যে ভাবে না.গঞ্জের অনেকেই প্রতারিত হচ্ছেন, সাবধান!

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ২৫ ফেব্রুয়ারি অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন আসে ফতুল্লার তক্কার মাঠ এলাকার গার্মেন্টস শ্রমিক নাদিম মোহাম্মদ আকাশের মোবাইলে। অন্য প্রান্ত থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তি আকাশকে জানান, তিনি বিআরটিসির পক্ষ থেকে লটারীতে বিজয়ই হয়েছেন ১২ লাখ টাকা। শুনেই অনেকটা আত্মহারা। কোন কিছু না ভেবেই শর্ত অনুযায়ী স্বরল বিশ্বাসে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা পাঠিয়েদেন বিকাশে। পরে ৯৫ হাজার টাকার একটি ম্যাসেজ আসে। কিন্তু টাকা আসেনি। বিষয়টি বুঝতে পেরে টাকা ফেরত চাইতে আরো টাকা দাবি করে অপর প্রান্তের লোকটি, না দেওয়ায় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়।

একই ভাবে ১৪ জানুয়ারি ফোন আসে গাবতলী নতুন বাজার এলাকার মো. মিন্টু আলীর মোবাইলে। অন্য প্রান্তের অজ্ঞাত ব্যক্তি নিজেকে বিকাশ অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আপনার বিকাশ একাউন্টের তথ্য হালনাগাদ করতে হবে। অন্যথায় একাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে।’ পরে ওই ব্যক্তির কথা অনুযায়ী বিভিন্ন ডিজিট প্রেস করি। ফোন কাটতেই দেখেন নিজের বিকাশ থেকে ৫৯ হাজার ৪৪৫ টাকা সেন্ড মানি হয়ে চলেগেছে।

শুধু নাদিম মোহাম্মদ আকাশ কিংবা মো. মিন্টু আলী নয়, এ ভাবে ডিজিটাল প্রতারণার শিকার ১৪ হাজার ৪৯৮ টাকা হারিয়েছেন উত্তর মাসদাইরের উম্মে হাবিবা আহমেদ (২৬)।

এছাড়া পশ্চিম ধর্মগঞ্জের তানিম আহমেদ রকি ১০ হাজার, পাগলা শাহীবাজারের মো. নাছির তালুকদার ৫৪ হাজার ৮০০, সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল ধনকুন্ডা এলাকার মো. আনোয়ার হোসেন ২১ হাজার ২৮০, রামারবাগ এলাকার মো. মোকাদ্দাস হোসাইন সরকার সুজন ২ হাজার ১৮২, পাইনাদির সিআই খোলা এলাকার মো. জয়নাল আবেদীন সুজন ৩২ হাজার ৬৬৪, দক্ষিন মাসদাইরের মো. মনিরুজ্জামানের ১৮ হাজার, নন্দলালপুরের বটতলা এলাকার মোসা. সোনিয়ার ১৫ হাজার, মাসদাইর তালা ফেক্টরী এলাকার মো. মোজাম্মেল হক ৫৮ হাজার ৮৯৭ ও মুসলিমনগর সাত ভাই মার্কেট এলাকার মোসা. মমতাজ বেগম ১৮ হাজার টাকা হারিয়েছে।

তবে, তাদের বেশির ভাগ ব্যক্তিকেই প্রতারকরা ফোন করে বলেছেন, ‘ আমি বিকাশ অফিসের কর্মকর্তা, আপনার বিকাশ একাউন্ট এর তথ্য পুনরায় হালনাগাদ করতে হবে।’

প্রতারণার শিকার নাদিম মোহাম্মদ আকাশ বলেন, ‘বহুবারই আমার কাছে এ ধরণের ফোন এসেছে, কখনই পাত্তা সেই নি। কিন্তু গতকাল (২৫ ফেব্রুয়ারি) আমার কি হলো, আমি নিজেও বুঝতে পারিনি। অজ্ঞাত ব্যক্তির দেওয়া শর্ত অনুযায়ী টাকা দিয়ে দিয়েছি। আমি হয়তো এ টাকা কখনই পাবো না। কিন্তু এ ধরণের প্রতারণার বিচার কি দেখতে পারবো।

ফতুল্লা মডেল থানা বিকাশের এ ধরণের প্রতারণা নিয়ে কাজ করেন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম। তার ভাষ্য মতে, ‘যে টাকা প্রতারকরা নিয়ে গেছে, সেটার সন্ধান করতে গিয়ে অনেক সময় দেখায় এর চেয়ে ৩ গুণ ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সরকার তদন্তের জন্য দিচ্ছে ৩ হাজার টাকা। তাই অনেক সময় সেবা দিতে চাইলেও বাস্তবতার কারণে এ প্রতারকদের ধরা সম্ভব হয়ে উঠে না।’

এ বিষয়ে বিকাশ থেকে জানানো হয়, বিকাশ একাউন্টের পিন নাম্বার কিংবা অ্যাপ ভেরিফিকেশন কোড কখনোই কাউকে দিবেন না। অন্যথায় আপনার টাকা ঝুঁকিতে পড়ে যাবে। মনে রাখবেন, বিকাশ কখনোই আপনার একাউন্টের পিন নাম্বার কিংবা ভেরিফিকেশন কোড জানতে চাইবে না।

এছাড়াও আপনি লোভ, ভয় অথবা ভুল বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে মোবাইলে অপরিচিত কাউকে নিজের টাকা বিকাশ করবেন না। তথ্য যাচাই করতে নিজের বিকাশ একাউন্টের ব্যালেন্স চেক করুন এবং যেকোন অনিশ্চয়তা এড়াতে কল করুন বিকাশ হেল্পলাইন ১৬২৪৭ নাম্বারে।

0