রূপগঞ্জে অগ্নিকান্ড: যে ২৪ জনের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জের হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানায় আগুনে নিহত ৪৮ জনের মধ্যে ২৪ জনের লাশ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গ থেকে বুধবার (৪ আগস্ট) দুপুরে মরদেহগুলো পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

এ সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরদেহ দাফনের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে দেয়া হয়। নাম ঠিকানা মিলিয়ে স্বাক্ষর করে টাকা গ্রহণের পর স্বজনদের কাছে মরদেহগুলো বুঝিয়ে দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেয়া হয়।

যে ২৪ জনের লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে তারা হলেন- মো. আয়াত হোসেন, মো. নাঈম ইসলাম, নুসরাত জাহান টুকটুকি, হিমা আক্তার, মোসা. সাগরিকা শায়লা, খাদেজা আক্তার, মোহাম্মদ আলী, তাকিয়া আক্তার, মোসা. শাহানা আক্তার, মোসা. মিতু আক্তার, জাহানারা, মোসা.ফারজানা, মোসা. ফাতেমা আক্তার, মোসা. নাজমা খাতুন, ইসরাত জাহান তুলি, মোসা. নাজমা বেগম, রাশেদ, মো. রাকিব হোসেন, ফিরোজা, মো. তারেক জিয়া, মো. রিপন মিয়া, মোসা. শাহানা আক্তার, মো. মুন্না ও রিয়া আক্তার।

মেয়ের মরদেহ নিতে আসা নেত্রকোনার মোহাম্মদ আলী বলেন, ২৫ দিন অপেক্ষায় ছিলাম। গতকাল মঙ্গবার ফোন পেয়ে ভোরে চলে আসি। মেয়েকে দেখে চিনতে পারিনি। অন্তত তার শরীরটা মাটিচাপা দিয়ে শান্তি পাবো। দুপুর থেকেই ঢামেক জুড়ে স্বজনদের আহাজারি। মায়ের জন্য মর্গে আসা জাকিরের কান্না যেন কোনোভাবেই থামছে না।

জাকিরের মা জাহানারা বেগম ওই কারখানার চতুর্থ তলায় কাজ করতেন। মাকে নিতে না পারলেও এবার মায়ের মরদেহ কিশোরগঞ্জের মাতুয়াপাড়ায় নিয়ে যাবেন তিনি। মায়ের কফিনের সামনে আহাজারি করে জাকির বলেন, ‘আমার মা তো চলে গেল। আর তো পাবো না। আমার মায়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন। এই আমার আপনাদের কাছে চাওয়া।

১৬ বছরের মুন্নার মরদেহ নিতে এসেছে বাবা গিয়াস উদ্দিন। নিজেকে সামলাতে পারবেন না বলে তার সঙ্গে এসেছেন মুন্নার ফুপা কুতুবউদ্দিন, ফুপু রোকসানা। এছাড়াও কারখানার কর্মচারী শাহীনুরের মরদেহ বুঝে নিয়েছে ১৪ বছরের তানিয়া, মোহাম্মদ আলীর মরদেহ নিয়েছে তার বাবা শাহদাত খান।

১২ বছরের হাসনাঈনের নিথর মরদেহ নিতে এসেছেন তার মা নাজমা।

উল্লেখ্য, ৮ জুলাই সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ফুডস ফ্যাক্টরিতে (সেজান জুসের কারখানা) আগুন লাগে। এ ঘটনায় ৫২ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে কারখানার মালিক আবুল হাসেম, তার চার ছেলেসহ আটজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করে। পুলিশ তাদের চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

0