রাসেল পার্ক বন্ধের জন্য চিহ্নিত গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে: রফিউর রাব্বি

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: শনিবার (২ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রেসক্লাবের সামনে ’শেখ রাসেল পার্ক বাস্তবায়ন ও হাজীগঞ্জ কেল্লা উন্মুক্তকরণে বাধা মানবো না’ এমন দাবিতে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেছেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ১৮৮১ সালে নারায়ণগঞ্জ থেকে কয়েকশ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল। রেলওয়ের অধিগ্রহণকৃত জমির শতকরা ২০ ভাগ ব্যবহার করেছে। বাকি ৮০ভাগ অব্যবহৃত জমি তারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের কাছে বিক্রি করেছে। অধিগ্রহণ জমির ক্ষেত্রে আইনে বলা আছে, অধিকৃত জমির অব্যবহৃত অংশ যার থেকে নেওয়া হয়েছে তার কাছে বা তাকে যদি না পাওয়া যায় তাহলে সেখানকার কার্যকর প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করবে। ১৮৮১ সালে যে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে সেই জায়গা তৎকালীন সময়ের পৌরসভার বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের। রেলওয়ের যে জায়গাগুলো কাজে লাগিয়েছে তার বাইরের জায়গাগুলো রেলের জায়গা না।

তিনি আরও বলেন, রাসেল পার্ক বন্ধের জন্য একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। এই গোষ্ঠী দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় টাকা দিয়ে ডাবল লাইনের এই কার্যক্রমকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থকে চরিতার্থ করার দুরসভিন্ধ করার চেষ্টা করছে।

রফিউর রাব্বি বলেন, ২০০৫ সালে জিমখানার জায়গা বিক্রির জন্য তারা টেন্ডার ঘোষণা করেছিল। সেই সময় পৌরসভা এটিকে রিট করে বাতিল করেছে। পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে বিক্রির জন্য পায়তারা করেছে এই চিহ্নিত গোষ্ঠীকে দিয়ে। সিটি কর্পোরেশনের একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের একটি নির্দেশনা রয়েছে জীমখানাতে ২০১০ সালের যে ডিটেইল এরিয়া ব্র্যান্ড সে অনুযায়ী এখানে একটি পার্ক নির্মাণ করতে হবে এবং তা সংরক্ষণ করতে হবে। সেই অনুযায়ী ২০০৩ সাল থেকে পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন পার্ক নির্মাণের জন্য কমপক্ষে ৫০ বার চিঠি দিয়েছে। আমরা জায়গার অভাবে নারায়ণগঞ্জের জন্য কিছু করতে পারছি না। অন্যদিকে তারা এই জমিগুলো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গা ভ’মি দস্যুদের সাথে আতাত করে বিক্রি করে দিচ্ছে। রেলমন্ত্রনালয়ের পিওন থেকে শুরু করে জিএম পর্যন্ত বিভিন্ন সময় তারা নারায়ণগঞ্জের জমি তারা বিক্রি করেছে। জীমখানার আড়াই একর জমিও তারা বিক্রি করেছে। রেলমন্ত্রীকে বলতে চাই আপনি আপনার এই অসৎ, চোর কর্মকর্তাদের কথায় নারায়ণগঞ্জের বিরুদ্ধে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন না। দুর্নীতিগ্রস্ত এই চক্র নাকি বলে রাসেল পার্কও নাকি উচ্ছেদ করা হবে। আমরা দেখতে চাই কার জায়গা আপনি উচ্ছেদ করেন। কার জায়গায় হাত দেন দেখতে চাই। সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী এইখানে পার্ক স্থাপিত হয়েছে। পার্কটি ভালভাবে স্থাপিত হবে। আমরা কোন অপ্রীতিকর অবস্থা আমরা চাই না।

তিনি আরও বলেন, শান্তি কমিটির লোকের সন্তান তারা যেখানে নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নষ্ট করবে, এইটা ৭১ সাল না। জনগণের থেকে বড় শক্তি নাই। নারায়ণগঞ্জে রাজউকের জায়গা, রেলওয়ের জায়গা, বিআইডব্লিউটিএর জায়গা কাগে বগে খাবে তা আমরা কখনই চাই না। জীবন দিয়ে হলেও আমরা আমাদের জমি রক্ষা করবো। আমরা রেলমন্ত্রীর কাছে দাবি করছি আপনি আপনার এই অসৎ, অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শঙ্কর রায়, সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজল, সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল, নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্তী, বাসদের জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস, জেলা গণসংহতির সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদ, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরীফুদ্দিন সবুজ, জেলা গণসংহতির নির্বাহী সমন্বয়ক অঞ্জন দাস, জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি শুভ সাহা প্রমুখ।

0