যে ভাবে হত্যা করে ড্রামে ভ‌রে রা‌খে লাশ

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ছোট খালুর প্রতিষ্ঠানে প্রথমে সবুজ ছিল বেতনভুক্ত কর্মচারী। তারপর ম্যানেজার। কিছু দিন পরে আড়াই লাখ টাকা দিয়ে ব্যবসায়ের লাভ্যাংশের ৪০ শতাংশের পার্টনার হন। বছর দেড় এক পারে আরও ৫ লাখ টাকা দিয়ে ৫০ শতাংশের পার্টনার হন। কিন্তু পাচ্ছিল লাভ্যাংশের ৪০ শতাংশ। তার উপর খালার ৯ বছরের নাবালিকা মেয়েকে বিবাহের প্রস্তাব পান। কিন্তু অস্বীকার করায় হিসাব নিকাশ বুঝিয়ে দেওয়া চাপে পরতে হয় তাকে। এতেই রাগে-ক্ষোভে খালুকে শ্বাসরোধ করে খুন করে সবুজ।

সোমবার (৬ জুন) দুপুর ১২ টায় সাইনবোর্ড কার্যালয়ের প্রেস বিফ্রিংয়ে এ কথা বলেন নারায়ণগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পুলিশ সুপার এ আর এম আলিফ হোসেন।

এর আগে ৫ জুলাই আসামী আদালতে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেছেন।

আসামী রফিকুল ইসলাম সবুজ তারাবো এলাকার ইয়াকুবের ছেলে। আর নিহত হেকমত আলী (৪৫) রূপগঞ্জ থানার কালাদী এলাকার মৃত. কদম আলীর ছেলে ও আসামীর খালু।

গত ৪ এপ্রিল নিখোঁজ হন হেকমত আলী। এরপর ১৪ এপ্রিল ভিকটিম হেকমত আলীর স্ত্রী রোকসানা বেগম বাদী হয়ে ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম সবুজসহ ৪ জনকে আসামী করে রূপগঞ্জ থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ২৫(৪)২০। ১৫ এপ্রিল পুলিশ মামলার প্রধান আসামী সবুজকে রাজধানীর ডেমরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ও জেলে পাঠায়।

প্রায় ৩ (তিন) মাস জেলে থাকা অবস্থায় পিবিআই নারায়ণগঞ্জ গত ২৯ জুন আসামী সবুজকে রিমান্ডে আনে। পিবিআই পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আসামী সবুজের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ২ জুলাই আসামী সবুজের দেখানো জাগায় থেকে ভিকটিম হেকমত আলীর পঁচা গলা লাশটি উদ্ধার করা হয়।

পিবিআই পুলিশ সুপার এ আর এম আলিফ হোসেন বলেন, নিহত হেকমত আলী আসামি সবুজের ছোট খালু। নিহতের একটি মোটর সাইকেল পার্টেসের দোকান ছিল। সে দোকানে আসামি বেতনভূক্ত কর্মচারী ছিল সবুজ। গত ৪ বছর আগে ভিকটিম আলতা গাউছিয়ার নর ম্যানশনের নিচ তলায় একটি দোকান ভাড়া নিয়ে মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজ নাম দিয়ে আরেকটি সাইকেলের ব্যবসা শুরু করে। সেই দোকানে আসামী সবুজকে ম্যানেজার হিসাবে নিয়োগ দেন। তারপর ভিকটিম গত আড়াই বছর আগে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বড় করার জন্য মার্কেটের নিচ তলায় ১৩ ও ১৪ নং দোকান ভাড়া নেয়। সেই দোকানে সবুজ আড়াই লাখ টাকা দিয়ে লাভ্যাংশের ৪০ শতাংশের পার্টনার হয়। ২ বছর আগে ব্যবসার উন্নতি হতে থাকলে সবুজ তার খালু ভিকটিম হেকমত আলীকে ব্যবসায়িক পার্টনার হওয়ার প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাব ভিকটিম রাজি হলে সবুজ ব্রাক ব্যাংক ভূলতা গাউছিয়া শাখা থেকে ৫ লাখ টাকা উত্তোলণ করে হেকমত আলীকে দেয় এবং সমানভাবে পার্টনার হয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে থাকে। কিন্তু আগের ন্যায় ভিকটিম ব্যবসায়িক লাভ্যাংশের টাকা ৬০ শতাংশ টাকা নিতেন এবং হত্যাকারী সবুজকে ৪০ শতাংশ টাকা দিতেন। এতে সবুজ ও ভিকটিমের মধ্যে বিরোধ ও দ্বন্দের সৃষ্টি হয়। এছাড়া আসামী সবুজের জন্য বাবা মায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে ভিকটিম নিজের ৯ বছরের মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আসামী সবুজ নাবালিকা কন্যাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করলে ঘটনার কয়েকদিন আগে ভিকটিম হেকতম আসামীর সবুজের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ব্যবসার হিসাব নিকাশ বুঝিয়ে দিতে আসামীর উপর চাপ প্রয়োগ করে।

গত ৪ এপ্রিল সকাল ৮ টার দিকে আসামী সবুজ ভিকটিম হেকমত আলীকে ফোন করে তার বাড়িতে আসতে বলে। ভিকটিম সকাল ৯ টার দিকে বাড়ীতে আসে। ভিকটিম খাওয়া দাওয়া শেষে আসামীর ঘরে বিশ্রাম করতে করতে ঘুমিয়ে পরে। তখন আসামী সবুজ পূর্বের ক্ষোভ থেকে ঘরে থাকা একটি পুরাতন লাল গামছা রশির মতো পেঁচিয়ে ভিকটিমের মাথার পিছনের দিক দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে আসামী তার ঘরে থাকা একটি খালি স্টীলের বড় ড্রাম (গ্রিজের ড্রাম) এর মধ্যে হেকমতের হাত পা বাঁধা লাশ রেখে দেয় । আসামীর বাড়ীর বাথরুমের কাজ করার জন্য পূর্বের আনা আকিজের ৩ বস্তা সিমেন্ট কাঁটার দিয়ে কেটে পুরাতন ভাত খাওয়ার মেলামাইনের প্লেট দিয়ে সিমেন্ট উঠিয়ে ড্রামটি পুরণ করে ষ্টোর রুমের মধ্যেই রেখে দেয়।

৫ এপ্রিল সকাল ৬ টার দিকে আসামী সবুজ ভিকটিমের লাশ নসিমনে তুলে ভুলতা গাউছিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে। রূপগঞ্জ ফুশাব সাকিন এলাকায় পারটেক্স গ্রুপের মালিক এমএ হাশেম সাহেবের দিঘীর (মাছের ঘের) কাছে এসে নসিমন থামিয়ে ড্রামটি নিচে নামায় এবং সুযোগ বুঝে ড্রামটি পুকুরের মধ্যে ফেলে দেয়।

এলএন/এসএ/০৭০৬-০৩

0