রূপগঞ্জে আগুনে পুড়ে ৪ জনের মৃত্যুতে দুই তদন্ত কমিটি

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: রূপগঞ্জে বিদ্যুৎতের তার ছিঁড়ে ঘরে আগুন লেগে নিহত চারজনের ময়নাতদন্ত নারায়ণগঞ্জে জেনারেল হাসপতাল মর্গে সম্পন্ন হয়েছে। মৃতরা সবাই একই পরিবারের। এর মধ্যে শারীরিক প্রতিবন্ধী দুই শিশু-কিশোরও রয়েছে।

শুক্রবার ( ২২ জানুয়ারী ) রাত নয়টায় রূপগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুমারটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও পল্লী বিদ্যুত পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। নিহতদের পরিবারকে দাফন-কাফনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে।

মৃতরা হচ্ছেন- কুমারটেক এলাকার বাসিন্দা ইজিবাইক চালক মো. মাসুম (৪০), তাঁর স্ত্রী সীমা আক্তার (২৮), ছেলে আব্দুল্লাহ রাসেল (১৭) ও রহমত উল্লাহ (১০)। মাসুমের তিন সন্তানের মধ্যে দুইজন-ই এ ঘটনায় মারা গেছে। শিলা (১৯) নামের তার এক মেয়ে শুধু বেঁচে আছে।

ঘটনা তদন্তে পল্লী বিদ্যুত সমিতির পরিচালক খালেদা পারভীনকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হচ্ছেন- পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালক রফিকুল ইসলাম ও আব্দুল লতিফ।

শনিবার সকাল এগারোটায় তারা ঘটনাস্থলে এসে ঘটনা সম্পর্কে তদন্ত শুরু করেছেন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত শেষ করে তারা রিপোর্ট দেবেন বলে জানান।

এছাড়া ফায়ার ব্রিগেডের ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক দেবাশীষ বর্ধনকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির অন্যান্যরা হচ্ছেন- ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারি পরিচালক নিয়াজ আহমেদ, ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর আরিফ হোসেন ও ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর নুরুল ইসলাম।

ঘটনা সম্পর্কে পূর্বাচল উপশহর মাল্টিপারপাস ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা উদ্দীপন ভক্ত জানান, নিহত মাসুমের বাড়ির ওপর দিয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের দুটি লাইন গেছে। শুক্রবার রাত নয়টায় বিদ্যুতের একটি লাইন ছিঁড়ে অপরটির ওপর পড়ে। ফলে আগুন ধরে যায়। আগুন মাসুমের টিনের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ঘরের মধ্যে থাকা চারজনই মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মাসুম, রাসেল ও রহমতউল্লাহর পোড়া লাশ উদ্ধার করেন। সীমাকেও দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি মারা যান। রাসেল ও রহমত উল্লাহ শারিরিক প্রতিবন্ধী বলে জানান উদ্দীপন ভক্ত।

এ ব্যাপারে অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহসিনুল কাদির। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চারটি নারায়ণগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ। বিদ্যুৎ কোম্পানির অবহেলায় ঘটনাটি ঘটেছে কিনা -এম প্রশ্নের উত্তরে ওসি বলেন, ‌এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তদন্তে কারও কোনো অবহেলা উঠে এলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আর এম ও আসাদুজ্জামান শনিবার দুপুর সোয়া দুইটায় জানান, নিহতদের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আগুন লেগে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানান। এ রিপোর্ট লেখার সময় লাশ নিহতদের আত্মীয়দের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছিলো।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, ঘটনায় নিহত পরিবারকে দাফন কাফনের জন্য ২৫ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।

0