রূপগঞ্জে ফিল্মি কায়দায় সন্ত্রাসী হামলা, আহত ২

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: রূপগঞ্জে হিন্দি ছবির মতো ফিল্মি কায়দায় অটোরিক্সায় চড়ে মোটর সাইকেল অনুসরণ করে ২০-২৫জন সন্ত্রাসী। এরপর বাইক থামতেই ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রায় আধা ঘন্টা লাঠিপেটা করে তাদের। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে রাস্তা বন্ধ করে রাখে তারা, এগিয়ে আসতে সাহস পায়নি প্রত্যক্ষদর্শীরা। এক পর্যায়ে প্রচন্ড মারধরে দুই যুবক অজ্ঞান হয়ে গেলে তাদের মৃত ভেবে ফেলে চলে যায় সন্ত্রাসীরা।


গুরুতর আহতরা হলেন কাঞ্চন পৌর যুবলীগ নেতা আব্দুর রহমান (৩০) ও তার বন্ধু সাদেক মিয়া(৩১)। আর মারধর করা অস্ত্রধারীরা সকলেই কাঞ্চন পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসূল কলির লোকজন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সোমবার (৮ মার্চ) দুপুর ১২ টায়  রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন মন্ডলবাড়ির চাঁন টেক্সটাইল এলাকায় ঘটে এই ঘটনা। পাশের এক সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে ভয়াবয় সেই দৃশ্য। ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে পৌছে গেছে এসপি জায়েদুল আলমের কাছেও।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম জানান, সিটি টিভি ফুটেজ হস্তগত হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে। অপরাধী যারাই হোক তাদের ছাড় দেয়া হবে না। রূপগঞ্জ ও সি সার্কেল এসপিকে এ বিষয়ে দায়িত্ত দেয়া হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, সবার হাতে ছিল রামদা, লোহার রট, লোহার পাইপ, হকি স্টিক সহ নানা দেশীয় অস্ত্র। ওই সময় তাদের চিৎকারে আশপাশের কেউ সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অস্ত্রের ভয়ে এগিয়ে আসতে সাহস পায়নি। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দুজনকে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

রূপগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জ্ঞান ফেরার পর কান্নাজাড়িত কণ্ঠে আহত যুবলীগ নেতা আবদুর রহমান জানান, সোমবার বেলা ১১ টার দিকে মোটর সাইকেল যোগে কাঞ্চন মন্ডল বাড়ির পাশে বন্ধু সাদেককে আনতে যাই। মোটর সাইকেলের পেছনে আগ থেকেই  দুটো অটো রিক্সা আমাকে অনুসরণ করতে থাকে।  প্রথমে বুঝতে পারিনি এরা কারা।  এক পর্যায়ে আমি কাঞ্চন মন্ডল বাড়ির পাশে বন্ধু সাদেকের জন্য মোটর সাইকেলটি থামাই। এরই মধ্যে আমাকে অনুসরণ করা  দুটো অটো রিক্সা থেকে নেমে আসে ১৫-২০ জন যুবক। তাদের সবার হাতে ছিল দেশীয় অস্ত্র রামদা, হকি স্টিক ও লাঠিসোটা। ওই সময় তারা আমাকে ও সাদেককে এলোপাতারি পেটাতে থাকে। আমি ও সাদেক চিৎকার করলে আশেপাশের মানুষ এগিয়ে আসতে চাইলেও তারা দুপাশের  রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে মানুষকে শাসিয়ে দেয়। পরে মারধরে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।

আহত আব্দুর রহমান আরো জানান, আমাকে মারার আগে আরেক যুবলগী নেতা শুভকেও তারা মারধর করেছে। অস্ত্রধারীরা সকলেই কাঞ্চন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  গোলাম রসুল কলির বাহিনী। এদের অনেকেকেই আমি চিনতে পেরেছি। এ্রা মারধর শেষে আমার হোন্ডা ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। যারা আমাকে ও সাদেককে মারধর করেছে। তারা হলো- রবিউল, মতিউর, মঞ্জুর, নবিউল হোসেন শান্ত, সেকান্দর, ছাইফুল্লাহ, ইসলামউদ্দিন,দেওয়ান নবিউর,মোমেন,রাসেল, আলমগীর, বাবু, ইউসুফ, রুবেল, টুটুল, শাকিল, নীরজন কোলু,আমিন, মামুন। আর বাকিদের নাম বলতে পারছি না।

স্থানীয় চায়ের দোকানী লাকু মিয়া জানান, দুজনকে প্রচন্ড পেটাতে দেখেছি। এরা কারা জানি না।  দুজনের একজন জ্ঞান হারিয়ে ফেললে অস্ত্রধারীরা চলে যায়। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে রূপগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় স্থানীয় বেশ কয়েক জন যুবক।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসি মহসীন কাদের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সোমবার বিকাল সাড়ে ৫ টায় জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে পুরো বিষয়টি সিসি টিভি ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নিচ্ছি। রূপগঞ্জ পুলিশ এখন স্পটে  অভিযান পরিচালনা করছে। রাত ১২টার মধ্যে আমরা একটি রেজাল্ট দেয়ার চেষ্টা করব।

0