এক ব্যক্তি মোটরসাইকেল ও রিকশাচালকদের এমন দৌরাত্ম দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি তার নিজের রিকশা চালককে এভাবে রং সাইডে যেতে নিষেধ করেন। আর ক্ষুব্দ কন্ঠে বলেন, ‘এখন কেউ কিছু বলে না যখন বড় দুর্ঘটনা ঘটবে তখন সব নড়বে’।

0