রমজানের শেষ দশক: যেভাবে পেতে পারেন লাইলাতুল কদর

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ১৯ রমজান, মাগফিরাতের দশ দিন শেষের পথে। এরপর রমজানের শেষ দশক যার কোন এক বেজোড় রাতেই রয়েছে লাইলাতুল কদর; যে রাতে নাযিল হয়েছে পবিত্র আল-কুরআন। আল্লাহ তা‘লা বলেছেন:
إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ. وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ. لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ
‘নিশ্চয় আমি এটি (কুরআন) নাযিল করেছি ‘লাইলাতুল কদরে।’ তোমাকে কিসে জানাবে ‘লাইলাতুল কদর’ কী? ‘লাইলাতুল কদর’ হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। (সূরা কদর : ১-৩)

মুমিনদের জন্য এ রাত অতি গুরুত্বপূর্ণ। এ রাতে ইবাদাত-বন্দেগিতে সময় দিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। মুমিন দু হাত তুলে যা চাইবে তাই পেতে পারবে। তাইতো আল্লাহ তা‘লা বলেছেন:
إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ. فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ
‘নিশ্চয় আমি এটি নাযিল করেছি বরকতময় রাতে; নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। সে রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়, (সূরা আদ-দুখান : ২-৩)

ঠিক কোন রাতে আল-কুরআন নাযিল হয়েছে তা আল্লাহতা‘লা বান্দাদের নির্দিষ্ট করে দেন নি। কেননা এ রাতের সন্ধানে মুমনিরা ইবাদাতে মশগুল হতে পারবে। হাদিসে আছে:
একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) শবে কদরের তারিখ জানানোর উদ্দেশ্যে হুজরা থেকে বের হলেন। বের হয়ে দেখেন দুই ব্যক্তি ঝগড়া করছেন, এতে তিনি মনক্ষুন্ন হলেন এবং তাঁর স্মৃতি থেকে লাইলাতুল কদরের সুনির্দিষ্ট তারিখটি উধাও হয়ে গেল। তিনি আর তারিখটি বলতে পারেননি। নিশ্চয় তাতেও মঙ্গল নিহিত রয়েছে। তারিখ নির্দিষ্ট হয়ে গেলে মানুষ হয়তো নির্দিষ্ট এক রাতেই ইবাদত করত। অতঃপর রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতসমূহে শবে কদর খোঁজ কর। (বুখারি ও মুসলিম)।

যেভাবে লাইলাতুল কদর পেতে পারেন:
এতেকাফ করার মাধ্যমে মুমিনরা লাইলাতুল কদরের রাত পেতে পারে। সংজ্ঞার দিক দিয়ে, আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট সময় মসজিদে অবস্থান করাকে এতেকাফ বলে। অন্যভাবে, দুনিয়াবি কাজ-কারবার স্থির রেখে, সাংসারিক দায়িত্ব কারও কাছে শপে দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে মসজিদে অবস্থান করাকে এতেকাফ বলে। এতেকাফ তিন প্রকার। যথা:
ওয়াজিব এতেকাফ : কোন কাজের ওপর এতেকাফ মান্নত করলে সেই এতেকাফ ওয়াজিব হয়। যেমন কেউ যদি বলে যে, আমার সেই কাজটি হয়ে গেলে আমি এতোদিন এতেকাফ করবো।
সুন্নত এতেকাফ : রমজানের শেষ দশদিনের এতেকাফকে সুন্নত বলা হয়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দিনগুলো এতেকাফ করতেন।

নফল এতেকাফ : এই এতেকাফের জন্য কোন দিন বা সময় নির্দিষ্ট নেই। যতক্ষণ বা যতদিন ইচ্ছা করা যাবে। এমনকি কেউ সারাজীবনের এতেকাফের নিয়ত করলেও তা জায়েজ হবে।

নবী করীম (সা.) বলেন, এতেকাফকারী সমস্ত গুনাহ হতে মুক্ত থাকে এবং তার জন্য ঐ পরিমাণ নেকি লিখা হয় যে পরিমাণ আমলকারীর জন্য লিখা হয়। (মিশকাত ও ইবনে মাযাহ শরীফ)

এই হাদিসে এতেকাফের দুটি বিশেষ উপকারিতা পাওয়া যায়। প্রথমত, এতেকাফের কারণে গোনাহ থেকে হেফাজত হয়। দ্বিতীয়ত, এতেকাফে বসার কারণে কিছু কিছু আমল বা এবাদত করা সম্ভব হয় না। অথচ এতেকাফের ওসীলায় ঐ সমস্ত ইবাদত না করেও সে সওয়াবের অধিকারী হওয়া যায়।
মাসআলা : পুরুষের জন্য এতেকাফের সর্বোত্তম স্থান হলো মক্কার মসজিদে হারাম। তারপর মসজিদে নববী। তারপর বাইতুল মুকাদ্দাস। এরপর জামে মসজিদ এবং তারপর স্থানীয় মহল্লার মসজিদ।

এতেকাফ সহীহ হবার জন্য মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জামাত হওয়া শর্ত।

মহিলারা নিজের ঘরে নামাজের জন্য নির্ধারিত স্থানে এতেকাফ করবেন। যদি ঘরে নামাজের জন্য কোন নির্ধারিত স্থান না থাকে তাহলে এতেকাফের জন্য কোন একটি স্থান নির্দিষ্ট করে নিতে হবে।

এতেকাফের মাধ্যমে শবে কদর খোঁজ করা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মূল উদ্দেশ্য ছিল, হযরত আবু সায়ীদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এর প্রমাণ বহন করে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন :
‘আমি কদরের রাত্রির সন্ধানে প্রথম দশকে এতেকাফ করলাম। এরপর এতেকাফ করলাম মধ্যবর্তী দশকে। অত:পর ওহি প্রেরণ করে আমাকে জানানো হল যে তা শেষ দশকে। সুতরাং যে এতেকাফ পছন্দ করবে, সে যেন এতেকাফ করে। ফলে, মানুষ তাঁর সাথে এতেকাফ যাপন করল।’ [মুসলিম, হা. ১১৬৭]

ওলামায়কেরামদের মতে, যারা সুন্নত এতেকাফের নিয়ত করবে- তাদের ২০ রমজানের আসর এর মধ্যে মসজিদে এতেকাফের নিয়তে অবস্থান করবে, অর্থাৎ, ২১ রমজানের আগেই মসজিদে অবস্থান করতে হবে।

0