যে কারণে খোলা থাকবে নারায়ণগঞ্জের আদালতপাড়া

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিলেও অপরাধীদের অপরাধ কিন্তু থেমে নেই। অপরাধ প্রতিদিনই হচ্ছে। মানুষ বিচারহানীতায় ভুগবে না। সে জন্য অপরাধীদের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ রাখতে এবং খাদ্য-বস্ত্রের মতো আইনি সুযোগ-সুবিধা উপভোগ করা মানুষের একটি মৌলিক অধিকার। আর সে মৌলিক অধিকার পূরণের লক্ষেই খোলা থাকবে আদালতপাড়া।

দেশব্যাপী নোবেল করোনা ভাইরাস এর এমন পরিস্থিতেও আদালত খোলা রাখার বিষয়ে একটি বিশেষ প্রতিক্রিয়ায় এ সকল কথা বলেন আইনজীবীবৃন্দরা।

রোববার (২২ মার্চ) সুপ্রিম কোর্ট জেনারেল মো. আলী আকবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানা যায়, করোনার এমন পরিস্থিতিতে জামিন ও জরুরি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছাড়া সব বিচার কাজ মুলতবি করেছেন সুপ্রিম কোর্ট।

লাইভ নারায়ণগঞ্জকে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিলেও অপরাধীদের অপরাধ কিন্তু থেমে নেই। অপরাধ প্রতিদিনই হচ্ছে। করোনাভাইরাসের কারণে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, অফিস-প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অপরাধ সংঘটনের সুযোগ বেশি। অপরাধীদের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য আদালতের কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। এতে করে মানুষ বিচারহানীতায় ভুগবে না।

এছাড়াও তিনি আরও বলেন, সারা বিশ্বে এখন আতংকের নাম নোবেল করোনাভাইরাস। যদিও অন্যান্য রাষ্ট্রের মত বাংলাদেশে এখনও তেমন ভাবে ছড়ায়নি। তবুও আগে থেকে সতর্ক হয়ে করোনা প্রতিরোধে সরকার বিভিন্ন প্রকার দিক নির্দেশনা বা পরামর্শ দিচ্ছে এবং তা মেনে চলার জন্য অনেক প্রচার-প্রচারনা চালাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের সকল নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সবাইকে অনুরোধ করছি।

বিএনপিপন্থী আইনজীবী এড. শিপলু বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বর্তমানে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে জামিন ও জরুরি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছাড়া সব বিচার কাজ মুলতবির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মানুষের মৌলিক অধিকারের জন্য সীমিত সময়ের জন্য হলেও আদালত খোলা রাখতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট চাইলে আদালতের আরও কার্যক্রম কমাতে পারবে।

এদিকে, করোনার এমন পরিস্থিতিতেও আদালত খোলা বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েল বলেন, আদালত খোলা কিংবা বন্ধ; এ ব্যাপার গুলো নিয়ে আমার বলার কোন অধিকার নেই। সাধারণ জনগণ এ বিষয়ে কথা বলবে।

জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি এড. মুহাম্মদ মহসীন মিয়া বলেন, জরুরী ও বিশেষ কার্যক্রম গুলোরই শুনানী হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছাড়া আমরা কোন কিছু করতে পাড়বো না। কোর্টের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধের আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোর্টের এ বিশেষ কার্যক্রম চালু থাকবে।

বিএনপিপন্থী আইনজীবী অ্যাড. সরকার হুমায় কবির বলেন, চারদিকে করোনার এমন পরিস্থিতিতে আদালত বন্ধের জন্য সাধারণ আইনজীবীরা হাইকোর্টে রিট করেছে। শুনানিতে আদালত যা নিধার্রণ করা হবে সে অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

0