যাই করেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ভাগ দিতে হয়: মোহাম্মদ হাতেম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: সরকারি দপ্তরে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও হয়রানির শিকার হতে হয় বলে জানিয়েছেন নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

তিনি বলেন, ‘একটি প্রত্যয়নপত্রের জন্য একজন ব্যবসায়ী বিসিকের একটি দপ্তরে আবেদন করেন। কিন্তু এক মাসেও সেই প্রত্যয়নপত্র দেয়নি। উল্টো ৫০ হাজার টাকা ঘুষ চেয়েছেন সেই দপ্তরের কর্মকর্তারা। পরে আমি সেখানকার পরিচালককে ফোন করলে তিনি প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করে দেন। কিন্তু সেই স্বাক্ষর করা প্রত্যয়নপত্রটিও ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে আনতে হয়েছে।’

রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে রোববার (২ অক্টোবর) বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও জার্মান সাহায্য সংস্থা জিআইজেড আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ অভিযোগ করেন।

আরেকটি উদাহরণ দিয়ে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘এক মেগাওয়াট বা তার ওপরের জেনারেটর স্থাপন করতে হলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নিবন্ধন লাগবে। আমার একটা ইউনিটে ৫০০ কিলোওয়াটের একটা জেনারেটর বসালাম। কিন্তু সরকারি অডিটের সময় কর্মকর্তারা এসে বললেন, এটার জন্য বিইআরসির নিবন্ধন লাগবে। আমি বললাম, এটা তো এক মেগাওয়াটের নিচে। তখন আমাকে বলা হলো, এক মেগাওয়াটের নিচে জেনারেটরের জন্য যে নিবন্ধন লাগবে না, এ মর্মে একটা সত্যায়ন লাগবে। তখন আমাকে বাধ্য হয়ে এ সত্যায়ন নিতে হলো। এর মানে হলো আপনি যা-ই করেন, কর্মকর্তাদের ভাগটা যদি তাঁদের না দেন, তাহলে আপনি ব্যবসা করতে পারবেন না।’

উক্ত অনুষ্ঠানে এমন অভিযোগ করেন আরও অনেক শিল্প উদ্যোক্তারা। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) পরিচালক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান, সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলএফএমইএবি) সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন, বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফেরদৌস আরা বেগম ও জিআইজেডের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মাইকেল ক্লোডে প্রমুখ।