রূপগঞ্জে গ্যাস লিকেজে বিস্ফোরণ, নিহত ২ আহত ৭

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: রূপগঞ্জ গ্যাসের লাইন লিকেজ হয়ে জমে থাকা গ্যাসে অগ্নি বিস্ফোরণে ঘটনা ঘটেছে। এতে মারাত্বক ভাবে দ্বগ্ধ ৬জনের ২জন মারা গেছেন ও ৪ দগ্ধদের ঢাকা মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে দুইজনের মধ্যে অবস্থা আশংকাজনক। অপর আহত তিনজনের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।

সোমবার ভোর রাতে রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের সাঁওঘাট এলাকায় ওয়াসিম মিয়ার তিনতলা বাড়ির নীচতলার একটি ফ্ল্যাটে এ অগ্নিকান্ড ঘটে।

তিতাস গ্যাসের হাই-প্রেসার পাইপ লাইন থেকে নেয়া অবৈধ গ্যাস সংযোগের কারণেই এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহত দু’জন হলেন- মেহেরপুর জেলার মজিবনগর থানার কোমরপুর এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে শামীম (৩০) ও ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানার কয়া এলাকার রহিম বিশ্বাসের ছেলে হেলাল বিশ্বাস ওরফে রাকিব (২৫)। তারা স্থানীয় নেক্সট এক্সোসরিজ লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক ছিলেন।

আহতরা হলেন- নেক্সট এক্সোসরিস লিমিটেড পোশাক কারখানার শ্রমিক তরিকুল ইসলাম, লিয়াকত আলী, হযরত আলী, আরিফ, আনোয়ার হোসেন, ফারুক মিয়া, আরিফুর রহমান। এদের মধ্যে লিয়াকত ও আরিফের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

বার্ণ ইউনিটের গেইটে কর্তব্যরত ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল মো: রায়হান জানান, দগ্ধ ছয়জনের মধ্যে রাকিব (২৭) ও শামীম (২৮) নামের দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তরিকুল (৩০) ও হযরত আলী (৩২) নামের দুইজনের অবস্থা গুরুতর। তাদেরকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া লিয়াকত (৪০) ও আরিফুল (৪২) নামের দুইজনকে বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে উপজেলার সাওঘাট এলাকায় রাবেয়া আক্তার মিলি নামে এক আইনজীবীর দোতলা বাড়ি রয়েছে। মহাসড়কের পাশ দিয়ে স্থাপিত তিতাস গ্যাসের হাই-প্রেসারের পাইপ লাইন থেকে অবৈধভাগে ওই বাড়িতে গ্যাসের সংযোগ নেন মিলি। হাই-প্রেসারের পাইপ লাইন থেকে আবাসিক গ্যাস সংযোগ নেয়াটা পুরোটাই ঝুঁকিপুর্ণ।

ওই ভবনটি স্থানীয় নেক্সট এক্সোসরিস লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের কাছে ভাড়া দেয়া হয়। শবে বরাতের কারণে সব মিল-কারখানা বন্ধ থাকায় গ্যাসের প্রেসার ছিল অধিক। ভোর সোয়া ৩টার দিকে হঠাৎ করে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ভবনটির পুরো দেয়াল ভেঙে প্রায় ৫০ থেকে ৩০০ ফুট দূরে গিয়ে পড়ে। এসময় পুরো এলাকা কেঁপে উঠে।

পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ছয়জনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে এবং তিনজনকে স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এদের মধ্যে শামীম ও রাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।

এ ব্যাপারে বাড়ির মালিক মিলি বলেন, অন্যরা যেভাবে অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়েছেন, আমিও সেভাবেই নিয়েছি। তবে আমার বাড়িতে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

তিতাস গ্যাসের সোনারগাঁও জোনের সুপার ভাইজার ইসমাইল হোসেন বলেন, এর আগেও এ ধরনের আরও বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এক হলো হাই-প্রেসার লাইন থেকে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নেয়া। আবার শবে বরাত উপলক্ষে সব মিল-কারখানা বন্ধ ছিল। সব মিলিয়ে গ্যাসের প্রেসার ছিল অধিক। হয়তো ভবনের ভেতরে গ্যাস ছড়িয়ে ছিল। আগুনের সংস্পর্শে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। খবর পেয়ে ভুলতা ফাঁড়ি পুলিশ ও কাঞ্চন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

অপর দিকে, রূপগঞ্জের কাঞ্চণ ফায়ার সার্ভিস এর স্টেশন ইনচার্জ আবদুল মান্নান জানান, রবিবার রাতে ওই মেস বাসার রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে গ্যাস ছড়িয়ে থাকে। ভোর রাতে মেস বাসার কেউ একজন রান্নাঘরে চূলা জ্বালাতে গেলে আগুন ছড়িয়ে পড়লে তিনি দগ্ধ হন। এক পর্যায়ে পুরো ফ্ল্যাটে আগুন ছড়িয়ে পরে। এসময় ফ্ল্যাটের অন্যান্য বাসিন্দারাও দগ্ধ হন। পরে তাদের ডাকচিৎকারে স্থানীয়রা এসে আগুন নেভায় এবং দগ্ধ ছয়জনকে গুরুতর আবস্থায় ঢাকা মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটে নিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে কাঞ্চণ ফায়ার স্টেশনের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

তিনি আরো জানান, গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আরো তিনজন আহত হয়েছে। তাদেরকে ভুলতা এলাকায় বেসরকারি হাসপাতাল আল রাফি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) রফিকুল হক বাংলানিউজকে বলেন, দু’জন মারা গেছেন। ঢামেকেই তাদের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

0