যে কারনে পাইকপাড়ার সেই দুই বাড়ির লোকজন কোয়ারেন্টাইনে

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৩নং ওয়ার্ডের রসুলবাগ এলাকা লকডাউনের পরে এবার নগরীর ১৭ নং ওয়ার্ডের পাইকপাড়ার দুইটি বাড়ির লোকজনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে জেলা সিভিল সার্জন এ বাড়ি দুইটির লোকজনকে হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশদেন ।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৭নং ওয়ার্ডের এ বাড়ি দুইটি রসুলবাগে করোনা ভাইরাসে নিহত শিউলী ওরুফে পুতুলের বাবা ও আত্মী স্বজনদের। এ দুই বাড়ির মানুষ অসুস্থ ও মৃত্যুর পর শিউলীর সংস্পর্শে এসেছিল।

এ দিকে, প্রথমে বাড়ি দু’টির মানুষদের লকডাউন করা হয়েছে; এমনটা নারায়ণগঞ্জ সদর ম‌ডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান জানালেও পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, লকডাউনের মতোই, তবে হোম কোয়ারেন্টাইন।

গত ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় বন্দর উপজেলার রসুলবাগের বাসিন্দা শিউলী নামের এক নারী তার বাবার বাড়ি পাইকপাড়ায় অবস্থান কালে শ্বাসকষ্ট ও জ্বর নিয়ে চিকিৎসার জন্য শহরের মন্ডলপাড়ায় অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। এ সময় ওই নারীকে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে নেবুলাইজ ও এক্স-রে ও রক্ত পরীক্ষা করা হয়। এক্স-রে রির্পোট দেখে করোনাভাইরাস সন্দেহ হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। হাপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাপাতালে নেওয়া হয়। তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কুর্মিটোলা হাসাপাতলে পাঠায় তাকে। কিন্তু পরিবারের লোকজন তাকে বন্দরের বাড়িতে নিয়ে আসে।

পরদিন ৩০ মার্চ ওই নারী আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। কুর্মিটোলা হাসপাতাল ওই নারীর নমুনা সংগ্রহ করে রাখে। গত ২ এপ্রিল আইইডিসিআর থেকে পরীক্ষার রির্পোট করোনাভাইরাস পজেটিভ আসলে বন্দরের অর্ধশতাধিক পরিবারকে লকডাউনে রাখা হয়।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বন্দরে যে নারী করোনা আক্রান্তে মারা গেছেন তিনি মৃত্যুর কদিন পূর্বে সিটি করপোরেশনের ১৭ নং ওয়ার্ডের পাইকপাড়া এলাকায় তার বাবার বাড়িসহ আরও এক আত্মীয়ের বাড়ি এসেছিলেন। ফলে এই দুটি বাড়ির একটি পূর্ণাঙ্গ বাড়ি এবং অপরটি এক বহুতল ভবনের একটি ফ্ল্যাটের চারজন করে আটজনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাদেরকে বাড়ির বাইরে বের না হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

0